somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কল্পনা নাকি বাস্তবতা

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটিকে আমগাছ তলায় প্রতিদিন দেখে সুমন কিন্তু কখনো মুখ ফুটে জিজ্ঞেস করেনি,"কেন দাঁড়িয়ে থাকে রোজ এখানে?"

সেদিন ছিল শনিবার। বরাবরের মতো আজও মেয়েটিকে গাছতলায় দেখতে পায় সুমন। আজ হলুদ রঙের একটি শাড়ি পড়ে আছে সে। হলুদ শাড়িতে ভালোই মানিয়েছে। সুন্দরী মেয়েদের হলুদ রঙে বেশ মানায়। সুমন মনে সাহস সঞ্চয় করে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েটির দিকে। "আজ জানতেই হবে কেন সে রোজ দাঁড়িয়ে থাকে?"

"সুমনের মনে খটকা লাগছে, যাওয়াটা কি আদৌ ঠিক হচ্ছে? ",একবার যখন মেয়েটির চোখে পড়ে গেছে তাই আর ফিরে যাওয়ার কোন মানেই হয় না। মেয়েটির সামনে গিয়ে গলায় খুক খুক করে আওয়াজ ছাড়লো সুমন।

মেয়েটি মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে জানতে চায়,"কিছু বলবেন?"

সুমন কিছুটা গুলিয়ে ফেলে,"কি যেন বলতে এসেছিল?" মেয়েদের সাথে ঠিক গুছিয়ে কিছু বলতে পারে না সে।

মেয়েটি আবার জিজ্ঞেস করলো,"কিছু বলবেন?"

সুমন একটা ঢোক গিলে জবাব দেয়,"কি যেন বলতে এসেছি সব গুলিয়ে ফেলেছি।"

মেয়েটি মুক বাঁকিয়ে বলে উঠলো,"ও। নাকি মেয়েদের দেখলেই আউলিয়ে ফেলেন?"

সুমন কিছুটা লজ্জা পায় তা তার মুখে ফুটে উঠে। আঁকুপাঁকু করে উত্তর দেয়,"না মানে,, সেইরকম ই।"

মেয়েটি আবার অট্রহাসি দেয়। এই হাসিতে যে মায়া তা ভাবতেই পারেনি সুমন। প্রশংসার সুরে সুমন বলে,"আপনার হাসিটা না বেশ সুন্দর। এত সুন্দর হাসি আর কখনো দেখিনি।"

মেয়েটি ঠোঁট বাঁকা করে আবার হাসতে থাকে,"আপনি যে এভাবে আমার সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন লোকে তো আপনাকে পাগল বলবে?"

সুমন বেশ অবাক হয়,"কেন কেন!! পাগল বলবে কেন?"

মেয়েটি আবার হাঁসে সেই হাঁসি আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয় এই হাসির সাথে আর কিছুর ই তুলনা হয় না। মেয়েটি কিছুটা মুখ কালো করে সুমনের কথার জবাব দেয়,"কারণ আপনি নিজে নিজেই কথা বলছেন?"

এবার সুমন কিছুটা হাসে। আর ভাবতে থাকে,"মেয়েটি কি পাগল নাকি? সে তো মেয়েটির সাথেই কথা বলছে"

মেয়েটি পুনশ্চ বলে উঠে,"কি ভাবছেন আমি পাগল? আপনার পিছনে তাকান তবেই বুঝতে পারবেন?"

সুমন কিছুই বুঝতে পারেনা কি হচ্ছে এসব। কৌতুহল নিয়ে পিছনে তাকালো সে। একি!! তার চারিদিকে অনেক মানুষ গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন সার্কাস দেখতে এসেছে। এত মানুষ এভাবে দাঁড়িয়ে কেন?

লুংগি পড়া একজন বলে উঠলো,"ভাই ভালোই তো লাগতেছিল আর কিছুক্ষণ বলেন না?"

সুমন এবার সামনের দিকে তাকায়,"একি!! সেখানেও কেউ নেই। মেয়েটি তাহলে কোথায় গেল?"নিজে নিজেই বোকা বনে গেল। পাস থেকে নানা জনের নানা কথা ভেসে আসছে। কেউ বলছে,"দেখে তো ভালো ছেলেই মনে হচ্ছে?"। আর কেউ বা বলছে,"পাগল।" ছোট ছোট বাচ্চারা সুমনের দিকে ইশারা করে আর কি যেন বলছে।

সুমন সবাইকে ঠেলে বেরিয়ে আসে। সবার সামনে এভাবে জোকার হয়ে উঠবে ভাবতেই পারেনি সে। আজ আর ভার্সিটিতে না গিয়ে বাসায় ফিরে এলো সে।

সুমন তার বেষ্টফ্রেন্ড ও একমাত্র বান্ধবী তান্নিকে ফোন দেয়। কিন্ত তান্নি বার বার ফোন কেটে দিচ্ছে দেখে সুমনের মেজাজ চরমে উঠে গেছে। সুমন মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। আজ এভাবে তার সাথে কেন হলো? মেয়েটিকে তার এত পরিচিত মনে হয় কেন?

প্রায় চল্লিশ মিনিট পর সুমনের মোবাইলের টোন বেজে উঠে,"দুটি মন আর নেই দুজনার,,,,,, "গানটি। পুরোনো দিনের গানের প্রতি আলাদা এক আকর্ষণ আছে সুমনের তাই এই গান রিংটোন হিসেবে ঠাই পেয়েছে।

ফোনটি আবারো বেজে উঠে। তান্নি ফোন দিয়েছে কিন্ত সুমন রিসিভ করছেনা। রাগ তার মাথায় উঠে আছে তাই যতই ফোন দিক রিসিভ করবেনা।

তান্নি মুখ কালো করে আছে। সুমন তাকে কোন কিছুতে অনিহা করলেই তার মন খারাপ হয়ে উঠে। সুমন তান্নির বেষ্টফ্রেন্ড। সুমনের সব কিছুই তান্নির কাছে শেয়ার করে। তান্নি ভাবতে থাকে,"পাগলটা খালি খালি রাগ করে। তান্নি ক্লাসে থাকায় ফোন রিসিভ করতে পারেনি। তান্নি জানে সুমন রাগে ফোস ফোস করছে। আর তার রাগ ভাংগাতে হলে এখন সুমনের বাসায় যেতে হবে। ক্লাসের তোয়াক্কা না করেই গোমড়া মুখো হয়ে সুমনদের বাসার উদ্দেশ্যে বের হয় তান্নি।"

এদিকে সুমন রাগে ফোফাতে থাকে। হঠাৎ করেই সেই চিরচেনা অট্রহাসি শুনতে পায় সে। মুখে অবাক হওয়ার ভাব চলে আসে আর মুখ ফুটেই বলে ফেলে সুমন,"আরেহ আপনি?আমার রুমে কিভাবে ঢুকলেন?"

মেয়েটি হাসতে হাসতে সুমনের পাসেই বসে পড়ে,"আপনি এত বোকা কেন?"

সুমন নিজেকে কিছুটা সামলে পাল্টা প্রশ্ন করে,"কিসের বোকা? আর আপনি এলেন ই বা কিভাবে?"

মেয়েটি সুমনকে আশ্বস্ত করে জবাব দেয়,"আপনি শান্ত হন আমি সব বলছি। আমি কোথায় থাকি জানেন?"

সুমন তোতলাতে তোতলাতে জানতে চায়,"কোথায়?"

মেয়েটি কিছুটা অবাক করা উত্তর দেয় আর সুমন অবাক হয়ে জানতে চায়,"মানে?"

"মানে খুবই সিম্পল। আমি আপনার কল্পনা।",ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে মেয়েটি।

"এ কিভাবে সম্ভব!! কল্পনা সবসময় কল্পনায় থাকে বাস্তবে নয়।আপনি এক্ষুনি আমার রুম থেকে বের হন",সুমন উত্তেজিত হয়ে জবাব দেয়।

মেয়েটি মুখে কান্নার আভা এনে জবাব দেয়,"আপনি কল্পনায় আমায় এত বেশী ভাবেন তাই আমি বাস্তবে মাঝেমধ্যে আসি।"

সুমন চোখ কিছুক্ষণ বন্ধ রেখেই মুখে গাম্ভীর্য নিয়ে আগ্রহী হয়ে জানতে চায়,"আপনি কি সত্যিই আমার কল্পনা?"

পাস থেকেই এবার ভেসে আসে,"কিরে সুমন কার সাথে এভাবে কথা বলছিস?"

কন্ঠস্বর একই কিন্তু মানুষ ভিন্ন তা টের পায় সুমন। পাসে তাকিয়ে দেখতে পায় মেয়েটি নেই কিন্ত দরজার সামনে তান্নি দাঁড়িয়ে আছে বিষ্ফোরিত চোখ নিয়ে। সুমন চোখ বন্ধ করে পুরো মাথাটা একবার ঘুরিয়ে আবার চোখ খুলে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

তান্নি পাস পাস থেকে বিষ্মিত চোখে জিজ্ঞেস করে,"কার সাথে কথা বললি?"

সুমন আহত দৃষ্টিতে তান্নির দিকে তাকায়। আর নিচু স্বরে বলে উঠে,"দেখ না তান্নি আজ সকাল থেকে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কান্ড ঘটতে থাকে।"

তান্নি একটা চেয়ার টেনে বসে। দরজার ওপাস থেকে সুমনের মায়ের কন্ঠ শুনা যায়,"দেখেছো মা আমি বলেছিনা ও সকাল থেকে কার সাথে যেন কথা বলছে?"

তান্নি আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে জবাব দেয়,"আমি দেখতেছি আন্টি।"অপর পাস থেকে সুমনের মায়ের কন্ঠ শুনা যায়,"দেখো মা দেখো কি হয়েছে।"

সুমন মাথায় হাত দিয়ে চোখের পাতা বন্ধ করে মুখ ফুলিয়ে রাখে। তান্নি গোমড়া মুখে জানতে চায় সব কিছুই। সুমন একে একে বর্ননা দেয় সব।

তান্নি মনোযোগ দিয়েই শুনে সব। তারপর তাতক্ষনিক প্রশ্ন করে,"সে তোর কাছে কি চায় জানতে চেয়েছিস কি?"

সুমন না সূচক উত্তর দেয়। তান্নি মুখে অস্বাভাবিকতা এনে বলে উঠে,"ঘটনা সিম্পল সে কি চায় তোর কাছে? তা জেনে নিবি। যা চায় দেওয়ার মতো হলে দিয়ে বিদায় করে দিবি।"

তান্নির কথার প্রশংসা করে সুমন,"ঠিক বলেছিস তান্নি। সামনে দেখলেই জানতে চাইবো।"

আস্তে আস্তে তান্নি বিদায় নেয়। যাওয়ার আগে একগাদা কথা বলে যায় সুমন কে নিজের খেয়াল নিতে বলেই বের হয়ে যায় হন হন করে।

ঘন্টা পরপর ফোনে খবর নিয়ে নিচ্ছে তান্নি। কিন্ত এরপর আর সুমনের সাথে আর মেয়েটির কোন যোগাযোগ হয় নি। তান্নি খুশী হয়েই বলে উঠে,"আর কি কেইস তো ক্লোজ?"

সুমন অবাক হয়ে জানতে চায়,"কি কেইস ক্লোজ?"

তান্নি হাসতে থাকে তার হাসিটি ঠিক সেই মেয়ের মতো তা আগে খেয়াল করেনি সুমন । হাসতে হাসতে তান্নি জবাব দেয়,"আরেহ বোকা যেহেতু মেয়েটি এখনো আসেনি তার মানে আর আসবেও না।"

"আমার মনে হচ্ছে আবার আসবে,"ঢোক গিলতে গিলতে জবাব দেয় সুমন।

তান্নি ভারী কন্ঠে বলে উঠে,"এলেই জানতে চাইবি সে কি চায়?"

সুমনের মাথায় এই মেয়ের কথাই ঘুরতেছে। কি আছে মেয়েটির ভিতরে কেমন যেন পরিচিত যেন অনেকবার দেখেছে আগে। আসলেই মেয়েটি কি চায় তার কাছে?ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়ে সুমন।

ঘুমের ঘোরে কে যেন বারবার বলছে"আমি তোমাকে চাই সুমন তোমাকে চাই।"সুমন লাফিয়ে উঠে যায় ঘুম থেকে। মুখভর্তি ঘাম লেগে আছে, ফ্যানটাও ঘুরছেনা অর্থাৎ কারেন্ট নেই। মোবাইল এর আলো জ্বালাতেই আঁতকে উঠে সুমন কে যেন তার পাসেই বসে আছে।

মোবাইল এর ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালাতেই চমকে উঠে সে। সেই মেয়েটি তার পাসে বসে আছে। এবার রেগে যায় সুমন। হুংকার দেয় সে,"কি চান আমার কাছে?"

মেয়েটি হাঁসতে থাকে সেই হাসি পুরো রুমকে ভরিয়ে তুলেছে। এই কন্ঠটির সাথে তান্নির ও খুব মিল। মেয়েটি এবার হাসি বন্ধ করে জানায়,"আপনাকে চাই।"

সুমন ঘামতে থাকে ভয়ে। সারা গায়ে একটি শীতল বাতাস বয়ে যায়। গায়ের লোমগুড়ো দাঁড়িয়ে যায় সুমনের। মেয়েটি কথার পুনরাবৃত্তি করে,"ভয় পাবার কারণ নেই আমার চাওয়া পাওয়ার কোন দাম নেই। আর আমি কোন বাস্তব কেউ ও নই তাই কখনোই আপনাকে পাবোনা। আমি শুধুমাত্র কল্পনা।"

সুমন ঘামতে ঘামতে জবাব দেয়,"আমি তো আপনাকে বাস্তবে চাই না। প্লিজ আমি আপনাকে চাই না।"

মেয়েটির চোখেমুখে কান্নার সুপ্ত কনাগুলো ছলমল করতে থাকে। সেই মায়া জড়ানো কান্না যে কারো মনে মায়ার সৃষ্টি করতে পারবে। মেয়েটি কাঁদতে থাকে।

সুমনের মনে মায়া জন্মায়। সে জিজ্ঞেস করে,"কাঁদছেন কেন? "

মেয়েটির অভিমানী কন্ঠ,"ভেসে আসে আমি কাঁদলে আপনার কি? আপনারা মানুষরা আসলেই স্বার্থপর।শুধু নিজের টাই চান আমরা কল্পনা হতে পারি তাই বলে আমাদের এভাবে হেলা করছেন!! আমাদের সবাই চায় কিন্ত শুধুমাত্র তা কল্পনায়।"

মেয়েটির কান্নার ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো ভবন। মেয়েটির জন্য মায়া হয় সুমনের। সুমনের দুচোখে জল চলে আসে। তার মনে আছে আগে সবসময় এরকম একটা মেয়েকে কল্পনা করতো সে। আল্লাহর কাছে তাকে চাইতো কিন্ত আজ যখন সেই কল্পনা বাস্তবে এলো এখন হেলা করছে।

হঠাৎ রুমের আলো জ্বলে উঠে। সুমন তখনো কাঁদছে আসলেই মেয়েটি নির্দোষ সুমন নিজেই তো তাকে চেয়েছিল। "কি রে সুমন কি হইছে তোর?আর কাঁদছিস কেন বাপ?,"মায়ের আহাজারি ভেসে আসে।

সুমন তাৎক্ষণিক নিজেকে সামলে নেয়। চোখের কান্নাগুলো লুকিয়ে মায়ের কাছে প্রশ্ন রাখে,"কি হয়েছে আম্মা?আপনি এতরাতে?"

সুমনের মা সুমনের দিকে করুন আকুতি করে জানতে চায়,"কি হয়েছে বাপ তোর? এত রাতে কার সাথে কথা বলছিলি?"

সুমন কঠিনাতার সুরে জবাব দেয়,"কিছু হয় নি আম্মা। আপনি এখন যান আমি ঘুমাবো।"

সুমনের মা আহাজারি করতে করতে কক্ষ ত্যাগ করে। সুমন আর শত চেষ্টা করেও দু চোখের পাতা এক করতে পারে নি। সারারাত জুড়ে ভেবেই চলেছে তার সাথে কেন এমন হচ্ছে? মেয়েটিকে তো সে ভালোবাসে। এই সেই মেয়ে যাকে সে কল্পনায় ভালোবাসে। কল্পনা কেন বাস্তব হতে পারবেনা? কেউ মেনে নিক না নিক সুমন তাকেই ভালোবাসবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে।

হঠাৎ তান্নির কথাও মাথায় চলে আসে। তান্নিকেও তো সে কম ভালোবাসে না? কিন্ত এখন সে উভয় সংকটে আছে। তান্নি তার বেষ্টফ্রেন্ড সে হয়তো সুমনকে ভালো না ও বাসতে পারে? থাক তান্নি বেষ্টফ্রেন্ড হয়েই থাকুক সে কল্পনার মেয়েটিকেই ভালোবাসবে।

সুমন কখন ঘুমিয়েছে তার খেয়াল নেই। কে যেন তার নাম ধরে ডাকছে,,,,, সুমন,,,,, এই সুমন উঠো,,,,,, সুমন আর ঘুমিয়ে থাকতে পারেনি।কন্ঠ শুনে বুঝতে পারলো কল্পনার সেই মেয়েটি। কিন্ত চোখ খুলে দেখতে পায় তান্নি তাকে ডাকছে।

"কি হয়েছে তান্নি? তুই কখন এলি?",চোখ কচলাতে কচলাতে জিজ্ঞেস করে সুমন।

"কেন রে তোর মোবাইলে সকাল থেকে এতবার ট্রাই করছি ধরিস না কেন? ",রেগে গিয়ে জানতে চায় তান্নি।

বালিশের পাসে হাত বাড়িয়ে মোবাইল টা খুঁজে মোবাইল এর স্কিনে তাকায়,"ও দশটা মিসডকল।"

তান্নি আরো রেগে বলে উঠে,"মিসডকল নয় ডাইরেক্ট কল ধরিসনি কেন কল? আর তুই তো একটা বাজে, এতক্ষণ ঘুমাস না?"

সুমন মোবাইল এর স্কিনে আবার তাকায়,"ও শিট্!! 'একটা' তারমানে ক্লাস মিস? কল কেন দিয়েছিলি? ভার্সিটি যাস নাই?"

তান্নি বড় একটা শ্বাস নেয় আবার জিজ্ঞেস করে"তোর কি হয়েছে সুমন? দেখ তোকে ছাড়া আমার ভার্সিটি যেতে ভালো লাগেনা। আর আন্টি বললো রাতে নাকি তুই আবার বকেছিস?"

সুমন চোখ নামিয়ে উত্তর দেয়,"হ্যাঁ। মেয়েটি আমার ভুল ভাঙ্গিয়ে দিল।"

"মানে কিসের ভুল ",উত্তেজিত হয়ে উঠে তান্নি।

"না মানে সে বললো একমাত্র সে কল্পনা বলেই আমি তাকে হেলা করছি। দেখেছো আমি তো সত্যিই তাকে হেলা করতেছি কিন্ত তার তো কোন দোষ নেই?",মিনমিন করে বলে সুমন।

"কি বুঝাতে চাচ্ছিস সুমন ক্লিয়ার করে বল?",তান্নি কিছুটা গোমড়া হয়ে আছে।

"আই থিঙ্ক আই এম লাভ উয়িত হার।",চেঁচিয়ে বলে সুমন।

তান্নির চোখে পানি চলে আসে সেই পানি লুকিয়ে কোনরমে বলে উঠে,"আমার এখন কাজ আছে আমি যাই?"

সুমন কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,"তোর আবার কিসের কাজ আছে? বস আরো কিছুক্ষণ।"

তান্নি তড়িঘড়ি করে উঠে চলে যায়। আজ আর সুমনের জন্য কোন শাষন করা কথা বলে যায় নি। যতই নিজের চোখের পানি লুকিয়ে যাক সুমন ঠিক ই টের পেয়ে যায় সব।

সুমন শিউর হয়ে যায় যে তান্নি তাকেই ভালোবাসে নইলে অই কথা শুনে কাদলো কেন? সুমন ভাবতেই আছে এখন তার কি করা উচিৎ?

হঠাৎ করেই সুমনের সামনে একটি ছায়ার আবির্ভাব হয়। সুমন মাথা নিচু করেই কাদতে কাদতে বলে উঠে,"এখন আমার কি করা উচিৎ আপনিই বলে দিন। আপনি যা বলবেন আমি তা ই শুনবো।"

সুমনের পাসে বসে মেয়েটি। সুমন এই প্রথম খেয়াল করে মেয়েটির কপালে তিল আছে যেমনটি তান্নির ও আছে। মেয়েটি প্রথমদিনের মতোই হাঁসতে থাকে এই হাসি প্রাপ্তির।

সুমন আবার বলে,"বলুন আমি এখন কি করবো?"

মেয়েটি হাসতে হাসতে উত্তর দেয়,"তান্নিকে বিয়ের প্রস্তাব দিন?"

সুমন হঠাৎ সবকিছু ভুলে যায় চোখের পানিগুলো ও যেন থমকে গেছে। পৃথিবী ও যেন থেমে আছে। সুমনের বুকের ভিতরের চিনচিনে অনুভুতিটা ভালোই টের পাচ্ছে সে। মনে মনে খুশি হলেও অবাক হয়ে,"তাহলে আপনি?"

মেয়েটির যেন আজকের হাসির দিন। এত সুন্দর একটি মেয়ে এভাবে হাসলে এতটা সুন্দর লাগতে পারে জানা ছিল না। মেয়েটি ভেংচি কাটে,"আমি আসলেই আপনার কল্পনা। তান্নিকে এত ভালোবাসেন যে এতদিন হাবার মতো শুধু লুকিয়ে লুকিয়ে ভালোবাসতেন আর কল্পনা করতেন। আমার চেহারাটা ভালো করে দেখুন তো?"

সুমন একটু এগিয়ে যায় ভালো করেই লক্ষ্য করে,"আরেহ এতো তান্নির মতো দেখতে। আরে হুবুহু মিল।"বেশ অবাক হয় সুমন।

মেয়েটি আবার বলে, "দেখেছেন আপনি শুধু তান্নিকেই ভাবেন তাই আপনার কল্পনাও তান্নির মুখচ্ছবি।"

সুমন হুহু করে কেদে,উঠে,"আসলেই আমি তান্নিকে খুব ভালোবাসি। কিন্ত ভয়ে কখনো বলিনি।আচ্ছা আপনাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম তখন তো আপনি অন্য চেহারার ছিলেন??"

মেয়েটির চোখে জল ছপছপ করে উঠে,"আসলে আমি চেয়েছিলাম অন্য চেহারা নিয়ে এসে আপনার ভালোবাসা পাবো। কিন্ত তান্নি যে প্রতি রাতে আপনার ছবি বুকে নিয়ে ঘুমায় তা জানেন? সে যে প্রতিদিন হাজারবার আপনাকে চায়, দূর থেকে আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করে তা কি জানেন? তান্নির ভালোবাসার কাছে আমি পরাজিত। তাই আজ তান্নির চেহারা নিয়েই এলাম। কি একদিন আমায় ভালোবাসবেন?আজকের পরেই আমি চলে যাবো শুধু আজকের দিন?"

সুমন মাথা নিচু করে। সুমনের চোখ থেকে জল টপটপ করে পড়তে থাকে।

মেয়েটি কান্না জড়ানো কন্ঠে বলে উঠে,"কাদছেন কেন?"

সুমন চোখের পানি মুছতে মুছতে জবাব দেয়,"ওকে আপনি আজ দিনের জন্য আমার ভালোবাসা পাবেন।"

মেয়েটি হাসির চেষ্টা করে কিন্ত তার সেই হাসিটা মলিন হয়ে উঠে,"আমি কি আপনাকে তুমি করে বলতে পারি আজকের জন্য?"

সুমন জবাব দেয়,"হু।"

তখন বিকেল হয়ে এসেছে। নিজের কল্পনার মেয়েটিকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছে সে। খালি রিকসায় একা একা কথা বলছে দেখে অনেকেই অবাক হয়। সুমন মানুষের এমন চাহনিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়।

সারা বিকেল হাত ধরাধরি করেই হাটে সুমন। মানুষজন চারদিক থেকে দেখছে একটা পাগল যেন কি কি বকছে। মেয়েটির জন্য না হয় একদিন পাগল ই হলো তাতে কি?

রাতের বেলায় ছাদে একসাথে জোছনা দেখা শেষে মেয়েটি বলে উঠলো,"আমার সময় হয়ে গেছে এবার যাই?"

সুমন হুংকার দেয়,"তোমাকে আমি যেতে দিব না কোথাও।"

মেয়েটি হাসতে হাসতে সুমনের সামনে রেলিং থেকে নিচে লাফ দেয়। জোছনার আলোতে মেয়েটি আস্তে আস্তে হারিয়ে যায়।

সুমনের চোখ থেকেও জল গুলো সব জোছনার আলোয় হারিয়ে যাচ্ছে।

ঘুমানোর আগে তান্নিকে টেক্সট পাঠায় সুমন, "উয়িল ইউ ম্যারি মি?"

ঘুমের দেশে হারিয়ে যায় সুমন, তারসাথে আরো হারিয়ে যায় তার কল্পনা।

সকাল থেকেই তান্নির মোবাইল বন্ধ পেয়ে ছুটে যায় তার বাসায়। ঘরের দরজা খুলতেই তান্নির ফোলা মুখ দেখে সুমন। হাটু গেড়ে আন্টির সামনেই বলে উঠে,"উয়িল ইউ ম্যারি মি?"

মেয়েটি কোনকিছু না বলেই একটা কষে চড় বসিয়ে ভিতরে চলে যায় সে। সুমন কিছুটা অপমানিত হয়ে ভাবতে থাকে সব ই তার ভুল তান্নি ওকে ভালোবাসে না। ফিরে চলে আসবে এমন সময়ে তান্নি একটা বিয়ের পাগড়ি এনে সুমনের মাথায় পড়িয়ে দেয় আর হুংকার,"এবার প্রপোজ কর?"

সুমন হাসতে হাসতে বলে উঠে,"উয়িল ইউ বি মাই ওয়াইফ?"

তান্নি হাসতে থাকে ইয়েস আই উয়িল বি। এই সেই হাসি যেই হাসির সাথে আর কোন কিছুরই তুলনা হয় না।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×