দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই প্যাট্রিসিয়া আগাথা বিউটেনিসের বদলীর খবর প্রচারিত হয়। যতদূর মনে আছে তাকে প্রমোশন দিয়ে ইরাকে বদলী করা হয়েছিল। তখন একটা সময় বলা হয়েছিল যে ওমুক মাস থেকে উনি বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। বেশ রাষ্ট্রদূতের বিদায় হবে নতুন রাষ্ট্রদূত আসবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। হ্যারি কে টমাসের পর যেভাবে প্যাট্রিসিয়া এসেছিলেন সেভাবেই হয়তো আরেকজন আসবেন।
কিন্তু এনার বিদায় অভিযান নিয়েই যত বিপত্তি। গত এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে শুনছি, প্যাট্রিসিয়া বিদায় নিচ্ছেন। আজই তার শেষ প্রেস কনফারেন্স, শেষ সাক্ষাৎকার। আজই তিনি শেষ ব্যক্তিটির সাথে দেখা করলেন। ভাবসাব দেখে মনে হয়, ইনিই বোধহয় বাংলাদেশের শেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত। কী যেন একটা শেষ করার জন্য তীব্র আকুতি তার।
নৈশভোজ খেয়ে এবং খাইয়ে তিনি খুব একটা রহস্য তৈরি করেছিলেন বটে। আর সে রহস্য রহস্য থাকেনি নৈশভোজের মূল গেস্ট ও হোস্টরা কারাগারে আতিথ্য লাভ করার পর। এখন তিনি কী চাইতেছেন?
একদনি অমুকের সাথে দেখা করে বলেন দুই নেত্রীকে রাখা যাবে না।
আরেকবার তমুকের সাথে দেখা করে বলেন, সংস্কার চাপিয়ে দেয়ার জিনিশ নয়।
একবার বলেন, রাজনীতি ওপেন করো। গণতন্ত্র চালু করো।
আরেকবার বলেন, সরকারের প্রতি সমর্থন দিতে হবে।
দুপুরে বলেন, এক কথা। রাতে বলেন এক কথা।
অবস্থা দেখছি বারোভাজা।
আর বাংলাদেশের অবস্থাও বোধকরি মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল। আজ মনে হচ্ছে মান্নান ভূঁইয়া জিতলেন। তো কাল মনে হবে খালেদা জিয়া জিতলেন। কে যে জিতছে আর কে যে জেতাচ্ছে সে এক জটিল হিসাব।
একদিন এক টক শোতে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, আজকে হয়তো ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিনিধি দল বললো, মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কাল আবার আরেক দল বললো, দ্রুত নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। পরশু আরেক দল বললো, সরকারকে সময় দিতে হবে। আফিস নজরুল বলেছিলেন, এরা সব কথাই বলে রাখতে চায়। খানিকটা যেন রিস্ক ফ্রি
থাকতে চায়।
অবস্থা এমন যে, হয় বিদেশীদের কোনো মেসেজ নেই আমাদের প্রতি অথবা এরা পাগল হয়ে গেছে। অথবা, যা বলা দরকার তা তারা বলতে চায় না।
সরকারের নিশ্চয়ই একটা অবস্থান আছে এই মন্তব্যগুলোর ব্যাপারে। কিন্তু মিডিয়াগুলোর কোনো অবস্থান নেই। কেউ প্রশ্ন করে না, এই যে কথাটা আপনি বললেন এইটার মানে কী? এইটার সাথে তো ওইটা মিললো না। আর বাছা আপনিই বা এ বিষয়ে বলছেন কেন? আপনি কেঠা?
গত কয়েকদিনে বিউটেনিসের খবর দেখে শুনে মনে হলো, ফাইজলাইমিরও একটা সীমা থাকা দরকার। আর একজন রাষ্ট্রদূত কতদিন ধরে বিদায় নিতে পারবেন। কয়টা অনুষ্টানে যোগ দিলে তার বিদায় শেষ হবে সেটা নিয়ে একটা ইন্টারন্যাশনাল (!) আইন করা দরকার।
আমাদের সংস্কৃতিকে দূতাবাসের কালচারাল সেন্টারের বাইরে বের করতে হবে। আমাদের রাজনীতিকে নৈশভোজের বাইরে বের করতে হবে। আর আমাদের মিডিয়াকে দিতে হবে একটু শরম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



