somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলিশ এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে প্রতি লাখে একজন পুলিশই যথেষ্ঠ।

০৫ ই মার্চ, ২০১৪ সকাল ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি কারো উপর ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই লিখা লিখছিনা, বিবেকের কাছে বাধ্য হয়ে সকল পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই লিখা লিখছি। দেশের একটা সরকারি কলোনিতে কিছুদিন থাকার সুত্র ধরে একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি- সেখানকার কয়েকজন পুলিশের ব্যক্তিগত পশু সুলভ আচরণে ওই কলোনির সবার দৃষ্টি তে সমগ্র পুলিশ জাতিই হিংস্র। 'ওনার সাথে লাইগেন না, উনি/ওনার স্বামী পুলিশ' - সবার কাছে এখন একটা কমন ডায়লগ হয়ে দাড়িয়েছে। তাহলে একটা কলোনিরই কয়েকটা ঘটনা বলি-

ঘটনা-১. সরকারী কলোনি গুলিতে পানির সমস্যা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার, সেখানে সিরিয়াল নিয়ে ওয়াসার পানি সংগ্রহ করা লাগে। সেখানে দেখা যায় যেদিন পানির চাপ বেশি কম থাকে, সেদিন ক্ষমতাবানরা হাউজ এর মূল পাইপ লাইন খুলে তাদের নিজেদের পানির ব্যবস্থা করতে শুরু করেন, আর হাউজে লাইনে দাড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ সকাল থেকে রাতের ২/৩টা পর্যন্ত দাড়িয়ে থেকে মাঝে মাঝে হতাস হয়ে ফিরে যান। একদিন সকালে এই রকম একটা সময়ে একজন 'মহিলা পুলিশ' কে কলোনীতে নতুন আসা একজন সাধারণ মহিলা অনুরোধ করে বললেন - ভাবি একটু বালতিটা এদিকে দিবেন... প্লিজ। ওই মহিলা পুলিশ রিপ্লে করলো- আমি কি আপনার বাসার বান্দি নি? ব্লা... ব্লা... ব্লা... ওই নবাগত সাধারণ মহিলা হয়তো এর আগে বুঝে উঠতে পারেনি - একজন সাধারণ মানুষের কাছে এই প্লিজ শব্দটা এবং একটা অনুরোধের মর্যাদা থাকে, পুলিশের কাছে নয়। একজন সাধারণ বাঙালি নারী অন্য একজন বাঙালি নারীর সাথে প্রথম দেখাতেই 'বান্দি' শব্দ ব্যবহার করে কথা বলতে পারে বলে আমার মনে হয়না, তাহলে কি পুলিশের চাকুরি করেন বলেই তার পক্ষে এটা সম্ভব হয়েছে?

ঘটনা-২. কলোনির একটা বিল্ডিং মহিলারা অন্য বিল্ডিং এর সামনে গিয়ে আড্ডা/রোদ পোহাতে পারবেন না, সেক্ষেত্রেও পুলিশি ক্ষমতার ব্যবহার। এক পুলিশের স্ত্রী সবাইকে কুকুরের মত তাড়িয়ে বেড়ান। ওখানে তিনি এবং তার বান্ধবীরা ছাড়া আর কেউ আড্ডা দিতে পারেন না। এইটা নিয়ে প্রতিদিনই ঝগড়া ঝাটি লেগেই থাকে।

ঘটনা-৩. এক জন মধ্য বয়স্কা হিন্দু ভদ্র মহিলার সাথে এক পুলিশ পরিবারের বাচ্চাদের খেলাধুলার বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্য তার স্ত্রী কে নিয়ে সবার সামনে ওই মহিলাকে কলোনিতে পিটিয়েছেন, সকলে দাড়িয়ে দাড়িয়ে তামাশা দেখলেও এগিয়ে জাননি। এ বিষয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত হলে কলোনি কতৃপক্ষ বিসয়টি দেখবেন বলে জানান। এমনকি ওই মহিলার পক্ষে সাক্ষী দেয়ার মত কাউকে পাওয়া জায়নি। অনেকেই মন্তব্য করেছেন- সাক্ষী দিয়ে নিজের বিপদ ডাকবেন নাকি? / হিন্দু ওনার সাথে মিশার কি দরকার?

কেন ঘটনা গুলি এমন হলো? কেন পুলিশ মানুষের বন্ধু না হয়ে এমন নোংরা আচরণ করবে? কেন সাধারণ মানুষ পুলিশকে দেখে ভয় পাবে? কেন মানুষ আর পুলিশে ব্যবধান থাকবে? পুলিশ কি মানুষ না?
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিলেশনশিপ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৩

রিলেশনশিপ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

কোনো রমণীর সাথে রিলেশনশিপে
জড়াইনি বলে প্রতিদিন-ই শুনতে হয়
উপহাস, ঠাট্টা, বিদ্রূপ, পরিহাস, তাচ্ছিল্য
ও ব্যঙ্গ কতো কথা, খুব খারাপ লাগে
সারাদিন তা কানে খালি বাজে
পালাতে ইচ্ছে করে বিমর্ষ, লাজে!

বয়স হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×