আপনি কি বিখ্যাত হতে চান? না চাইলেও সমস্যা নেই :p তবে আজ মানুষের বিখ্যাত হতে চাওয়ার প্রবণতা,চেষ্টা, প্রকারভেদ, ফলাফল উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো, সম্পূর্ণ নিজস্ব গবেষণার ভিত্তিতে-
মানুষের খুব সাধারণ একটা বৈশিষ্ট্য হলো- নিজেকে বিখ্যাত প্রমাণ করা/ বিখ্যাত হবার চেষ্টা করা! জন্মের পূর্বেই যখন কোটি কোটি স্পার্ম এর সাথে লড়াই করে প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করতে হয়, ঠিক তখন থেকেই এই প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে আসার জন্য সে প্রস্তুত হয়ে পড়ে। পৃথিবীতে আসার পর থেকে সে শিখতে শুরু করে ঠিক কোন কোন ব্যাপারে সে অন্য সবার চেয়ে আলাদা এবং তার বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো কি কি! সময় গড়াতে থাকে, আর এরই সাথে পাল্লা দিয়ে প্রত্যেক টা মানুষ নিজেকে অন্যের চেয়ে সেরা প্রমাণের যুদ্ধে নেমে পড়ে। সে মুগ্ধ হয়ে সফল ব্যাক্তিদের জীবন সম্পর্কে যখন জানে, শুনে, বোঝার চেষ্টা করে, তখন থেকে তার পছন্দের ক্ষেত্র অনুযায়ী বিখ্যাত হবার এক অবচেতন স্বপ্ন মনে লালন করা শুরু করে।
এই বিখ্যাত হবার প্রচেষ্টায় কেউ কেউ অন্যের অনুকরণের মাধ্যমে সেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনের পথে এগুনোর চেষ্টা করে থাকে। আবার কেউ কেউ নিজের স্বউদ্ভাবিত পন্থায় বুঝে, শুনে চেষ্টা/পরিশ্রম/অধ্যবসায় এর মাধ্যমে সেই চূড়ায় পৌঁছানর চেষ্টায় অগ্রসর হয়। আবার অনেকেই খ্যাতির লোভনীয় তাড়নায় বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বন শুরু করে।
এই তিন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর মানুষেরা কখনো সফল অথবা কখনো বিফল হয়ে থাকে, কিন্তু সফল হলেও বেশিদূর এগুতে পারেনা, সেই সফলতা বেশিদিন ধরেও রাখতে পারেনা। কারণ তারা অনুকরণ আর অনুসরণ এর পার্থক্য করতে পারেনা। কোন বিখ্যাত ব্যাক্তির ভালো খারাপ সব কিছুই তাদের কাছে আদর্শ। মন্দ আর ভালোর মিশ্রণ থেকে ভালো বিষয়গুলো কে ফিল্টার করে তা গ্রহণ করার মত সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির বড়ই অভাব পরিলক্ষিত হয় তাদের মাঝে! উদাহরণ স্বরুপ ঐ সকল মানুষদের কথা বলা যায়, যাদের আমরা পরিচয় পাই বাংলার মাইকেল জ্যাক্সন, দ্বিতীয় হুমায়ুন আজাদ অথবা ২য় জরিনা/ মফিজ হিসেবে!! আপনার আশেপাশেই এমন অনেক অনুকরণপ্রিয় মানুষদের লক্ষ্য করে থাকবেন!
দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফল হয়ে থাকে যখন তারা নিজস্ব চেষ্টায় সম্পূর্ণ ভালোবাসার সহিত আপন কাজের জন্য লেগেই থাকে, সফলতা আসুক না আসুক চেষ্টা করেই যায়! তারা সবসময় কাজের প্রতি দায়িত্বশীল এবং নিবেদিত থাকে, যার ফলে আল্লাহ তাআলাও তাদের সহায় হন। তারা সফলতার জন্য যেমন উন্মুখ থাকেনা, তেমনি কাজের প্রতি ভালোবাসা তাদের হতাশ হতে দেয়না! খুব কম সঙ্খ্যক মানুষ ই এই শ্রেণীর অন্তর্গত। উদাহরণস্বরুপ ঐ সকল ব্যাক্তিরাই চলে আসেন যাদের আমরা ইউনিক পার্সন হিসেবেই চিনে থাকি, একজন স্টিভ জবস, একজন বিল গেটস অথবা একজন হানিফ সংকেত বা শাইখ সিরাজ।
এবার আসি তৃতীয় শ্রেণীর মানুষের কথায়। এরা সবসময় খ্যাতির জন্য মুখিয়ে থাকে। এবার তা যে কোন উপায়েই হোক না কেনো!! তারা খ্যাতির জন্য নিজের দেহ পণ্যের বাজারে বিক্রি থেকে শুরু করে অন্যের সম্মান বিনষ্ট করা পর্যন্ত কোন কিছুর সুযোগ ই হাত ছাড়া করেন না, খ্যাতির লোভে পড়ে! এই শ্রেণীর মানুষেরা খুব অহংকারি হয়ে থাকে, এবং নিজের সামান্যতম গুণ ও খুব অতিরঞ্জিত মাত্রায় জাহির করতে পছন্দ করে। হয় নিজের রুপের মাধ্যমে, অথবা প্রথম স্তরের অহংকারি জ্ঞানের মাধ্যমে, অথবা নিজের বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য কে পৃথিবীর একমাত্র সেরা বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টার মাধ্যমে। এই ধরণের মানুষদের যারা চিনতে ভুল করেন, তাদের চোখে তারা বিশেষ লোক হিসেবে সমাদর লাভ করলেও অধিকাংশ চিন্তাশীল মানুষ ই তাদের দেখতে পারেনা! এরা কখনো হঠাৎ করে খ্যাতি পেয়ে গেলেও পরবর্তীতে চরম অপমানের সহিত সেই খ্যাতি কুখ্যাতিতে পরিণত হয়। এদের আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এরা কখনো অন্যের ভালো সহ্য করতে পারেনা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৃথিবীতে এই শ্রেণীর মানুষের সংখ্যাই বেশি! এই শ্রেণীর বিশেষ কোন ব্যাক্তিদের উদাহরণ প্রয়োজন না হলেও প্রথম আলো জিবনানন্দ পুরস্কার প্রাপ্ত সায়েদ জামিল অথবা সকল তথাকথিত অভিনেতা/ অভিনেত্রিদের উদাহরণ টানা যায় যারা অর্থ/ খ্যাতির লোভে পর্দায় সকলের সামনে পোশাক বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেনা!
খ্যাতি, হ্যা আপনি এই স্বপ্ন মনে লালন করতেই পারেন, কিন্তু যদি সত্যি ই মানুষের মনে মৃত্যুর পরেও ঠাই করে নিতে চান, ইহকাল এবং পরকালেও সফল হতে চান, তবে আপনি দ্বিতীয় শ্রেণীর আদর্শ গ্রহণ করতে পারেন। সফলতার বা খ্যাতির কোন শর্টকাট নেই, যদি থাকেও তবে যত জলদি তা আপনার দ্বারে আসবে ঠিক তত জলদি ই আপনার পতন ঘটিয়ে চলেও যেতে পারে। তাই বিখ্যাত হবার চিন্তা বাদ দিয়ে ভালো কাজ করে যান, আপনি বিখ্যাত হতে বাধ্য, যদি আপনি অহংকার মুক্ত এবং নিবেদিতপ্রাণ থাকতে পারেন। আর এই ই হলো বিখ্যাত হবার আদর্শ মূলমন্ত্র।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



