somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাস্টোমাইজ প্যাকেজে উমরাহ

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

উমরাহ মওসুম চলছে। উমরাহ প্ল্যানিং এর সময় সবার আগে যে প্রশ্নটি মাথায় আসে তা হচ্ছে, কিভাবে গেলে ভালো হবে? এজেন্সির মাধ্যমে নাকি নিজ দায়িত্বে?

দুইভাবে উমরাহতে গেলেই পজিটিভ-নেগেটিভ, সুবিধা-অসুবিধা, নানান চিন্তা ভাবনার বিষয় আছে। এজেন্সি থেকে গেলে সুবিধা হচ্ছে উমরাহতে যাওয়া-আসার এই পুরোটা সময় পরিচিত অন্তত কিছু মানুষ থাকে। প্রয়োজনে তাদের থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে, এমন একটি মানসিক স্বান্তনা পাওয়া যায়(যদিও অনেকক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটে)। অপরদিকে নিজ দায়িত্বে গেলে পুরো ট্রিপ সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা থাকতে হয়। নিজের পছন্দ-সামর্থ্য অনুযায়ী উমরাহ পালন করা যায় এবং নিজ দায়িত্বে গেলে আত্মতৃপ্তিও বেশি।

এখন, আপনি যদি আমার মতো কনফিউজড পাবলিক হয়ে থাকেন। নিজ দায়িত্বে উমরাহ করার তৃপ্তি চান আবার আপনার কাজগুলো যেমন হোটেল বুকিং-জিয়ারা-গাড়ি ভাড়া করার ঝক্কি এড়াতে চান- মোয়াল্লেমের সাহায্য পেতে চান, তাহলে আমার মতে আপনার জন্য সেরা অপশন হবে এজেন্সির "কাস্টোমাইজড প্যাকেজ"।

প্রথমেই জেনে নেই, কাস্টোমাইজ প্যাকেজ কি? প্রতিটি এজেন্সির উমরাহ প্যাকেজ রয়েছে, যেখানে প্রতিটি বিষয় আলাদা করে নির্দিষ্ট করে দেয়া থাকে। এজেন্সির বিজ্ঞাপনগুলো চেক করলে দেখতে পাবেন -ভিসা ফি, উমরাহ এর সময়কাল, ফ্লাইট ডিটেইলস, হোটেল, জিয়ারা, ট্রান্সপোর্টেশন, খাওয়া ইত্যাদি বিষয় গুলো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বিভিন্ন প্যাকেজ নির্ধারণ করে থাকে। তাদের এই প্যাকেজ আপনার চাহিদা পূরণ না করলে আপনি আপনার চাহিদা মোতাবেক প্যাকেজ তৈরি করে নিতে পারেন। বেশিরভাগ এজেন্সিতে এই কাস্টোমাইজ করার সুযোগ রয়েছে। এভাবে আপনার নিজের পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নিজেই নিজের প্যাকেজ তৈরি করে নেয়ার সুবিধা হচ্ছে, আপনি নিজ দায়িত্বে গেলে যেমন আত্মতৃপ্তি পেতেন সেটাও পাচ্ছেন আবার এজেন্সি থেকে গেলে আসা-যাওয়া পুরো সময়টাতে সাহায্যকারী পাবেন। জেনে রাখা ভালো, কাস্টোমাইজ প্যাকেজে খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। প্ল্যানিং সুন্দর হলে এবং সম্পূর্ণ কাজ সুন্দরভাবে পালনের পর যে তৃপ্তি পাবেন, তা অমূল্য!

উদাহরণ হিসেবে আমার কাস্টোমাইজ প্যাকেজ সহজ করে লিখছি-

১. ১৫ রাতের প্যাকেজ(৭ রাত মক্কা, ৮রাত মদিনা)।

--এজেন্সিগুলোতে ৭, ১০ এবং ১৫ রাত/দিনের প্যাকেজ থাকে। অনেক এজেন্সি এই প্যাকেজের সময়কাল আসা-যাওয়া সহ হিসেব করে। আসা-যাওয়ার ২ দিন বাদ দিয়ে, কতো রাত থাকবেন? প্লেন ল্যান্ড কখন করবে? জেনে নিয়ে প্ল্যান করবেন। যেমন - প্লেন জেদ্দায় ল্যান্ড করলো বিকেলে/সন্ধ্যায়, মক্কায় পৌছে উমরাহ পালন শেষে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত চলে আসে। একেবারে ফজর পড়ে যখন রুমে যাবেন আপনার ১৫ রাতের ট্রিপের ১ রাত তখন পার হয়ে গেছে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, প্লেন সকাল সকাল ল্যান্ড করবে এমন ফ্লাইট ধরুন।

২.হোটেলঃঃ মক্কায় মক্কা মিলেনিয়াম(হেরেম ভিউ) আর মদিনায় মোবারক সিলভার(ফ্যামিলি রুম)।

--মক্কায় কাজ বেশি। তাই আমি হেরেমের কাছাকাছি থাকা পছন্দ করেছি। মদিনায় ২৫ নং গেট দিয়ে ঢুকে মহিলারা রওজা জিয়ারাতে যায়। খরচ ব্যালেন্স করতে আমি মদিনাতে ৩ স্টার মানের হোটেল নিয়েছি।

৩. জিয়ারাহঃঃ মক্কা-মদিনার রেগুলার জিয়ারাহ, তায়েফ, জেদ্দা (ওয়াদিয়ে জ্বিন, বদর নিজ খরচ)।

--জিয়ারাহ পয়েন্ট আমার মুখস্থ। তাই এজেন্সি থেকে গাইড দিতে পারবে না জেনেও আমার আপত্তি ছিলো না।

৪. ট্রানজিট ফ্লাইটঃঃ কুয়েত এয়ারলাইন্স(ম্যাক্সিমাম ৩ ঘন্টা ট্রানজিট)।

--ডিরেক্ট ফ্লাইট খরচ ১০,০০০ টাকা বাড়িয়ে দিবে। তাই খরচ কমাতে ট্রানজিট ফ্লাইট নিয়েছিলাম। যদি ট্রানজিট ফ্লাইটে যেতে চান তাহলে ট্রানজিটে কতো সময় লাগবে অবশ্যই জেনে নিবেন।

৫. ট্রান্সপোর্টেশনঃ জেদ্দা-মক্কা হোটেল (সরকারি বাস), মক্কা-মদিনা(প্রাইভেট), মদিনা হোটেল-মদিনা এয়ারপোর্ট(প্রাইভেট)। সব জিয়ারাহ প্রাইভেট গাড়ির সুবিধা।

--নিজ দায়িত্বে উমরাহতে গেলে নিজের পছন্দ মতো গাড়ি ভাড়া করে নেয়ার সুযোগ থাকে আবার এজেন্সি থেকে গেলে মাইক্রোবাস বা মিনিবাসে গ্রুপ জিয়ারাহ করায়। আমি আমাদের সুবিধার জন্য প্রাইভেট ট্রান্সপোর্ট চাচ্ছিলাম।

৬. উমরাহ পালনের জন্য মোয়াল্লেম বা গাইড।

৭. খাওয়ার ব্যবস্থা নিজেদের।

ভিসা খরচ ও সার্ভিস চার্জসহ আমার প্যাকেজের মূল্য দাঁড়ায় জনপ্রতি এক লক্ষ তিন হাজার টাকা। খাওয়া, বদর-ওয়াদিয়ে জ্বিন ভ্রমণ , শপিং খরচ আলাদা। পরিশেষে লিখতে চাই, স্টাডি করুন। বিভিন্ন মাধ্যমের তথ্যগুলো তুলনা করে দেখুন আপনার জন্য কোনটা সঠিক। কোন পথে এগিয়ে গেলে আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে তা কেবল আপনিই নির্ধারণ করতে পারেন।



জাজাকাল্লাহ খাইরান



ছবি- নেট

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×