somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহফুজ
আমি হচ্ছি কানা কলসির মতো। যতোই পানি ঢালা হোক পরিপূর্ণ হয় না। জীবনে যা যা চেয়েছি তার সবই পেয়েছি বললে ভুল হবে না কিন্তু কিছুই ধরে রাখতে পারিনি। পেয়ে হারানোর তীব্র যন্ত্রণা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করছে কারা?

১২ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



#প্রজন্মের #মুক্তিযোদ্ধা ও #রাজাকারদের প্রতি আমার লেখা পড়ার উদাত্ত আহবান। :) ব্যস্ততা থাকলে পরে এসে পড়ুন :)

বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি অনেক লেখালেখি করে ফেলেছি। না জানি কপালে কি আছে। তবে অন্যায় কিছু লিখিনি সে আত্মবিশ্বাস আছে। যাই হোক কিছু পরিসংখ্যান দেখে নতুন কিছু প্রশ্ন মাথায় এলো- প্রথম পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সংখ্যাটা ছিলো মাত্র ৫০ হাজার। পরবর্তীতে সেটা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়! তবে সেই দুই লাখে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে ৬২ হাজার এমন অভিযোগও উঠে। সেই তর্কে আর না যাই। মেনে নিলাম সবাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। দুই লাখের যোগ করা হলো সন্তানসন্ততিদের। তাহলে সে সংখ্যাটা হলো প্রায় ১০ লাখ! অর্থাৎ মাত্র ১০ লাখের জন্য কোটা ছিলো ৩০%। ১০ লাখ ই দখল করেছিলো দেশের ৩০% যেখানে মোট জনসংখ্যা ১৬-১৭ কোটি। :/ এবার আসি মুক্তিযোদ্ধে শহীদদের সংখ্যা কতো? জ্বি ৩০ লাখ। সেই ৩০ লক্ষকে যোগ করুন এই তালিকায়। দুই লাখ মনে করি তালিকাতেই আছে জীবিত মৃত সব মিলিয়ে। ২৮ লাখ কোথায় গেলো? প্রশ্নটি কখনোই কি জাগেনি? এই ২৮ লাখ পরিবারকে সর্বনিম্ন দুই দিয়ে গুণ করলেও তো ৫৬ লাখ হয় মুক্তিযোদ্ধা কোটার দাবীদার। তাহলে দেখা যাচ্ছে মাত্র ২ লাখ যেখানে ৬২ হাজার ভুয়া বলে সন্দেহ রয়েছে। অর্থাৎ মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার সহ ৮-৯ লাখ যদি ৩০% কোটা পায় তাহলে বাকি ৩০ কিংবা ২৮ লাখ যোগ করলে কোটা কত % দিতে হবে বলে উচিৎ মনে হয়?
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান। পরাধীন থাকার অসহনীয় কষ্ট আমরা ভোগ করিনি শুধুমাত্র তাদেরই ত্যাগ তিথিক্ষায়। সুতরাং তাদের প্রতি অসম্মান বা অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের মতো জানোয়ার অন্তত এই বাংলাদেশে নাই। যদি থাকে তাদের অন্তত মানুষ বলা যায়না। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের প্রতিনিয়ত অপমান করছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা আর তাদের পোষ্যরা। সাধারণ ছাত্রজনতার ক্ষোভ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি নয়, ক্ষোভটা মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের প্রতি যারা মুক্তিযোদ্ধা বাবা ভাইকে ব্যবসার পুঁজি বানিয়ে ফায়দা লুটে।

ক্ষোভ আছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যারা সরকারের বিভিন্ন ফায়দা অন্যায় ভাবে লাভ করে। যেখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম এখনো তালিকায় আসেনি যাদের কেউ ভিক্ষা করে কিংবা রিকসা চালায়। যাদের পরিবার সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান বা পোষ্য বলে দাবী করে তাদের কাছে প্রশ্ন- ২ লাখে যদি ৬২হাজার ভুয়া হয় তাহলে বাকি ২৮-৩০ লাখে কয় লক্ষ্য ভুয়া আসবে? তাদেরও তো নাতি পুতিদের কোটার আগায় নিয়ে নাচা লাগবে। নাকি? সুতরাং তোমরা মুক্রিযোদ্ধার বংশধরেরা যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রাজাকার, দেশদ্রোহী বলছো তারা নিজেরা নিজেদের প্রশ্ন করো আসলে আমরা কিসের বিরুদ্ধে? তোমরা কিংবা তোমাদের বাপদাদার বিরুদ্ধে নাকি কোটাপ্রথার বিশাল ফাঁকে যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করছে তাদের বিরুদ্ধে। তোমরা যদি বৈষম্য সৃষ্টির পক্ষে তাহলে হে আমরা রাজাকার আর তোমরা যদি ন্যায়প্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকো তাহলে আমরাও তোমাদেরই ভাইবন্ধু। তোমাদের পূর্বপুরুষ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে তাই তোমাদের মাথায় তুলে রাখতে আমাদের কিসের আপত্তি? যদিও প্রশ্ন থেকে যায় বাবার সম্পত্তি না হয় সন্তান পেলই কিন্তু সন্তানেরও সন্তান পেতেই থাকবে বীনাকষ্টে এতো কার ভূসম্পত্তি না, একটি দেশের অস্তিত্ব, ইতিহাস।




বি:দ্র: কোটাবাতিলে আন্দোলন নয়, আন্দোলন ছিলো সহনশীল মাত্রায় নিয়ে আসতে। বাতিল করে দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবাররাও এখন আন্দোলনে নামতে পারে, এই অধিকার তারা অবশ্যই রাখে। তারা প্রশ্ন করতেই পারে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন? সুতরাং যা ঘটেছে সেটা যে চূড়ান্ত নয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আমরা শুধু চাই মুক্তিযোদ্ধাদের যাতে কোনো পণ্যসামগ্রী হিসেবে বাজারের পণ্য বানানো না হয়। নোংরা মানুষের দল যাতে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও যোদ্ধাদের স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম না বানায়।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:০৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু টুথপেস্ট নয়—মোড়ক ছেঁড়ার মুহূর্তেই ছড়াচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

লিখেছেন মুনতাসির, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

টুথপেস্ট নিয়ে আলোচনা সবে শুরু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা আরও অনেক বড়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি সিন্থেটিক পণ্যই এখন মাইক্রো বা ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি করতে পারে—এমনকি একটি চিপসের প্যাকেট ছেঁড়ার মুহূর্তেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×