#প্রজন্মের #মুক্তিযোদ্ধা ও #রাজাকারদের প্রতি আমার লেখা পড়ার উদাত্ত আহবান।
বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি অনেক লেখালেখি করে ফেলেছি। না জানি কপালে কি আছে। তবে অন্যায় কিছু লিখিনি সে আত্মবিশ্বাস আছে। যাই হোক কিছু পরিসংখ্যান দেখে নতুন কিছু প্রশ্ন মাথায় এলো- প্রথম পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সংখ্যাটা ছিলো মাত্র ৫০ হাজার। পরবর্তীতে সেটা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়! তবে সেই দুই লাখে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে ৬২ হাজার এমন অভিযোগও উঠে। সেই তর্কে আর না যাই। মেনে নিলাম সবাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। দুই লাখের যোগ করা হলো সন্তানসন্ততিদের। তাহলে সে সংখ্যাটা হলো প্রায় ১০ লাখ! অর্থাৎ মাত্র ১০ লাখের জন্য কোটা ছিলো ৩০%। ১০ লাখ ই দখল করেছিলো দেশের ৩০% যেখানে মোট জনসংখ্যা ১৬-১৭ কোটি। :/ এবার আসি মুক্তিযোদ্ধে শহীদদের সংখ্যা কতো? জ্বি ৩০ লাখ। সেই ৩০ লক্ষকে যোগ করুন এই তালিকায়। দুই লাখ মনে করি তালিকাতেই আছে জীবিত মৃত সব মিলিয়ে। ২৮ লাখ কোথায় গেলো? প্রশ্নটি কখনোই কি জাগেনি? এই ২৮ লাখ পরিবারকে সর্বনিম্ন দুই দিয়ে গুণ করলেও তো ৫৬ লাখ হয় মুক্তিযোদ্ধা কোটার দাবীদার। তাহলে দেখা যাচ্ছে মাত্র ২ লাখ যেখানে ৬২ হাজার ভুয়া বলে সন্দেহ রয়েছে। অর্থাৎ মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার সহ ৮-৯ লাখ যদি ৩০% কোটা পায় তাহলে বাকি ৩০ কিংবা ২৮ লাখ যোগ করলে কোটা কত % দিতে হবে বলে উচিৎ মনে হয়?
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান। পরাধীন থাকার অসহনীয় কষ্ট আমরা ভোগ করিনি শুধুমাত্র তাদেরই ত্যাগ তিথিক্ষায়। সুতরাং তাদের প্রতি অসম্মান বা অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের মতো জানোয়ার অন্তত এই বাংলাদেশে নাই। যদি থাকে তাদের অন্তত মানুষ বলা যায়না। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের প্রতিনিয়ত অপমান করছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা আর তাদের পোষ্যরা। সাধারণ ছাত্রজনতার ক্ষোভ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি নয়, ক্ষোভটা মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের প্রতি যারা মুক্তিযোদ্ধা বাবা ভাইকে ব্যবসার পুঁজি বানিয়ে ফায়দা লুটে।
ক্ষোভ আছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যারা সরকারের বিভিন্ন ফায়দা অন্যায় ভাবে লাভ করে। যেখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম এখনো তালিকায় আসেনি যাদের কেউ ভিক্ষা করে কিংবা রিকসা চালায়। যাদের পরিবার সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান বা পোষ্য বলে দাবী করে তাদের কাছে প্রশ্ন- ২ লাখে যদি ৬২হাজার ভুয়া হয় তাহলে বাকি ২৮-৩০ লাখে কয় লক্ষ্য ভুয়া আসবে? তাদেরও তো নাতি পুতিদের কোটার আগায় নিয়ে নাচা লাগবে। নাকি? সুতরাং তোমরা মুক্রিযোদ্ধার বংশধরেরা যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রাজাকার, দেশদ্রোহী বলছো তারা নিজেরা নিজেদের প্রশ্ন করো আসলে আমরা কিসের বিরুদ্ধে? তোমরা কিংবা তোমাদের বাপদাদার বিরুদ্ধে নাকি কোটাপ্রথার বিশাল ফাঁকে যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করছে তাদের বিরুদ্ধে। তোমরা যদি বৈষম্য সৃষ্টির পক্ষে তাহলে হে আমরা রাজাকার আর তোমরা যদি ন্যায়প্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকো তাহলে আমরাও তোমাদেরই ভাইবন্ধু। তোমাদের পূর্বপুরুষ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে তাই তোমাদের মাথায় তুলে রাখতে আমাদের কিসের আপত্তি? যদিও প্রশ্ন থেকে যায় বাবার সম্পত্তি না হয় সন্তান পেলই কিন্তু সন্তানেরও সন্তান পেতেই থাকবে বীনাকষ্টে এতো কার ভূসম্পত্তি না, একটি দেশের অস্তিত্ব, ইতিহাস।
বি:দ্র: কোটাবাতিলে আন্দোলন নয়, আন্দোলন ছিলো সহনশীল মাত্রায় নিয়ে আসতে। বাতিল করে দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবাররাও এখন আন্দোলনে নামতে পারে, এই অধিকার তারা অবশ্যই রাখে। তারা প্রশ্ন করতেই পারে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন? সুতরাং যা ঘটেছে সেটা যে চূড়ান্ত নয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আমরা শুধু চাই মুক্তিযোদ্ধাদের যাতে কোনো পণ্যসামগ্রী হিসেবে বাজারের পণ্য বানানো না হয়। নোংরা মানুষের দল যাতে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও যোদ্ধাদের স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম না বানায়।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




