somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রজ্জলিত মেশকাত
ব্যক্তিজীবনে অহিংসায় বিশ্বাস করি। বুদ্ধের দর্শন গভীরভাবে ভাবায় আমায়। “আসক্তিই সকল দুঃখের কারণ, অধিকারবোধ থেকেই দুঃখের সৃষ্টি।” এই দুটো বাক্যের উপর অগাধ বিশ্বাস। কারো চিন্তা-চেতনাকেই ছোট করে দেখিনা। আমি বিশ্বাস করি যে মতবাদই হোক, তার গভীরে না ঢ

মিগ -৩৩ এর দিনগুলো

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তখন ২০০৭ এর মার্চ মাস। প্রথম পেশাগত পরীক্ষা সবেমাত্র শেষ করে ছুটি কাটিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরেছি। বাসা থেকে তখনকার জিপিআরএস সক্ষম ক্যামেরা ফোন সিমেন্স এম -৬৫ কিনে নিয়ে আসি। এসেই জানতে পারলাম আমার কয়েকজন জুনিয়র আর ব্যাচমেট বছরের শুরু থেকে মিগ-৩৩ নামক চ্যাটিং সফটওয়্যার মোবাইলে ব্যবহার করছে। তাদের আবার একটা কমিউনিটিও তৈরি হয়েছে। আমি ২০০৪ সাল থেকে সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিনের চ্যাটরুম গুলোতে ঢু মারতাম। আর কোন ইনফরমেশন দরকার হলে সংশ্লিষ্ট চ্যাটরুমে প্রশ্ন করলে এ্যাডমিন প্যানেল তার উত্তর দিতো। আর উত্তর না জানা থাকলে রিডাইরেক্ট করে সংশ্লিষ্ট রুমে নিয়ে যেতো। তাছাড়া আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকা আমার বড়ভাইয়ের সাথেও মেসেঞ্জারে চ্যাট করতাম। মাঝে মাঝে একটু বেজে বেজে ভয়েস চ্যাট করা যেতো; তা না হলে টেক্সট চ্যাটিং। সূতরাং মোবাইলে চ্যাটিং এর অপশন আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হলো। নতুন কিছু বিস্ময়কর মনে হবারই কথা।

যাইহোক, আমি দ্রুত মিগ কমিউনিতে ঢুকে পড়লাম। মিগ হয়ে উঠলো আড্ডা, আনন্দ, যোগাযোগ, আবেগ, ভালোবাসার নতুন যায়গা। তখন যেহেতু উচ্চপ্রান্তিক মোবাইলের সংখ্যা কম ছিলো আর ইন্টারনেট নিয়ে মানুষের ধারণাও কম ছিলো তাই শিক্ষিত কমিউনিটি আর ক্যাম্পাসগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো মিগ চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম। দিনগুলো ছিলো আনন্দের। আনন্দে সময়ন কাটানোর একটা নতুন জায়গা। একটা সিম দিয়ে একটা আইডি খোলা যেতো। আমি বাড়ির সবগুলো সিম দিয়ে প্রায় দশটার মতো আইডি খুলে ফেললাম। আইডি খোলার সুবিধা ছিলো, একটা আইডি খুললে মাদার আইডিতে তিনদিনের ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যেত আর সম্ভবতঃ বিশটা ফ্রি এসএমএস গিফট পাওয়া যেত। আর অনেকগুলো আইডি থেকে আলাদা আলাদাভাবে লগইন করা যেত। কোন একটা চ্যাটরুমে ঢুকে সেখানের লগইনকৃত যেকোন মেম্বারের সাথে প্রাইভেট চ্যাট অথবা গ্রুপেও চ্যাট করা যেতো। কেউ ভুল করলে তাকে কয়েকজন মেম্বার মিলে কিক করা যেতো। বা অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ ঢুকলে কয়েকটা আইডি একসাথে কিক করলে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া যেতো।

মিগের চ্যাটের দিনগুলোর অনেক স্মৃতি রয়েছে। আমার এক বন্ধুর রিলেশন ব্রেকআপ হওয়ার পর মিগে ইন্দোনেশিয়ান মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেললো। তাদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাট হতো। সে ইন্দোনেশিয়ান ভাষার বেশকিছু শব্দও আয়ত্ত করে ফেললো। আমরা তাকে কসমিক লাভার বলে ডাকতাম। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু জুনিয়র ফ্রেন্ডও হয়ে যায়। তখন মিগটায় একটা ভুবন হয়ে যায়। এখনও মিগের কিছু বন্ধু রয়ে গেছে। তাদের সাথে কথা হলে পুরনো স্মৃতিগুলো হাতড়ে ফিরি। তখনো ফিরে যাই আমার জীবনের সোনালী দিনগুলোতে।

২০০৮ সালে ফেসবুক আইডি খুলি বন্ধুদের মারফতে। শুরুতে উইন্ডোস ছাড়া ফেসবুক ব্যবহার করা যেতোনা। ফেসবুক এদেশে তখনও পপুলার হয়নি আর ব্যান্ডউইথের মন্থর গতি এবং আকাশচুম্বি দামের কারণে পিসিতে ব্যবহার করে মজা পাওয়া যেতোনা। ২০০৯ সালে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকলো। আর মুঠোফোনেও লিমিটেডভাবে ব্যবহার শুরু হলো। সবকিছু সত্ত্বেও ২০১০ এর শেষ পর্যন্ত মিগেই বুদ হয়ে ছিলাম। সময়ের উদ্বর্তনে ক্রমশঃ মিগ জৌলুস হারিয়ে ফেললো আর ফেসবুকের আগ্রাসন শুরু হলো। আমার জীবন থেকেও মিগ হারিয়ে গেল। তবুও মিগ -৩৩ এর স্মৃতিগুলো আমার জীবনে অমলিন থেকে যাবে চিরকাল।
চ্যাটরুমে ঢুকে সেখানের লগইনকৃত যেকোন মেম্বারের সাথে প্রাইভেট চ্যাট অথবা গ্রুপেও চ্যাট করা যেতো। কেউ ভুল করলে তাকে কয়েকজন মেম্বার মিলে কিক করা যেতো। বা অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ ঢুকলে কয়েকটা আইডি একসাথে কিক করলে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া যেতো।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:২৮
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:১৭



পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষঃ
পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরবাসী ঈদ

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:২৩

আমার বাচ্চারা সকাল থেকেই আনন্দে আত্মহারা। আজ "ঈদ!" ঈদের আনন্দের চাইতে বড় আনন্দ হচ্ছে ওদেরকে স্কুলে যেতে হচ্ছে না। সপ্তাহের মাঝে ঈদ হলে এই একটা সুবিধা ওরা পায়, বাড়তি ছুটি!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের হামলায় ইসরায়েল কি ধ্বংস হয়ে গেছে আসলেই?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ২:৪৯


ইসরায়েলে ইরানের মিসাইল হামলার একটি ভিডিও দেখতে পাচ্ছেন অনলাইনে। যাতে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মিসাইল ইসরায়েলের আকাশে উড়ছে আর সাইরেন বেজেই চলেছে! ভিডিওটি দেখে আপনি ভাবতে পারেন, হাজার কোটি ডলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদিসের সনদের মান নির্ধারণ করা শয়তানী কাজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ ভোর ৬:৪০



সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়ানটের ‘বটমূল’ নামকরণ নিয়ে মৌলবাদীদের ব্যঙ্গোক্তি

লিখেছেন মিশু মিলন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:৩৩



পহেলা বৈশাখ পালনের বিরোধীতাকারী কূপমণ্ডুক মৌলবাদীগোষ্ঠী তাদের ফেইসবুক পেইজগুলোতে এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করে ব্যঙ্গোক্তি, হাসাহাসি করছে। কেন করছে? এতদিনে তারা উদঘাটন করতে পেরেছে রমনার যে বৃক্ষতলায় ছায়ানটের বর্ষবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×