somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রশিদের এক দুপুর

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রশিদের কপাল চুয়ে ঘাম জড়ছে।তার হাফহাতা শার্টটাও ঘেমে ভিজে একাকার।পিচডালা পথ রোদের তীব্রতায় যেন উত্তপ্ত ফুলকি।পা ঘেমে জুতো কেমন
আঠা আঠা হয়ে যাচ্ছে। সূর্যটা ঠিক মাথার উপরে। আজ রোদের তীব্রতা অন্যান্য দিনের থেকে একটু বেশিই মনে হচ্ছে ।
যাকে বলে কাঠফাটা রোদ।বাড়িতে লোপা একা আছে ।ঘরে রান্না করার মত তেমন কিছু নেই।পকেটের টাকাও ফুরিয়ে এসেছে।
যা ছিল গত কয়েকদিনেই শেষ। নতুন
সংসার গোছাতে গেলে কত কিছুই
তো দরকার।কিন্তু ....।একটা দীর্ঘশ্বাস
বেরিয়ে গেল।এই দীর্ঘশ্বাসের শেষ
কোথায়? এই ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাসের
সমাপ্তি রশিদ দেখতে পায় না।

দুজনের সংসার।রশিদ পিয়নের চাকুরী করে।
রোজ দুপুরে সে নিয়মকরে লাঞ্চ করতে আসে।ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে তার বাসায় কাছিঝুলিতে হেটে আসতে সময় লাগে পনের মিনিট। রিক্সায়
আসলে আরো কম সময়ে আসা যায়।কিন্তু
সে হেটেই আসে।তাতে তার রিক্সা ভাড়াটা বেচে যায়।অভাবেরসংসারে এই বেচে যাওয়া টাকাটা সামান্য হলেও,তার কাছে অনেক।এই অল্প টাকায় ফুটপাত থেকে রেশমি কাচের চুড়ি ,খয়েরী লিপস্টিক নিয়ে লোপার হাতে দিলে লাজুক
কন্ঠে বলবে কি দরকার ছিল টাকাগুলো নষ্ট করার?
বিয়ের চুড়িগুলো তো দিব্যি নতুনই রয়ে গেছে।

টাউনহলের মোড়ে পাশে চায়ের দোকান
থেকে একঝাটকা ময়লা পানি এসে তার
সারা শরীর ভিজিয়ে দিল।আর সংবিত
ফিরে রশিদ রাগান্বিত স্বরে বলে উঠল।ওই
শ্যালা দেইখা পানি ফেলতে পারস না। চোখ কই রাখস?মামা ভুল হইয়া গেছে।চায়ের দোকানদার গামছা দিয়ে তার শরীর মুছে দিতে চাইল।রশিদ ঝাটকা দিয়ে হাত সরিয়ে বলল আর দরদ দেখাইতে অইব না।
দিছসতো জামাকাপড়ের বারোটা বাজাইয়া।য্যা শ্যালা,বলে রশিদ হাটা দিল।শ্যালা চায়ের দোকানদার মেজাজটাই খারাপ করে দিল।গেইটের কড়া নাড়া দিল
সে।একবার, দুইবার,তিনবার। কিন্তু ভিতর
থেকে গেইট খোলার কোন সারাশব্দ
নেই।সব মরছে নাকি আজকে।এই
ভরদুপুরে ভিতর থেকে গেইট লাগিয়েই
রাখতে হবে কেন? লোপা গেইট
খুলে দিল।তুমি !মিলন কই।মিলন বাড়ি গেছে?
মিলন বাড়িওয়ালা ফিরোজ সাহেবের কাজের ছেলে গ্রামে থাকত কয়েকদিন যাবত এসেছে।ফিরোজ সাহেবের দুই
নাতীকে স্কুলে আনা নেওয়া আর
বাজারসদাই করে।
আপনার শরীরের এই অবস্থা কেন?
আর কইও না শ্যালার চায়ের
দোকানদার পানি ফেলতে গিয়া ভিজাই দিসে।দেখে নাই।দেখলে কি আর
গায়ে ফেলত?গামছাটা দেও গোছল
কইরা আহি।


গা মুছে এসে দেখে লোপা ভাত
নিয়ে বসে আছে।কি রান্না করেছ।
চিংড়ি মাছ দিয়ে লাউ
রান্না করেছি।বাজার তো ছিল না।
মিলনরে দিয়ে আনাইছি।
টাকা পাইলা কই?
মাথা নামিয়ে লোপা বলল আমার
কাছে ছিল।আপনি মাঝে মাঝে দিতেন সেই
টাকা।রশিদ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
এইমেয়েটা কত অল্প সময়েই
সংসারটা গুছিয়ে নিচ্ছে? কত আপন
করে নিয়েছে?
তুমি খেয়েছ?
আমি আপনাকে ছাড়া খাব
কেমনে?
কেমনে খাব মানে।
ক্ষুদা লাগলে খাবা না।খেয়ে নিবা।
তা কি হয়?হয় না মানে খেয়ে নিলেই
হয়।খেয়ে নিবা।
কি অদ্ভুত টান?
একজন খাবে না বলে আরেকজন খাবার
নিয়ে অপেক্ষা করবে।কি সরল
স্বীকারোক্তি আপনাকে ছাড়া খাব
কেমনে? অথচ গত দুই মাস আগেও
তারা একে অপরকে জানত না।চিনত
না পরস্পরকে।অল্পকটা দিনেই
তারা অপার সম্পর্কে জড়িয়েছে তারা।কি নিরন্তর টান?
এই সম্পর্কের রহস্য কি?এর উৎস কি?রশিদ
ভেবে কুল পায় না।একই ছাদের
নিচে বসবাস করলেই কি এমন হয়?
বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেই
কি এমটা অনুভূত
হয়?সকল নব দাম্পত্য জীবনেই কি হয়?
নাকি শুধু সম্পর্কের শুরুতেই হয়?দীর্ঘদিন
এমন সম্পর্কের ভিতর
দিয়ে গেলে কি এই
টান ফিকে হয়ে যাবে?এতসব প্রশ্নের
উত্তর তার জানা নেই।হয়তো লোপারও
জানা নেই।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৩


৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

একটি সরকার পতনের দিনকে আমরা কীভাবে পড়ব- জনতার বিজয় হিসেবে, নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার নেপথ্যে ঘটে যাওয়া এক জটিল ক্ষমতা- হস্তান্তর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×