somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানালি, বরফের স্বর্গ সোলাং ভ্যালি। কম খরচে ভারত বেড়ানো। ভিডিওতে দেখুন মানালি

০৬ ই মে, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বর্গ এখানেই; স্বর্গ এখানেই; স্বর্গ এখানেই
সবাই চিনে মানালি। কিন্তু মানালি এলে লোকে কোথায় বেড়ায় তা কম লোকেই জানে। সোলাং ভ্যালি হচ্ছে মানালির সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা। সোলাং ভ্যালি পরিচিত 'দি এডভেন্চার ভ্যালি' নামে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যখন তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রির কোঠায় আর ঢাকায় 35-37 তখন আমি চার ডিগ্রি তাপমাত্রার শহর মানালিতে ছিলাম। কিন্তু মানালি শহরে বরফ নেই কারণ তখন শীতকাল না। হায় খোদা! চার ডিগ্রি তাপমাত্রা হওয়ার পরেও নাকি শীতকাল আসে নি এদের! কী ভয়ানক কথা!

ওল্ড মানালিতে আমার হোটেল নীলগিরির বারান্দায় বসে দূরের পাহড়ের গায়ে পেঁজা তুলোর মতন তুষারের আবরণ দেখছিলাম আগের দিন বিকেলে।

সেদিন ছিল মার্চের ২৮ তারিখ, ২০১৭।
ভোরে উঠে গিজার ছেড়ে গরম পানিতে গোসল সেরে বের হয়েছিলাম ফজরের সময়। হোটেলের পাশেই দেবদারু উদ্যান। সেখানেই ফজর পড়েছি একা একা। মানালিতে কোন মসজিদ নেই। মসজিদ বানানো নিষেধ ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের এই শহরে। স্থানীয় কাশ্মিরী ব্যবসায়ীদেরকে জিজ্ঞাসা করলে জানিয়েছিলেন যে তারা একটা হল রুম ভাড়া নিয়ে নামাযের ঘর বানিয়েছিলেন। সেখানেই নামায পড়তেন তারা। কিন্তু এখন আর সেটাও নেই। প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে।
দেবদারু বনের মাঝখানে মধ্যযুগে স্থাপিত হাদিম্বা মন্দির। মন্দিরের বাহিরটা চমৎকার। ভেতরটা গ্রামের পাকঘরের মতন। মন্দির ঘুরে দেখে সাতটার মধ্যেই হোটেলের কাছে ফিরে নাশ্তা করলাম।



দেবদারু বনের মাঝখানে মধ্যযুগের হাদিম্বা মন্দির।

আনুমানিক নটার দিকে রওনা করেছিলাম সোলাং ভ্যালির উদ্দেশে। গুগল ঘেটে ব্লগ ঘেটে মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি আমার আগে কোন অভিযাত্রী অন্তত পায়ে হেঁটে মানালি থেকে সোলাং যায় নি। আর গেলেও সে সংক্রান্ত কোন নোট লেখে নি কেউ। বাংলাতেও না ইংরেজিতেও না। মানালি থেকে প্রায় ষোল (16) কিলোমিটার দূরের সোলাং ভ্যালির গেঁয়ো পথে রওনা দিয়েই মনে হল হায় বিদেশ বিভূঁইয়ে একা একা অজানা পথে কোথায় চলেছি! কিছুদূর হাঁটার পর দেখি মানুষ তো দূরের কথা কোন কাক পক্ষীরও দেখা নেই। নিজ শহর থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের অজ্ঞাত গাঁয়ের পথ ধরে হেঁটে চলেছি। একটু ভয় ভয় লাগছিল। অজান্তে গুনাগুন করতে লাগলাম- "নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তা চলেছি একা"
হ্যাঁ! আমি কিন্তু একাই গিয়েছিলাম।

আপেল বাগানের দিকে দেখলে মনে হয় অনেক বছর ধরে বসন্ত আসে না এদেশে। ডালপালা কেমন শুকিয়ে আছে, পাতা-পল্লবের দেখা নেই, ফুল নেই; ফল নেই। কিন্তু নিচে তাকালেই সজীব হয়ে আসে প্রাণ। হলুদ সরষে ক্ষেত বাতাসে দুলছে অবিরাম। কিন্তু আশ্চর্য সুবাস নেই কেন! কাছে গিয়ে ঘ্রাণ শুঁকলাম, নাহ! সরিষাই। চীন দেশের লোকের মত বেটে বেটে সরিষা গাছ



আপেল বাগানের নিচে সরিষা ক্ষেত


সুন্দর একটি ভিডিও আপনাদের জন্য Click This Link

বিয়াস নদীর ধার ঘেষে গাঁয়ে প্রবেশ করতেই মনে হল রবিনহুডের জগতে প্রবেশ করেছি। পাথুরে জলাধারের কিনারে পাথুরে বাড়ি ঘর। পাইন বনের আড়ালে পাহাড়ের উপত্যকায় কী সুন্দর গ্রাম। একদম সুবহানাল্লাহ!



গ্রামের ভেতরে ঘোড়া চড়াচ্ছে এক কিশোরী সহিস।

আড়াই ঘন্টা লেগেছে সোলাং ভ্যালি পৌঁছতে। দু ঘন্টায় পৌঁছুতে পারতাম ছবি-ভিডিও এসব নিয়ে না পড়ে থাকলে।

সোলাং ভ্যালি মূলত স্নো পয়েন্ট। পর্যটকেরা বরফের বুকে খেলতে আসে বলতে গেলে। একজন আরেকজনের গায়ে বরফ ছুড়ে মারছে। আদিবাসীদের পোষাক পরে ছবি তুলছে। একটা টায়ারের ওপর বসে উঁচু থেকে পিচ্ছিল খাচ্ছে একশ টাকার বিনিময়ে। প্যারাগ্লাইডিং করতে আপনাকে গুনতে হবে সাড়ে তিন হাজার (3500) ভারতীয় রুপি। ক্যাবল কারে চড়তে খরচ পড়বে সম্ভবত (650) রুপি। স্কি করতে পারবেন তিনশ রুপিতে।



সোলাং ভ্যালি স্নো পয়েন্ট।


যারা বাইক চালাতে পারেন এবং লাইসেন্স আছে তারা বাইক ভাড়া নিয়েও ঘুরতে পারেন। 800-1200 টাকায় বাইক ভাড়া পাওয়া যায়।

ভিডিওটি যখন রেকর্ড করছিলাম তখন আমি হাঁপাচ্ছিলাম। সাড়ে আট হাজার ফিট উঁচুতে তিন ঘন্টা টানা হাঁটার পর আসলে দম নেওয়া যাচ্ছিল না।

https://www.youtube.com/watch?v=K-d3_2sko1w দেখুন। সাবস্ক্রাইব প্লিজ :)

আরেকটি ছোট্ট ভিডিওঃ https://www.youtube.com/watch?v=GqtCrn2XJHY


যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে বিমানে গেলে দিল্লি নেমে মানালির বাস পাবেন।

কলকাতা থেকে ট্রেনে যেতে পারেন দিল্লি বা চণ্ডিগড় অথবা কালকা পর্যন্ত। সেখান থেকে বাসে মানালি।

সিমলা থেকেও বাসে মানালি যেতে পারেন।

কলকাতা থেকে দিল্লি/চণ্ডিগড়/কালকা ট্রেনে 600-680 রুপি

মানালি টু দিল্লি : নরমাল বাস 700 রুপি, ভলভো 1400 রুপি
সিমলা টু মানালি: 400 রুপি
চন্ডিগড় টু মানালি: 400 রুপি (আনুমানিক)

মানালি টু সোলাং ভ্যালি:
ট্যাক্সি: পনেরই থেকে আঠারশ (1500-1800) রুপি
টুরিস্ট বাস: তিনশো (300) রুপি
হিমাচল বাস: মাত্র বিশ (20) রুপি
আমি ফেরার সময় বাসে করে বিশ রুপিতে এসেছি।

ভিডিও দেখে ভাল লাগলে সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না যেন ;)

পুরো ভ্রমণ নিয়ে শিগগির লিখব। এবং সামুতে প্রকাশ করব। আপ্পাতত অপেক্ষা প্লিজ। ভারত ভ্রমণে যে কোন প্রয়োজনে আমাকে নক করতে পারেন ফেসবুকের এই লিংকে https://www.facebook.com/mahfuz1989
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৭ বিকাল ৫:১৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তবুও বেঁচে আছি

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১৫

এই নিথর নগ্ন শরীরের প্রতিটা পল্লবের করুণ আর্তচিৎকার
পৃথিবীর মাটি ভেদ করে কোনদিনও
ওই মৃত কানে পৌঁছাবে না
আমি জেনে গেছি ।

বিপন্ন আকাশের গায়ে লেপ্টে থাকা
দেবতাদের প্রতারণার ফাঁদ আর মিথ্যা প্রলোভনের গল্পগুলি
আমার শুনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×