somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন ব-কলম আসমান মেম্বার

১০ ই জুন, ২০১৩ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একবার আমাদের পাশের গ্রামের এক লোক মেম্বার নির্বাচিত হয়েছে। আসমান মিঞা। টেরা চোখে ঘন ঘন পাতি ফেলত। শত ভাগ ব-কলম। কোথাও স্বাক্ষর টাক্ষরের ব্যাপার থাকলে বউকে সাথে নিয়ে যেত। কারন বউ তার আট কেলাশ কম মেট্রিক পাশ। একবার একলোক গেছে তার বাড়িতে "গরুর রশিদ" স্বাক্ষর করাতে। মেম্বার তার বউকে দিয়ে কাজটা করিয়েছিল।

মেম্বার কিন্তু নিজের ইচ্ছায় নির্বাচনে দাড়াতে চায়নি। গ্রামের মাতব্বরেরা ষরযন্ত্র করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহন করিয়েছিল যাতে প্রতিপক্ষ সহজেই জিততে পারে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে আসমান মিঞা নির্বাচিত হয়ে গেল।

তো এই ব্যাক্তি নির্বাচিত হবার পর এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ বক্তব্য দিবে। মঞ্চের উপর উঠে মাইকের সামনে দাড়াল। তার কাপুনির চোটে মঞ্চ সুদ্ধ কাপার জোগার। ভাষন শুরু করল,

: এ্যএ্যএ্য..বাইসব..আফনেরা আমারে..আফনেরা আমারে..এ্যএ্যএ্য..আফনেরা আমারে..

ঐইটুকুই শোনা যাচ্ছিল, তারপর আর কোন লাইন বেরোয় না।

বিরক্ত শ্রোতারা ওপাশ থেকে চিতকার করছে,
-ঐ হালার ফুত, আমরা তরে কিতা করসি কসনা???

বেচারার ধন্যবাদ জ্ঞাপন ওখানেই RIP। থতমথ হয়ে কোন মতে শেষ করে সরে পড়ল।

পরবর্তীতে দেখা গেছে অক্ষর জ্ঞানহীন টেরা চোখের ঐ মেম্বারই এলাকার জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে। যা আগের মেট্রিক পাশ মেম্বাররা করতে পারেনি। এমনকি নিজ কাধেঁ করে টিউবয়েল বয়ে নিয়ে গেছে গ্রামের মানুষদের জন্য। মসজিদের জন্য। কারন মেম্বার হবার আগে ক্ষেতে খামারে কাজ করে খেত। মানুষদের সমস্যাগুলোও সেকারনে তার চোখে ধরা পরত সহজে। শেষের দিকে সবার কাছে খুব প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছিল সেই ব-কলম আসমান মিঞা।

ফুটনোট:

জাতীয় সংসদের সাংসদেরা কিন্তু সেই ব-কলম আসমান মিঞার মত না। তারা বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজের গলা ফাটিয়ে সংসদের মাইক শুদ্ধ ফাটিয়ে দিতে পারেন। তারা আসমান মিঞায় মত অত গরীব না।

ওহ! তারা কিন্তু আসমান মিয়ার মতো টেরাও না।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৩ রাত ৯:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোলাপানগুলো এত আন্দোলন বুঝে!

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৫




পড়াশোনার টেবিল আজকাল অন্যকাজে ব্যবহার হয়, হয়তো ঐখানে বিপ্লবের লাল রং আছে শুধু। লেনিনের রক্ত, গুয়েভারার চুরুট নিয়েও আগ্রহ নেই তাদের, আছে শুধু মহাসড়ক অবরোধ, মিলনকে থাপরাড়োর অদম্য প্রয়াস,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×