somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হঠাৎ দেখা

১৫ ই মে, ২০১৫ দুপুর ১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ ।দিনটি ছিল
বৃহস্পতিবার। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।
আবছা অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে দূর
গায়ের লোকালয়।।শহরের নিয়ন
বাতিগুলো জানিয়ে দিচ্ছে রাতের
আগমন। বাংলা একাডেমীরর
অপোজিটে সোহরোয়ার্দী উদ্যানের
গেইট দিয়ে ভিতরে ঢুকে হেটে হেটে
বইমেলার গেইটের দিকে যাচ্ছি।


বইমেলায় ঢুকেই তো আমি পুরা থ।
এ কি দেখছি আমি?
আমার সামনে বিশাল সাইজের একটা
বইয়ের উপর আরেকটা বই এমনভাবে
সাজিয়ে রাখা হয়েছে যেন একটা
ভাস্কর্য ।দেখে খুব ভাল লাগল।ভাবলাম
ঐখান গিয়া
একটা পিক তুলি।আমার আগেই একটি
তরুণী এসে সেল্ফি তুলতেছে।তরুণীর
চুলের কাটিংটা ছিল বব কাটিং
স্টাইল যার জন্য আবছা আলোতে তাকে
সুন্দর দেখাচ্ছিল। আমি সামনে এগুতেই
মনে হল আমি মেয়েটাকে চিনি।
দেখেছি কোথাও হয়তো?
অবশ্য সুন্দরী মেয়ে দেখলেই আমার
পরিচিত
পরিচিত মনে হয়।
এমনটা ভাবতেই দেখি মেয়েটাও
আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
কি অদ্ভুত?
তবে কি মেয়েটাও আমাকে চিনে?


যাইহোক সামনে এগুতেই মেয়েটা বলল,
ইউ?
UCC কোচিং সেন্টার। মোহাম্মদপুর।
নামটা যেন কি?
আমি বললাম, বাকী।
মেয়েটা হাতে তুরি বাজিয়ে
বলল,ইয়েস বাকী।
আমি লাবণী। মনে পড়েছে।আমি
বললাম হুম।মনে পড়েছে।
-তো কেমন আছ?
-আমি ,ভাল আছি।তুমি?
-আমিও ভালই আছি?
-এখন কোথায় আছ,বাকী?
-কুমিল্লায়। কুমিল্লা
ইউনিভারসিটিতে?
-ও আচ্ছা।
-তুমি কোথায়?
-ড্যাফোডিল এ।সিএসই।
আচ্ছা বাকী ,তুমি কি আমাকে
চিনতে পেরেছিলে প্রথম?
-না ঠিক চিনতে পারি নাই।তবে
দেখে পরিচিত মনে হচ্ছিল।
-তবে প্রথমে কথা বললে না কেন?
-না,ভাবলাম যদি আবার অপরিচিত হও।
তাই আর কি?আবার কি না কি ভাববে?
-ও আচ্ছা। তাই বলো। তোমার কি বইটই
কেনা হয়েছে?
-না।আমিতো মাত্র ঢুকলাম।
-ও,আমি অবশ্য দুই তিনটা কিনেছি।চল
হাটতে হাটতে কথা বলি।
-ওকে চল।
-আচ্ছ।বাকী,তুমি কিন্তু আগের মতোই
আছ।
-আমি আমার চিরায়ত সেই মুচকি হাসি
দিয়ে বললাম। যেমন?
-যেমন তুমি আগের মতোই চুপচাপ।
কথাবার্তা কম বলো।একটু লাজুক
টাইপের আর কি?
-কথা বলতে বলতে আমরা প্রথমে সময়
প্রকাশনীর সামনে চলে আসলাম।
লাবণী বলল,তোমার কি লিস্ট আছে
বইয়ের।
-হুম।আছে।সময় প্রকাশনী থেকে জাফর
ইকবাল স্যারের ‘সেরিনা'এবং
আয়েশা ফয়েজ এর ‘জীবন যে রকম' বইটা
নিলাম।তারপর আমরা প্রথমা প্রকাশনীর
দিকে হাটা দিলাম।আর টুকটাক কথা
বলে দুজন দুজনের খোঁজখবর নিচ্ছি।প্রথমা
প্রকাশনী থেকে আমি আনিসুল হকের
‘বিক্ষোভের দিনগুলোতে প্রেম' আর
লাবণী সেলিনা
হোসেনের‘দিনকালের
কাঠখোড়' বইটা নিল।তারপর হেটে
হেটে স্টলগুলো ঘুরছি।আর কথা বলছি।
-আচ্ছা বাকী,তোমার কি কোচিং এর
দিনগুলোর কথা মনে পড়ে।
-হ্যা, পড়ে মাঝে-মাঝেই।
-তুমি থাকতে মোহাম্মদপুর শেকেরটেক
১ এ আর আমাদের বাসা ছিল সূচনা
কমিনিউটি সেন্টারের পিছেনে।তখন
কিন্তু বাকী তোমার সাথে আমার
কথা বেশি একটা হত না।তুমি অবশ্য
একটা ভাব নিয়ে থাকতে।কথা কম
বলতে।এখনও অবশ্য ভাব কমে নি তোমার।
আমি এত এত কথা বলে যাচ্ছি আর তুমি
হু,হ্যা,হুম করেই কাটিয়ে দিচ্ছ।কোচিং
এর অন্য কারো কথা এখনও জিজ্ঞেস কর
নাই।তোমার কি আশিক,
মিলি,জেনিফার, রাতুল ওদের সাথে
কমিউনিকেশন আছে।
-না।কারো সাথেই যোগাযোগ নাই।
আশিকের সাথে প্রথম কিছুদিন ছিল।ও
সেকেন্ড টাইম দিয়ে জগন্নাথ এ আছে।
পরে অবশ্য আমি আর যোগাযোগ করি
নাই।এই আর কি?
-তুমি মিয়া বাকী মানুষটাই কেমন যেন
বিরক্তিকর?
-এত ইনট্রোবার্ট কেন?হোয়াই ম্যান?একটু
ইজি হতে পার না।আমি বুঝতে পারছি
তুমি আমার সাথে থাকতেও আনইজি
ফিল করতেছ।
-আমার সেই মুচকি হাসি।আমি এমনই।
কিছু মানুষ এমনই হয়।


-বইমেলা ঘুরে হাটতে হাটতে আমরা
শাহবাগের দিকে যাচ্ছি।এর ফাকে
ফেইচবুক আইডি ও ফোন নাম্বার
আদানপ্রদান হল।
শাহবাগে এসে লাবণী ফুচকার
দোকানে বসার জন্য বলল।আমরা ফুচকা
খাচ্ছি।
-ঢাকায়,কবে এসেছ বাকী?
-আজকেই।
-উঠেছ কোথায়?
ফার্মগেট, মামার বাসায়।
-থাকবে কতদিন?
পহেলা ফাল্গুন পর্যন্ত আছি।
-ও ,কেউ আছে নাকি?
-মানে!
-মানে বোকামানব। কেউ আছে নাকি
যার সাথে ফাল্গুনের প্রথম দিন
কাটাতে এসেছ?
-না।কেউ নেই।থাকলে আজকেই আমার
সাথে দেখতে।এখন অবশ্য তুমি আছ।
-এইতো বোকামানবের মুখে কথা
ফুটেছে।
আমি ফুচকার বিল দিতে গিয়েও ব্যার্থ
হলাম।
-বাকী তুমি কি কাল আসবে?
-হ্যা,কালও আসব পরশুও আসব।
-আচ্ছা, আমিও আসতে পারি ।
-আসলে ফোন দিও।
-ওকে ম্যান।


শাহবাগ মোর থেকে লাবণী বাসে
উঠে চলে গেল।কিন্তু কিছু একটা
রেখে গিয়েছিল। কিছু অনুভূতি। আরো
কিছু হয়তো। হয়তো না।
আমিও একটা বাসে উঠে মামার
বাসায় চলে আসলাম।
রাতে ওর সাথে অনলাইনে চ্যাট হলো।
অনুভূতিগুলো আকাশ ছুয়ে গেল।
নিয়নবাতির আলোতে আলোতে
মিশে রইল।

আমি অফলাইনে যতটা অপ্রতিভ।
অনলাইনে ঠিক ততটাই সপ্রতিভ।


পরেরদিন বইমেলায় যাওয়ার গল্প।
পহেলা ফাল্গনের গল্প।এবং UCC তে
কোচিং এর সময় মোহাম্মদপুর এর তাজমহল
রোড,কৃষিমার্কেট , জাপান গার্ডেন
সিটিতে ঘোরাঘুরির গল্প। রাজপথে
পাশাপাশি হাটার গল্প আরেকদিন
হবে।
কোচিং করার সময় লাবণী আমার বন্ধু
ছিল।
আর এখন?
বন্ধু থেকে যদি ধারুন কিছু হয়।তাহলে ,
হোক না।তাতে কি?হোয়াট এবার।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৩


৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

একটি সরকার পতনের দিনকে আমরা কীভাবে পড়ব- জনতার বিজয় হিসেবে, নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার নেপথ্যে ঘটে যাওয়া এক জটিল ক্ষমতা- হস্তান্তর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×