somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

Maimuna Ahmed
ছোটবেলা থেকে চেষ্টা করেও গল্পের বই পড়ার অভ্যাস করতে পারিনি। গল্পের বইয়ের চেয়ে পড়ার বই পড়তেই বেশি ভালো লাগতো। ইদানিং ডায়েরি লেখার অভ্যাস হয়েছে। ব্লগে এসেছি "উমরাহ ডায়েরি" লিখতে। ব্লগে কারো লেখা পড়ি না। আমার লেখা পড়ছেন তাই আপনাকে ধন্যবাদ।

ডায়েরি থেকে...(১)

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

২০১৮ সাল, রমজান মাস। মেঝ ফুফু-ফুফা, ভাইয়া-ভাবী-ছোট্ট ভাতিজিসহ উমরাহ-তে যাচ্ছে। আব্বু-আম্মু হজ্জ করে আসার পর থেকেই আমাদের যাওয়ার খুব ইচ্ছা কিন্তু সেরকম সময়-সুযোগ আর হয়ে উঠেনি। ফুফুদের যাওয়া দেখে এতো বছরের সে আকাঙ্ক্ষা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। আব্বুর কাছে আবদার করলাম, এ বছর আমাদেরকে উমরাহ-তে নিয়ে যেতে হবে। আব্বু কোনোকিছুতে না করে না এবং এই ব্যাপারেও না করেনি। বললো, আল্লাহ ভরসা।

আমি সিরিয়াস, এবার আমি যাবোই, ইনশাআল্লাহ। এতো বছর ক্লাস-পরীক্ষা-চাকরি, এই ঝামেলা, সেই ঝামেলার কথা চিন্তা করে উমরাহ এর ব্যাপারে সিরিয়াস হতে পারিনি। এ বছর ঝামেলা কম। ঠিক করলাম, যাবোই ইনশাআল্লাহ।

২০১৮ এর রমজান মাস থেকে শুরু হলো, আমার উমরাহ প্ল্যানিং। দেশের মধ্যে যেসব জায়গায় ঘুরতে গিয়েছি, চেষ্টা করেছি এমনভাবে প্ল্যান করতে যেন এক ট্রিপে ম্যাক্সিমাম স্পট কাভার করে। উমরাহ এর বেলায়ও আমার চিন্তাভাবনা এরকম ছিলো। রমজান মাসে রোজা রেখে এতো জিয়ারাহ(বিভিন্ন স্পটে বেড়ানো) সম্ভব না। এছাড়া, বেশি গরমে গেলে গরমেই অস্থির হয়ে থাকবো। চাইছিলাম এমনভাবে প্ল্যান করতে যাতে উমরাহ পালন বা ইবাদাতের পাশাপাশি আমার এই তৃপ্তিও থাকে যে, হ্যা! আলহামদুলিল্লাহ আমি অমুক অমুক জায়গা দেখে আসতে পেরেছি এবং গরম যেন আমার ইবাদাতে অলসতার সৃষ্টি করতে না পারে।

চেকলিস্ট তৈরি করলাম। আমার/আমাদের চাহিদার চেকলিস্ট। প্রথমেই সময়। সৌদি আরবে অক্টোবর-নভেম্বরে বৃষ্টি হয় এবং বৃষ্টি শীতের বার্তা বয়ে আনে; ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস শীতকাল(তুলনামূলক কম গরম)। শীতকালের আরেকটা সুবিধা হচ্ছে, শীতে হোটেল ভাড়া কমে যায়। সময় শীতকাল ফিক্সড করলাম।

এবার লিস্টে আছে থাকার জায়গা। মক্কায় মদিনার তুলনায় কাজ বেশি। আবার আমার গ্রুপে আমরা চারজন মহিলা এবং একজন পুরুষ, যাদের মধ্যে একজন বয়স্ক। আমি যেহেতু অফ-সিজনে যেতে চাচ্ছি সেহেতু মক্কায় আমি হেরেমের খুব কাছের হোটেল খুজছিলাম। হেরেমের খুব কাছের হোটেলগুলো ৪*/৫* মানের। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য এসব হোটেলের খরচ একটু বেশি কিন্তু ৩* হোটেল পছন্দ হচ্ছিল না। প্রথমে একটা ৩* মানের হোটেল নিতে রাজি হলাম কিন্তু কিছুদিন পর মাথায় ঢুকলো, "আমি আল্লাহর মেহমান। আমার যে জায়গা পছন্দ না সেখানে থাকবো কেন? আমাদের না হয় সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু আল্লাহর তো কোনো সীমাবদ্ধতা নেই! আমি চাইবো, আল্লাহ দিবেন। দিবে না কেন!?" ব্যস! আব্বুকে জানালাম, আমি মক্কা মিলেনিয়াম(মক্কা টাওয়ার) এ থাকতে চাই। আব্বু হ্যা-না কিচ্ছু বলে নি। আমার প্ল্যান ছিলো, যেহেতু মক্কায় কাজ বেশি সেহেতু মক্কায় আমি মক্কা মিলেনিয়ামে থাকবো আর মদিনায় কম বাজেটের কোনো হোটেলে উঠবো। এভাবে খরচ কিছুটা ব্যালান্স হবে। হোটেল ফিক্সড- মক্কায় মক্কা মিলেনিয়াম আর মদিনায় ২৫নং গেটের কাছাকাছি (মহিলাদের জন্য রওজা জিয়ারাতের সহজ রাস্তা) কোনো হোটেলে থাকার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ ।

তৃতীয় পয়েন্ট জিয়ারাহ/দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ। জিয়ারাহ নিজেরা করবো নাকি এজেন্সির মাধ্যমে করবো এসব নিয়ে কয়েকদিন ঘাটাঘাটি করলাম। আগেই লিখেছি , ম্যাক্সিমাম স্পট কাভার করতে চাই। স্পটগুলো হচ্ছে, মক্কা-মদিনার রেগুলার জিয়ারাহ স্পট, তায়েফ, জেদ্দা, ওয়াদিয়ে জিন ও বদর প্রান্তর। মনে হলো আমাদের নিজ দায়িত্বে এসব জিয়ারাহ মেইনটেইন করা কষ্টকর হবে। তাই, এজেন্সির মাধ্যমে জিয়ারাহ করবো ঠিক করলাম।

চতুর্থ- এবার প্লেন। ডিরেক্ট ফ্লাইট নেয়ার প্ল্যান করলাম। পঞ্চমে কতোদিন থাকবো, তা ঠিক করলাম। ভিসা একমাসের জন্য দেয়। ১৫ দিনের কম থাকলে আমার তৃপ্তি হবে না। মদিনায় ৮ রাত এবং মক্কায় ৭ রাত থাকার প্ল্যান করলাম।

আমার চাহিদার চেকলিস্ট তৈরি । সবার সাথে কথা বলে ঠিক করলাম এজেন্সির মাধ্যমে যাবো। শুরু হলো এজেন্সি খোঁজা। আমার হাতে যথেষ্ট সময় ছিলো। তাই ধীরেসুস্থে বিভিন্ন এজেন্সির সাথে কথা বলছিলাম। এরমধ্যে কোরবানির ঈদ গেলো। এজেন্সিগুলো হজ্জের পর নতুন বছর/মৌসুমের উমরাহ প্যাকেজ করে থাকে। যেখানে যে এজেন্সির প্যাকেজ দেখছিলাম, একটু ঘেটে দেখছিলাম যে প্যাকেজগুলো আমার চাহিদা কতোটা পুরো করতে পারে। অনেক সময় আছে। শুধু যাচাই করছিলাম। যেসব এজেন্সির সাথে কথা বলেছি, তাদেরকে আমি আমার চাহিদা মোতাবেক প্যাকেজ করে দিতে বলতাম।

অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এক এজেন্সির সাথে কথা বললাম। অন্যান্যদের তুলনায় দক্ষ এবং স্বচ্ছ মনে হলো। আল্লাহর উপর ভরসা করে তাদের সাথেই ডিল করবো ঠিক করলাম। আমার চাহিদা আমার বাজেটকে ক্রস করে যাচ্ছে। তাই খরচ কমাতে প্লেনে ট্রানজিট ফ্লাইট নিলাম। আমি যেদিন এজেন্সিতে আমার কাস্টোমাইজ প্যাকেজ কনফার্ম করলাম সেদিনই আমার সামনে বসে প্লেনের টিকেট বুকিং দিয়েছিল। তাদের কাজ সম্পর্কে কোনো দ্বিধাদ্বন্দে ছিলাম না , আলহামদুলিল্লাহ। আমার সাধ্যমতো আমি যাচাই করেছি। এবার ভোগান্তি হলে বলতে হবে নসীবে ছিলো। এই ছিলো আমার উমরাহ প্ল্যানিং এর আদ্যোপান্ত। আরো কথা পরের পোস্টে লিখবো ইনশাআল্লাহ ।

ছবি-নেট

জাজাকাল্লাহ খাইরান
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:০৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেওবন্দের আকাবেরগণের ইখলাস

লিখেছেন আবু সায়েদ, ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:১৯

মাওলানা আহমদ সাহেব রহ.। কাসেম নানুতুভি রহ. এর সুযোগ্য সন্তান। তিনি তখন দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম।
সরকারের পক্ষ থেকে হযরত মাওলানা আহমাদ সাহেব রহ.-এর নামে মাদরাসায় এ প্রস্তাব আসে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামে মায়ের মর্যাদা ও অধিকার এবং পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের ফজিলত:

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৫১



ইসলামে মায়ের মর্যাদা ও অধিকার:
ইসলামে মায়ের মর্যাদা আলোচনা করতে গেলে আবশ্যিকভাবেই বাবার প্রসঙ্গ এসে যায়। কারণ, কুরআন হাদিসে পিতা মাতার মর্যাদা বর্ণনায় অধিকাংশ স্থানেই একটি শব্দ 'ওয়ালিদাইন' বলে উভয়কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“এখানে এক নদী ছিলো” সাম্প্রতিক বন্যা নিয়ে একটি হুতাশন ...........

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭


ছবি - বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কালিতোলা গ্রোইন পয়েন্টে যমুনা.......

ছোটবেলায় দেখেছি, পাঁচ সাত দিন একনাগাঢ়ে প্রায় সারা দেশ জুড়ে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত হয়ে চলেছে। থামার কোনও বিরাম নেই। তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার অপর নাম রোহিঙ্গা HIV AIDS & HBSAg+

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১:৩৫



আনন্দ সংবাদ: বর্তমান পৃথিবীর সর্ববৃহত্তম রিফিউজি ক্যাম্প বাংলাদেশে

ইয়াবা ফেক্টোরীর কারীগরদের মানবতার দোহাই দিয়ে বাংলাদেশে আমদানী করা হয়েছে। দক্ষ কারীগরদের নাম রোহিঙ্গা। কারীগররা দয়ার সাগর ভালোবাসার সাগর তারা খালি হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি পেয়েছি! মুক্তির স্বাদ! স্বাধীনতার স্বাদ! আপনি?

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৭ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:৫৬

মুক্তির মন্দিরে সোপানো তলে
কত প্রাণ হলো বলিদান
লেখা আছে অশ্রুজলে . . . .

সামুর স্বাধীনতা হরণের পর সামুরিয়ানদের এমন কত শত সহস্র, অজস্র বলিদান, কষ্টের অশ্রু, ব্যাথার কাহিনী তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×