somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পলাশীকেই যেন দেখলাম আবার ঢাকার পিলখানায়

২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পলাশীকেই যেন দেখলাম আবার ঢাকার পিলখানায়
- ড. মঈনুল আহ্সান

বাংলার মাটি সোনার চাইতেও খঁটি। এই মাটিতে শুধু চোখ ধাঁধাঁনো ফসলই ফলে না সাথে জন্মায় আগাছাও। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রতিরোধ্য আগাছা ছাপিয়ে উঠতে পারে ফসলকে যদি না সময় মত নিড়ানী পড়ে জমিতে। মাটির এই অলৌকিক উর্বরতার সুযোগেই বোধহয় এখানে পাশাপাশি জন্মেছে এবং বেড়ে উঠেছে বিশ্ব কাঁপানো দেশপ্রেমী মুক্তিসংগ্রামী আর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরেরা। শক্ত হাতে জমির আগাছা পরিষ্কারে যেমন দরকার হয় কর্মনিষ্ঠ কৃষক তেমনি শপথ ভঙ্গকরী বিশ্বাস ঘাতকদের মূলোৎপাটনেও বিকল্প নেই সুদক্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের। সমূলে আগাছার বিনাশকে যেমন কেউ পরিবেশ পরিপন্থী বলে না তেমনি মীর জাফরদের নিধনকেও কোন সুস্থ বিবেক মানবাধিকারের লংঘণ বলতে পারে না। বরং দেশ ও জনগনের স্বার্থে একেবারে অঙ্কুরেই এসব আগাছার নিধন জরুরী। তাই গত পঁচিশে ফেব্রুয়ারী রজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে প্রকাশ্য দিবালোকে সর্বজন সমক্ষে যেসব মীর জাফরীয় প্রেতাত্মারা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ধংসযজ্ঞ চালিয়ে হত্যা করেছে দেশের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তাদের জন্য কোন মানবাধিকার প্রযোজ্য হতে পারে না। এই হায়েনারা শুধু তাদের অফিসারদেরকেই হত্যা করেনি সেইসাথে হত্যা করেছে আমার মত লক্ষ কোটি বাংলাদেশীর চিত্তের যাবতীয় সুখ, শন্তি আর সুস্থতাকে। সেই উন্মত্তা শুরুর মূহুর্ত থেকে আমাদের প্রবাসী জীবন হয়ে পড়েছে ইন্টানেট ভিত্তিক। রূদ্ধ নিশ্বাসে চোখ রাখছি ঘটনার অণুপুঙখ বিবরণী আর বর্ণনার উপর। ঘটনাক্রম অণুসরন করতে গিয়ে অণুভব করছি ইতিহাসে পড়া পলাশীই যেন আবার নব উদ্যামে তাড়া করছে আমাদেরকে। ভেবে পাচ্ছি না বিশ্ব শান্তিতে নোবেল বিজয়ী আর হাজারো বুদ্ধিজীবীর এই দেশে কিভাবে নিরাপদে বারবার গজিয়ে উঠচ্ছে এত সহস্র মীর জাফরেরা। কেন আমাদের রাস্ট্রের কর্ণধার ‘কৃষকে’রা বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন সময়মত এইসব আগাছা-পরগাছার মূলোৎপটনে।
ঘটনার পূর্বদিন ছিল বাৎসরিক প্যারেড। এরকম প্যারেডের জন্যে সাধারনত প্রস্তুতি নেয়া হয় কয়েক সপ্তাহ ধরে। প্রস্তুতির এই সময়টাতে প্রয়োজনের তাগিদেই আফিসার আর জওয়ানদেরকে আনেকটা সময় কাটাতে হয় একত্রে ।আনেক ক্ষেত্রে নাওয়া-খাওয়াও করতে হয় এক সাথে । এহেন আবস্থায় সৈনিকদের সমান্য আস্বাভাবিকতাও কি নজরে পরেনি কোন আফিসারের ? তবে কি সেনা কর্মকর্তারা এডি, ডিএডির মত মাধ্যমের কারণে নিজেদের অজান্তেই দূরত্ব সৃষ্টি করেছিলেন সৈনিকদের সাথে?
আমাদের বিডিআর ছিল অসংখ সীমান্ত যুদ্ধে জয়ী অজেয় বাহিনী । নিয়ত পরাজিত এবং পর্যুদস্ত পক্ষ যে যুদ্ধে না পেরে অন্য কোন কূট কৌশলে এই বহিনীকে ধ্বংস করতে চাইবে তাকি আমাদের সামরিক কর্তারা কখনও ভাবেননি? ভেবে থাকলে সে লক্ষ্যে বিডিআর-এর সর্বস্তরে যথাযথ সতর্কতা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল কি? যে বিপর্যয় ঘটে গেল এবং এখন বিডিআর সম্বন্ধে যা জানতে পারছি তাতে স্পষ্টতঃই মনে হচ্ছে যে বহিনীটির আভ্যন্তরীন সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিস্তর ত্রুটি ও গাফিলতি ছিল। বলা হচ্ছে বিডিআর-এর গোয়েন্দা ইউনিটই করছিল আসল বিশ্বাসঘাতকতা। কিন্তু দেশেতো আরও আনেক গোয়েন্দারা আছেন, তারা সব কোথায় ছিলেন? এর আগে দেশব্যাপী যখন জঙ্গী বোমাবাজী হয়েছে তখনও আমাদের গোয়েন্দারা ছিলেন অন্ধকারে। এসব বড় বড় ঘটনাবলীর সাথে শত শত দুর্বৃত্ত জড়িত থাকার পরও ঘটনার আগাম তথ্য জানতে না পারাটা গোয়েন্দাদের শুধু ব্যর্থতা নয় বরং এজন্যে তারা ঐসব দুষ্কৃতিকারীদের মতই সমান অপরাধী।তাই এধরনের জাতীয় বিপর্যয়ের পুণরাবৃত্তি রোধে দুর্বৃত্তদের সাথে সথে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ঠ গোয়েন্দাদের জন্যেও কোর্ট মর্শালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শস্তি নিশ্চত করা প্রয়োজন ।
বিডিআর উন্মত্ততা দমনে সামরিক বনাম রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে প্রচুর ।রাজনৈতিক সমাধান সঠিক প্রমাণ করতে সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে পঁচিশের সকালে বিডিআর সদরে মওজুদ মারনাস্ত্র এবং সামরিক অভিযানের কল্পিত ধ্বংস তালিকা। ওদিকে ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্তকরী দল নিশ্চিত করেছেন যে অস্ত্র লুট করতে দুর্বৃত্তদের সময় লেগেছিল প্রায় তিন ঘন্টা ।প্রশ্ন হচ্ছে এই তিন ঘন্টাই কি যথেষ্ট ছিলনা কম্যান্ডো অভিযানের জন্য? সেনাপ্রধানসহ দেশের সমরবিদরা কি জানতেন না বিডিআর অস্ত্রাগার কত বড় আর সেখান থেকে অস্ত্র বের করে প্রস্তুত হতে লুটেরাদের কত সময় লাগতে পারে? বিডিআর সদরে সৈন্য মোতায়নে প্রায় দুই ঘন্টা সময় চেয়েছিলেন আমাদের সেনাপ্রধান, এ কথা সরকার প্রধান নিজেই বলেছেন। কিন্তু রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এরকম আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশাল সেনা বহর কেন, প্রথমতো আসবে সব সময়ের জন্য সদা প্রস্তুত কম্যান্ডো ইউনিট আর তাদেরতো আসার কথা হেলিকপ্টারে। সেক্ষেত্রে সাভার থেকে আসলেও তো তাদের পনেরো মিনিটের বেশী সময় লাগার কথা নয় ।তাহলে দুই ঘন্টা সময় চাওয়া হলো কেন? এটা কি আকর্ষিক কোন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর প্রস্তুতিহীনতা নির্দেশ করে না? তাই যদি হয়, তাহলে তো বলতে হবে দেশ ও জাতি হিসেবে আমরা একেবারেই অরক্ষিত এবং নিরাপত্তাহীন।
শুধু তাই নয় কাংখিত সেনাবাহিনী যখন এলো তখন তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি লাইভ প্রচারিত হচ্ছিল টিভি চ্যানেলগুলোতে। কম্পিউটারের পর্দায় সেনা প্রস্তুতি দেখছিলাম আর মহাবিস্ময়ে ভাবছিলাম, শত্রুকে দেখিয়ে দেখিয়ে কেউ কি কখনও যুদ্ধ প্রস্তুতি নেয়?
এই বাংলাদেশেই আমরা বহুবার দেখেছি যে কোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রেডিও, টিভির নিয়মিত প্রচার বন্ধ করে সার্বিক অবস্থার উপর ক্ষণে ক্ষণে বিশেষ বুলেটিন প্রচার করতে। অথচ পঁচিশে ফেব্রুয়ারীর ভয়াবহ সেই যুদ্ধাবস্থাতে এই প্রথমবারের মত দেখলাম তার ব্যতিক্রম। আরও দেখলাম হাজরো জনতার ভীর সামলে অবস্থান নিচ্ছে আর্মি। দুই-তিন মাইল ব্যাসার্ধ্য জুড়ে কারফিউ দিয়ে আর্মি আপারেশনের ক্ষেত্র তৈরী করে দেয়ার অতি সাধারন পদ্ধতিটাও এক্ষেত্রে উপেক্ষিত থেকেছে অতি বিস্ময়কর ভাবে।অথচ এই কারফিউ দরকার ছিল সাধারন মানুষের জান-মাল রক্ষার জন্যেও। কারণ বাহিরের জনগণ দ্রুত হতাহত হচ্ছিল সদরের ভেতর থেকে ছোঁড়া গুলিতে। অতঃপর যেটা বিস্মিত করেছে তা হলো দেশব্যাপী মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু রাখা। অথচ অতি সমান্য কারণেও এই নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার ভুড়ি ভুড়ি উদাহরন আছে আমাদের দেশে। এখন বলা হচ্ছে বিডিআর উচ্ছৃঙ্খলতা ছড়িয়ে পরেছিল ঢাকার বাহিরেও। এটা কি এমনিতেই ছড়িয়ে পরেছিল? নিয়মিত রেডিও, টিভি আর মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু রেখে খুব ঠান্ডা মাথায় একান্ত উদ্দেশ্যমূলক ভাবেই যে সেই খুনী উন্মত্ততা দেশব্যাপী ছড়ানো হয়েছিল সেটা বললে কি খুব ভুল বলা হবে?
রেডিও, টিভির বুলেটিনের মাধ্যমে উচ্ছৃঙ্খল সৈনিকদেরকে আদেশ, নির্দ্দেশ অথবা সমঝোতার প্রস্তাবনা না দিয়ে কেন যে তা হ্যান্ডফোন আর মেগাফোনে করা হলো তা একেবারেই বোধগম্য নয়। এক্ষেত্রে রেডিও, টিভিই কি অধিক কার্যকর হতো না? প্রধানমন্ত্রীর ছব্বিশের টিভি বক্তৃতা কি তাই প্রমান করে না? তা হলে কি বুঝতে হবে সব জেনে শুনে খুব সচেতন ভাবেই মেগাফোন নাটক করা হয়েছিল হত্যাযজ্ঞকে পূর্ণতা দেয়ার জন্য? নিয়ন্ত্রন মুক্ত হওয়ায় মিডিয়াতে মুন্নী সাহা বিডিআরদের সাক্ষাৎকার প্রচার করতেই পারে, অথচ তার জন্য তাকে দায়ী করা হয়েছে বাড়াবাড়ির দায়ে। উদোর পিন্ডি ভুদোর ঘাড়ে চাপানোর কি বিচিত্র প্রয়াস!
খুব বেশী দিনের কথা নয়, এই সংসদের শুরুতেই ড. ম খা আলমগীর সংসদে দাঁড়িয়ে আর্মি জেনারেলদেরকে ব্যঙ্গ করে ‘যুদ্ধ আভিজ্ঞতাহীন হাওয়াই জেনারেল’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিডিআর উন্মত্ততা দমনে তড়িৎ ও কার্যকর সমর কৌশল দেখিয়ে জেনারেলরা পারতেন সেই কটক্ষের মোক্ষম জবাব দিতে। যতদূর জানি এধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের সমর কৌশলের স্বপক্ষে রাজনীতিবীদদের প্রভাবিত করতে পারাটাও সেনাপতিদের কারিশমা ও দক্ষতার উপর নির্ভর করে।এজন্যে অবশ্য সেনাপতিদের হাতে কার্যকর ‘ওয়ার প্ল্যান’ থাকাটাও জরুরী।যেকোন জাতির শক্তি আর সাহসের উৎস তাদের সশস্ত্রবাহিনী। আমাদেরও তাই । সেজন্যে বিডিআর বিপর্যয়ে তাদের কাছ থেকে অন্তত লোকাল কারফিউ, ফোন জ্যাম, যুদ্ধকালীন মিডিয়া কন্ট্রোল এবং দুর্বৃত্তদের অজ্ঞাতে ক্ষিপ্র সেনা মুভ-এর মত বিচক্ষণ কর্মতৎপরতা আশা করেছিলাম। যেহেতু সমস্যাটা ছিল সামরিক তাই অপারেশনে যাবার সম্ভবনার পাশাপাশি সমঝোতা আলোচনাতেও যুদ্ধকালীন বন্দি বিনিময়ের মত কড়া দরকষাকষি দেখতে চেয়েছিলাম। ধারনা করেছিলাম প্রধানমন্ত্রীসহ বাঘা বাঘা রাজনৈতিক নেতা আর আমাদের স্টার জেনারেলরা উগ্র বিডিআর আলোচকদেরকে চাপে ফেলে বাধ্য করবে অন্তত নারী ও শিশুদের ছেড়ে দিতে। কিন্তু বাস্তবে যা দেখেছি তাতে সমগ্র দেশবাসীর মত অবাক এবং আশাহত হয়েছি আমরাও।
চলমান তদন্তসমূহের যতটুকু জানতে পারছি তাতে আমাদের হতাশা আর বিস্ময় উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। স্পষ্টতঃই মনে হচ্ছে বিডিআর-এর বিশাল অস্ত্র ভান্ডারের নিরাপত্তা ছিল অপর্যাপ্ত। এর আগেও ঢাকায় বিমান বাহিনী ও পতেঙ্গাতে নৌবাহিনীর অস্ত্রাগার লুটের ঘটনা দেশে ঘটেছে। সেসময়ও সমরবিদরা বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেছেন ‘সৈন্যরা অস্ত্রাগারের অস্ত্র পেলো কি ভাবে’? এত বছর পর তারা ঐ একই প্রশ্ন আবারও করছেন ।দেখা যাচ্ছে পুণঃ পুণঃ একই ঘটনা ঘটলেও বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রগুদামগুলোর জন্য কার্যকর কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি।দেখে শুনে মনে হচ্ছে আমাদের আশেপাশে দেশে দেশে ঘটে চলা দুর্ধর্ষ সব সশস্ত্র ঘটনাবলীর পরও আমাদের টনক নড়ে নি। প্রতিটা দেশে যে ভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী সশস্ত্র হচ্ছে তাতে সত্বর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে দেশের নিরাপত্তার জন্যে কৃষকের ঘাম ঝরা অর্থে কেনা যুদ্ধাস্ত্রগুলো হয়তো আমাদেরই মরণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে ।আস্ত্র ভন্ডারগুলোর যথাযথ নিরাপত্তার জন্যে দরকার হলে SSF বা RAB-এর অদলে সুদক্ষ ইউনিট গঠন করা যেতে পারে। তারপরও হয়তো এসব দলে ইনফিলট্রেশনের আশংকা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাব না।সেক্ষেত্রে এসব ইউনিটকে অনবরত পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও অসময়ে অবস্থান বদেলের উপর রাখা যায় কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে । এছাড়াও জেলখানাগুলোর মত অস্ত্রাগারগুলোতে পাগলা ঘন্টা বা এলার্ম সিস্টেম করা গেলে যেকোন অঘটনের মুখে তা আশেপাশের লোকজনদের জন্য দ্রুত নিরাপত্তা মূলক পল্টা ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হতে পারে।
এ পর্যন্ত প্রকাশিত রিপোর্ট-এর ভিত্তিতে একথা আজ নিশ্চত যে এই হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করা হয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। এ বিষয়ে বিশ্বাস ঘাতকদের বিভিন্ন সময়ের মিটিং-এর খবরও উদ্ঘাটিত হচ্ছে নিয়মিত। এ সব সংবাদের সূত্রধরে গত বছর শেষের দিকে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত মিসেস শাকিল সংক্রান্ত একটি রিপোর্টকে এখন পঁচিশের ঘটনার ফাইনাল টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছিল চার শত কোটি টাকা নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পথে মিসেস শাকিলকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল জিয়া বিমান বন্দর থেকে।এর দু-এক দিনের মধ্যেই ছাপা হয়েছিল বিডিআর সদরের প্রতিবাদ পত্র যেখানে বিগত এক মসের মধ্যে জেনারেল শাকিলের স্ত্রী তো দূরের কথা তাঁর কোন নিকট আত্মীয়ও এয়ারপোর্ট মুখী হননি বলে ঐ খবরকে উদ্ভট বলে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। ঐ রিপোর্টি কি তবে ছিল ঘাতকদের ফাইনাল গ্রাউন্ড ওয়ার্ক? এখন কেন যেন তাই মনে হচ্ছে। অথচ এত গুরুতর অভিযোগের পর ঐ বিষয়ে কোন পত্রিকাতেই আর কোন ফলোআপ চোখে পরেনি।ঐ খবরের উৎস সম্বন্ধে সাংবাদিক ও গোয়েন্দারা তখনই যদি অণুসন্ধান করতেন তবে হয়তো বিডিআর ধ্বংস ষড়যন্ত্রের আগম তথ্য পাওয়া যেত।
আমাদেরকে পলাশীতে টেনে নেয়ার ভয়ংকর এই ষড়যন্ত্রে দেশের চেনা আনেক মূখও যে জড়িত তা দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠচ্ছে দিবালোকের মত। এ ক্ষেত্রে সব চেয়ে রহস্যময় মনে হয়েছে ঘটনার আগের সপ্তাহ থেকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিরুদ্দেশ যাত্রা। এখন যত ব্যখ্যাই দেয়া হোক, তিনি যে আমেরিকা পলিয়ে এসেছিলেন পরিস্থিতি সাপেক্ষে লুকিয়ে থাকার জন্যে তা এদেশে প্রবাসী আমার মত সকলের কাছেই পরিষ্কার।এ ছাড়াও রহস্যময় মনে হয়েছে গাফ্ফার চৌধুরী নামক কলমবাজ ‘গাদ্দার চৌধুরী’র চলন-বলন। আর তাপস, নানক, আযম, মখা আলমগীর এবং ‘হার্ভার্ড গ্রেজুয়েট’ মি. জয়ের কথা তো এখন বিদেশী সাংবাদিকরাও বলছেন সবিস্তারে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এবং সত্য উদ্ঘাটনের প্রয়োজনে এদের প্রত্যেক জিজ্ঞাসাবাদ করা এখন সময়ের দাবী। দেশের ‘টিএফআই’ সেলে আপত্তি থাকলে আমাদের তদন্ত সহযোগী ‘এফবিআই’-কে দিয়ে হলেও এদের জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা করা উচিৎ।তবে জাতীয় এই বিপর্যয়ের তদন্ত কাজ হঠাৎ যে ভাবে দির্ঘায়িত করা হলো এবং পঁচিশের সকালে আক্রান্ত জেনারেল শাকিলের সাথে ফোনে কথা হওয়া সংক্রান্ত নিজের পূর্বতন বক্তব্য থেকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে সরে এসেছেন তা তীব্রতর করেছে আমাদের হতাশার অমানিশাকে। এরপরও আশা করবো সত্য প্রকাশিত হবে এবং আমরা দেশবাসী জানতে পারবো এ যুগের মীর জাফরদের নাম। আমার বিশ্বাস এতবড় প্রকাশ্য বেঈমানীর ঘটনা চাপা দেয়ার সাধ্য কারো নেই। যারা সে চেষ্টা করবে তারাও সন্দেহাতীত ভাবে গণ্য হবে মীর জফরদের দলভুক্ত হিসেবে। আর কে না জানে মীর জাফরদের পরিণতি।
কি করলে কি হতো সেসব তত্ত্ব ও বিতর্ক বাদ দিয়ে যখন দাঁড়াই বাস্তবের মুখোমুখী তখন কেবলই চোখে পড়ে রক্তাক্ত, বিধ্বস্ত বর্ডার ফোর্স আর নিরাপত্তাহীন বাংলাদেশ এবং
অনুভব করি শ্বাপদ বিশ্বাসঘাতকেরা এখনও ঘাড়ের উপর ফেলছে তপ্ত নিঃশ্বাস।
দায়িত্বশীল সব পক্ষ থেকে পুণঃ পুণঃ বলা হচ্ছে নতুন উন্নত বর্ডার ফোর্স গড়ে তোলার। বলা হচ্ছে সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান হওয়ায় দেশ বেঁচে গেছে নিশ্চিত গৃহযুদ্ধ থেকে। তাই যদি হয় তা হলে তো বলতেই হবে যে এই মূহুর্তের এই যুদ্ধহীন বাংলাদেশ এবং আগামী দিনের সুরক্ষিত সীমান্ত হলো বিডিআর বিপর্যয়ে নিহত মহান শহীদদের দান।কলসীর মুখে দেশের সেরা সন্তানদের রক্ত ঢেলে আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি আমাদের স্বাধীন অস্তিত্বের নিরাপত্তা। তাই এই বীর শহীদেরা দাবী করতেই পারেন আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী মহান মুক্তিযোদ্ধাদের সম মর্যাদা।এ ক্ষেত্রে যে কোন কার্পণ্য বা শৈথিল্য হবে অমার্জনীয় অপরাধ।
ইতিমধ্যে বিডিআর ডিজি পঁচিশের বর্বরতার স্মারক হিসেবে যাদুঘরের কথা বলেছেন। তিনি বস্তুতঃ ঐ দিনের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের কথা বলেছেন। আমাদের এই কৃতি অফিসারদেরকে যে রকম লোমহর্ষক বর্বরতায় হত্যা করা হয়েছে, যেভাবে তাদের মরদেহকে আসম্মানিত করা হয়েছে তাতে শুধু যাদুঘর করে স্মৃতি রক্ষাটা হবে নিতন্তই অপর্যাপ্ত।আমার মতে বিডিআর ডিজির আক্রন্ত বাড়ী এবং তিনটি গণকবরের স্থান একই সীমানায় নিয়ে গড়ে তোলা যেতে পারে জাতীয় শান্তি ও স্মৃতি উদ্যান (National Peace & Memorial Park)। পার্কের গণকবরের স্থনগুলো হবে একেকটা পুষ্পোদ্যান। প্রতিটিতে থাকবে সেখানে প্রথিতদের নামাংকিত মর্বেল স্তম্ভ, দেয়াল বা নাম ফলক। থাকবে স্ফটিক স্বচ্ছ শান্তি সরোবর। থাকতে পারে ঝরণাধারা যার ধীর গতি ও লয় দর্শক হৃদয়ের বেদনাকে সঙ্গী করে মিশবে গিয়ে সরোবরের পানিতে। আর ক্ষত-বিক্ষত ডিজির বাড়ী ধারন ও প্রদর্শন করবে মীর জাফরীয় বেঈমানী ও বিশ্বাসঘাতকতার নির্মম সব স্মৃতি। সেই সাথে পলাশীর মত পিলখানার ঘটনাকেও সংযুক্ত করা যেতে পারে আমাদের সামরিক ও বেসামরিক পঠ্যসূচীতে দেশপ্রেমের যথার্থ শিক্ষা ও চর্চার উদ্দেশ্যে।
এই হত্যাযজ্ঞে নিহত একজন দাবী রাখেন বিশেষ স্মরণের। তিনি হলেন সাধারন জনগনের অসাধারন হিরো কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর অনন্য সাধারন মেধা ও কর্মনিষ্ঠা দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন আমাদের দেশে সশস্ত্রবাহিনীর অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা। তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁর হাতে গড়া RAB-এর ইউনিটকে নামকরণ করা যেতে পারে ‘কর্নেল গুলজার’ ইউনিট হিসেবে। এছাড়া আত্মদানকারী অন্যান্য সেনানীদের নামানুসারে হতে পারে নতুন সীমান্ত বাহিনীর বিবিধ ইউনিট, কোম্পানী, ফরমেশন, প্যারেড গ্রাউন্ড ও ভবনসমূহের নাম।
স্মৃতি উদ্যান ও নতুন বাহিনীর সৃষ্টিতে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে দেশের আপামর জনতাকে। কাজে লাগানো যেতে পারে জনগণের দেশপ্রেম ও সশস্ত্রবাহিনীর প্রতি তাদের অদম্য ভালবাসাকে। সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদেরকে আহবান করতে পারেন পঁচিশের শহীদদের জন্য উৎসর্গিত ঐ মহৎ প্রকল্প সমূহে তাদের একদিনের উপার্জন উৎসর্গ করে স্বক্রিয় অংশগ্রহনের জন্য। আমার বিশ্বাস আর্মির মাধ্যমে ফান্ডের যথাযথ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয়া গেলে দেশবাসী শুধু একদিনের বেতন নয় বরং তাদের সর্বস্ব উজার করে অংশ নেবে এধরনের কাজে।
তবে সর্বপ্রথম দেশ ও জাতির স্বার্থে জাতীয় ভাবে এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে পঁচিশে ফেব্রুয়ারী এবং ঐ দিনের সব শহীদদেরকে। এ লক্ষে বর্তমান সংসদে সর্বদলীয় প্রস্তাবের মাধ্যমে পঁচিশে ফেব্রুয়ারীকে ঘোষণা করা যেতে পারে জাতীয় নিরাপত্তা ও শপথ দিবস (National Security and Oath Day ) হিসেবে।এটা কোন সরকারি ছুটির দিন হবে না। বরং এটা হবে একটা কর্ম মুখর দিন। প্রতি বছর এই দিন সকাল ১০- ৩০ টায় (হত্যাযজ্ঞ শুরুর নিকটতম সময়) সমগ্র জাতি, যে যখানে যে অবস্থায় থাকবে সেই অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে ডান হাতটাতে হৃৎপিন্ড চেপে উচ্চারণ করবে শপথের এই বাণীঃ

“ সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে সাক্ষী রেখে ওয়াদা করছি যে আমি আমার
জীবন ও কর্মকে নিঃস্বার্থ ভাবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সংহতি ও সমৃদ্ধির জন্যে উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত থাকবো। আমিন।“

পিলখানার জাতীয় শান্তি ও স্মৃতি উদ্যানে রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান, সব বাহিনী প্রধান এবং দেশের মান্যবর্গদের নেয়া এই শপথ ও শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান রেডিও, টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করে সমগ্র দেশবাসীকে খুব সহজেই এই প্রক্রিয়া ও অণুশীলনে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। নেতা থেকে কৃষক পর্যন্ত সর্বসাধারনের মাঝে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের উদ্জীবনে এই দিন ও এই দিনে শাহাদাৎ বরণকারীদের সশ্রদ্ধ স্মরণ বাংলাদেশের জন্য হতে পারে ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর, এবং ২১শে ফেব্রুয়ারীর মতই এক মাইল ফলক।

এদিনের অবশ্য করণীয়র মধ্যে আরও অন্তর্ভূক্ত হতে পারে বিভিন্ন শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীগুলোর সমন্বিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা মহড়া। দেশের সব অস্ত্রাগার, ঝুঁকিময় স্থাপনাসমূহ এবং বৃহৎ ভবনগলোতে হতে পারে বিশেষ নিরাপত্তা অনুশীলন ও পর্যালোচনা। বাহিনীসমূহের বিভিন্ন ফরমেশন আধিনায়করা ঝালাই করে নিতে পারেন সৈনিক ও অধিনস্তদের সাথে তাদের সম্পর্ক। অধিনস্তদের অভাব, অভিযোগ ও মতামত জানার জন্য এদিন তাদের কাছ থেকে আহবান করা যেতে পারে অণুযোগ পত্র। পত্র লেখককে নির্ভয় দেয়ার জন্য এসব চিঠি নামহীন ও আড়ালে সংগৃহীত হতে পারে। হাতের লেখা থেকে পরিচয় প্রকাশের শংকা থাকলে অফিসের কাজের ধরনের উপর ভিত্তি করে সাধারনভাবে অনুমিত অভিযোগসমূহের ছাপানো ফরম বিলি করে তাতে টীক চিহ্ন দেয়ার মাধ্যমেও মতামত জানার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সততা, সত্যবাদিত, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে আণুকরনীয় অবদানের জন্যে এদিন নির্বাচিত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি ও সংস্থাকে বিশেষ নিরাপত্তা পদক ও পুরষ্কারে ভূষিত করা যেতে পারে। এসব পদকের নামকরণ হতে পারে এই দিনে আত্মদানকারী বীর সেনানীদের নামে।
মোদ্দা কথা পঁচিশে ফেব্রুয়ারীর জাতীয় দিনটি হবে এমন একটি দিন যে দিন বিশ্ববাসীর কাছে আমরা তুলে ধরবো জাতি হিসেবে যে কোন হত্যা, খুন, রক্তপাত আর ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে আমাদের ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য ও সদা প্রস্তুতিকে। আর এটাই হবে পিলখানাকে পলাশী বানানোর চক্রান্তকারীদের জন্য আমাদের উচিৎ জবাব এবং এতে করে হয়তো কিছুটা হলেও শোধ হবে ২৫শে ফেব্রুয়ারীর শহীদদের রক্তের ঋণ।।

ইউনভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোরনিয়া
লস্ এঞ্জেলেস, ইউ এস এ
[email protected]
এপ্রিল ০২, ২০০৯
=============================================




































সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×