somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহফুজ আলআমিন ( Auspicious Fate )
জীবন একটা কৌতূহলী যাত্রার নাম- স্রষ্টা, সৃষ্টি, উদ্দেশ্য এবং এই সব কিছুর সত্যতা কে ঘিরে... আর আমি সেই পথের একজন সাধারণ যাত্রী। নিজের জায়গা থেকে সব স্থান, কাল, পাত্রে আপন অস্তিত্বকে কল্পনা করতে ভালোবাসি আর সেই অনুযায়ী প্রত্যেকটা কাজ করে যাই...

"পৃথিবীতে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু নেই" এই কথাটির যৌক্তিকতা কোথায়?

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক তথাকথিত মুক্তমনারা প্রায়ই একটা কথা বলে থাকেন- "পৃথিবীতে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু নেই"। তাদের এই কথার যৌক্তিকতা নিয়েই আজকের এই পোস্ট!

কয়েকদিন আগের ঘটনা- একদিন বিকেলে ভার্সিটির লাইব্রেরিতে আমরা কয়েকজন বন্ধুরা মিলে কথা বলছিলাম, কথা প্রসঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল- জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্ম এইসকল বিষয় নিয়ে! আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের খাতিরে অনেক কিছু নিয়েই কথা হচ্ছিল- যেখানে একটা কথা উঠে আসে- “পৃথিবীতে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু নেই”! (আমার এক বন্ধুর মুখ থেকে, যে কিনা নিজেকে মুক্তমনা দাবি করে)

আচ্ছা এবার তাহলে এই কথাটির ব্যাখ্যায় চলে আসি- কথাটা থেকেই বোঝা যাচ্ছে দর্শনের সাথে অনেকটা সম্পর্কিত, এবং বিজ্ঞান দ্বারা প্রভাবিত। বলতে গেলে কারো নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি! এখন যদি এই উক্ত কথাটি আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করি তবে যেই ব্যাপারটা প্রথমেই চলে আসে তা হচ্ছে, কথাটা নিজেই স্ববিরোধী, সাংঘর্ষিক, নিজেই নিজেকে মিথ্যা প্রমাণ করে, অনেকটা প্যারাডক্স এর মত।
আচ্ছা এবার আসি ব্যাখ্যায়, যখন কেউ বলছে, “পৃথিবীতে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু নেই”- এই কথাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই বলে যারা বিজ্ঞানের ভিত্তিতে অবিনশ্বর কোন একজন সত্তা যে আছেন তার উপর বিশ্বাস করেন না! এখন কথা হলো- যিনি এই কথাটি বলছেন, তিনি বিজ্ঞানের কিছু থিউরির উপর বিশ্বাস করেই কথাটি বলছেন। তার মানে, তার কাছে ঐ থিউরিগুলো সত্য, তিনি ঐ সকল থিউরির উপর বিশ্বাস রাখেন বলেই “পৃথিবীতে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু নেই” এই কথাটি বলছেন। যেখানে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু নেই সেখানে কেনো তিনি কিছু থিউরিকে সত্য বিবেচনা করে তাকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যাবহার করছেন, তা সত্যি ই যুক্তিহীন! তাহলে কি দাঁড়ালো? তার কথাটি নিজের বিশ্বাসের সাথেই সাংঘর্ষিক ! যেখানে তিনি কোন কিছুকেই সত্য বলে বিশ্বাস করার কথা না, সেখানে কেনো তিনি কিছু থিউরির উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তাকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যাবহার করছেন তার বিশ্বাসের প্রমানের পরিপ্রেক্ষিতে?!

আচ্ছা, এবার আসি ফিলোসফিকাল ব্যাখ্যায়। ফিলোসফিতে একটা ধারণা অনেক প্রচলিত যে- আমার যে অস্তিত্ব আছে, তার প্রমাণ কি? এখন ঠিক সেই একই প্রশ্ন যদি “পৃথিবীতে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু নেই” বলা মানুষটিকে করা হয়? তাহলে তিনি কি বলবেন? সে যেহেতু কোন সত্য কে বিশ্বাস করে না, সেহেতু তার যে অস্তিত্ব আসলেই আছে, তার প্রমাণ কি? আর তিনি মানদণ্ড হিসেবে কোন প্রমাণিত সত্য কে গ্রহণ করবেন? তিনি যদি তার আপন অস্তিত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে অন্য কোন সত্য কে মানদণ্ড হিসেবে ব্যাবহার করেন, তবে তার কথাটি নিজের সাথেই স্ববিরোধী! যার কোন অস্তিত্ব ই প্রমাণ করা যাচ্ছে না, তার কথার ই বা অস্তিত্ব থাকে কি করে!!
এবার আসি প্যারাডক্স হিসেবে- যেখানে “পৃথিবীতে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু নেই” সেখানে এই উক্ত কথাটির ই বা সত্যতা থাকে কোথায়? হা হা! নিজেকেই নিজে মিথ্যা প্রমাণ করা!

দিন শেষে আপনি বলতেই পারেন, কথাটা সম্পূর্ণ আমার দৃষ্টিভঙ্গি! কিন্তু ভাই, যেই কথাটা নিজেই নিজের স্ববিরোধী, সাংঘর্ষিক এবং মিথ্যা প্রমাণ করে, সেখানে আপনার কথার কোন অস্তিত্ব ই গ্রহণ করার যোগ্য না!
শাশ্বত সত্য বলতে অবশ্যই পৃথিবীতে কিছু থাকতে হবে। আমাদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলেই আপনি শাশ্বত সত্যের পরিষ্কার আইডিয়া পেয়ে যাবেন, যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করেন। কেনোনা, ইসলাম কখনো প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের বিপক্ষে যায়নি আজ পর্যন্ত সেখানে বিজ্ঞানের ভক্ত হয়ে কি করে বলেন “পৃথিবীতে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু নেই”??? তাহলে বলতে হয়, আপনি নিজেই নিজেকে বিশ্বাস করেন না! আর যে নিজেকে বিশ্বাস করেনা, তার কথা বিশ্বাস করার যৌক্তিকতা কোথায়??

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৫১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×