somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মশা নিয়ে জানা অজানা কিছু মজার মজার তথ্য ।

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




মশা যে কী প্রকারে পতঙ্গ, তা সকলেরই জানা। রক্তপায়ী এ পতঙ্গে বিরক্ত হননি এমন মানুষ আছেন বলে মনে হয়না। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, মশা ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস, মস্তিষ্কপ্রদাহ, হলুদ জ্বর, ডেঙ্গু জ্বর এবং পীত জ্বরের মত রোগের সংক্রামক।
আজ কে না জানে মশা ম্যালেরিয়ার বাহন? যার কারণে আমাদের এ তথ্যটি জানা সম্ভব হয়েছে, তিনি স্যার রোনাল্ড রস। মশা থেকে ম্যালেরিয়া আবিষ্কার করে ১৯০২ সালে স্যার রোনাল্ড রস নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। আমাদের রক্তের লোহিত রক্ত কনিকার (লাল) মধ্যে প্রবেশ করে ম্যালেরিয়ার পরজীবি চষধংসড়ফরঁস ভধষপরঢ়ধৎঁস, যে ছয়টি ম্যালেরিয়ার পরজীবি মানুষের ম্যালারিয়ার কারণ তার মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়ানক। লোহিত রক্ত কনিকার মধ্যে ঢুকে এরা হিমোগ্লোবিনকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে এবং বংশবৃদ্ধি করে। একসময় কোয়ের পর্দা ছিড়ে বের হয়ে আসে অন্য লোহিত রক্ত কনিকাকে আক্রমন করতে। কত সাহেব-ই তো এসেছে কলকাতায়। রাতের পর রাত মশার অত্যাচারে তারা ছটফট করেছে বিছানায় পড়ে। কখনও ঘরময় ছুটে বেড়িয়েছে মশা- শিকারের ব্যর্থ-চেষ্টায়। কিন্তু পরিবর্তে এই ছোট্ট কীটটির মৃত্যু- কামড়ে শিকার হয়েছে নিজেরাই।



মুরদের চেয়েও ইংরেজরা বেশি ভয় করত মশাকে। মশা ছিল তাদের কাছে আতঙ্ক। কোকিল নিয়ে ইংরেজ কবিরা কবিতা লিখেছেন। কিন্তু ভারতে ইংরেজ কবির অন্যতম বিষয় ছিল সেদিন মশা
‘মশা’ নিয়ে কত কবিতা কত গানযে আছে ‘অ্যাংলো ইন্ডিয়ান’ সাহিত্যে তার ইয়ত্তা নেই। সবই হয়েছে গান, গালাগালি, মশারির উদ্ভাবন ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছু। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেটি সেটি হলো অনেক, অনেক দিন পরে। অবশেষে স্যার রোনাল্ড রস যেদিন কলকাতায় এলেন সেদিন। এনোফেলিস মশা যে ম্যালেরিয়ার জীবাণু দেহ থেকে দেহান্তরে বয়ে নিয়ে যায় রোনাল্ড রস-ই এই তত্ত্বটির আবিষ্কারক। মশা। খ্রিষ্টের জন্মের ২৭০০ বছর আগে চাইনিজরা তাকে চিনত। গ্রীক বীরেরা বার বার পরাজিত হয়েছে এ দানবের কাছে। শক্তিশালী রোমান সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ ছিল সে
মিশরীয় ইবার প্যাপিরাসে, সুমেরীয় কিউনিফর্ম ট্যাবলেটে, হিপোক্রেটিসের চিকিৎসা শাস্ত্রে,সংস্কৃত সুশ্রুতা’য়, শেক্সপিয়ারের অন্তত ৮টি নাটকে উচ্চারিত হয়েছে এ নাম না জানা শত্রুর কথা। জনশ্রুতি আছে আলেক্সান্ডার দ্যা গ্রেটের সৈন্য বাহিনীর সঙ্গে এটি ছড়িয়ে পড়েছিল পৃথিবীব্যাপী।



স্যার প্যাট্রিক ম্যানসন প্রথম জানান যে জীবাণু (এলিফেন্টিয়াসিস বা গোঁদ রোগ) মানুষকে আক্রান্ত করে সেটা মশার শরীরেও থাকে। ডা. রোনাল্ড রস স্যার প্যাট্রিক ম্যানসনের কাজের সূত্র ধরে ডা. চার্লস ল্যাভেরনের ম্যালেরিয়া জীবাণু কিভাবে মানুষের দেহে আসে সেটা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।
১৮৯৭ সালে এক এনোফিলিস মশাকে ব্যবচ্ছেদ করে মশার পাকস্থলিতে ম্যালেরিয়ার জীবাণু পান ডা. রস এবং পরবর্তিতে পাখির উপর গবেষণা করে প্রমাণ করেন ম্যালেরিয়া জীবাণুর জন্য মশা ইন্টারমিডিয়েট হোস্ট হিসেবে কাজ করে। ১৯০২ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরষ্কার পান।
আজ পৃথিবী থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলের জন্য যে কাজ চলছে তার ভিত্তি রচিত হয়েছিল ডা. রোনাল্ড রসের আবিষ্কারের মাধ্যমে।


মশা যেভাবে কামড়ায় : আশপাশে কোথাও উষ্ণ রক্তের উৎস বা খাবার রয়েছে তা দর্শন ইন্দ্রিয় ও অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বুঝতে পারে মশা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মশার ঘ্রাণ ইন্দ্রিয় প্রখর। প্রায় ১০ থেকে পঞ্চাশ মিটার পর্যন্ত দূর থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড শনাক্ত করতে পারে মশারা। খাবারের উৎস টের পেয়ে তারা হুল ফোটাতে বা কামড়াতে ছুটে আসে।গবেষকেরা বলেন, যতই কীটনাশক, সুগন্ধি বা মোমবাতি ব্যবহার করা হোক না কেন তবুও মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না কারণ মশার দর্শন, ঘ্রাণ ও তাপ বোঝার সক্ষমতা আছে। তারা যেকোনো ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে খাবারের উৎস সম্পর্কে টের পায়।


ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকদের দাবি, মশা যখন প্রখর ইন্দ্রিয় দিয়ে খাবারের ঘ্রাণ পায় তখন তারা দর্শন ইন্দ্রিয় ও অন্যান্য ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে কামড়াতে ছুটে আসে। ১০ থেকে পঞ্চাশ মিটার পর্যন্ত মশা শুধু কার্বন ডাইঅক্সাইডের ধোঁয়ার ঘ্রাণ পায়। এরপর যখন পাঁচ মিটারের কাছাকাছি আসে তখন খাবারের উৎসকে দেখতে পায়। এরপর আরও কাছে এসে শরীরের উত্তাপ বুঝে কামড় বসায়। এক মিটার দূর থেকেও শরীরের উত্তাপ টের পায় মশারা। অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, মশারা উষ্ণ বস্তু বেশি পছন্দ করে। এক হেল্থ সাময়িকীতে দেখা যায়, এ পর্যন্ত পৃথিবীতে ৩৫১২ প্রজাতির মশা দেখতে পাওয়া যায় এর মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ১১৪ প্রজাতির মশা ( নতুন আবিষ্কৃত কিউলেক্স মাইমেটিকাস সহ ) । সব মশা মানুষ কে কামড়ায় না বরং স্ত্রী কিউলেক্স ও স্ত্রী এনোফিলিস জাতীয় মশা বেশি কামড়ায় বা রক্ত পান করে। একটি মশার ওজন সাধারণত ২.৫ মিলিগ্রাম। মশা ১ থেকে ৩ মাইল পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে, যা ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২.৫ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে। ওরা প্রতি সেকেন্ডে ২৫০/৩০০ বার পর্যন্ত পাখা নাড়াতে পারে ( এর জন্য ঝাঁক বেঁধে মাশার দল কোথায় যেতে থাকলে আমরা খুবই ভয়ঙ্কর এক ধরনের আওয়াজ শুনতে পাই।
(ইন্টারনেট থেকে সংগ্রিহত )



সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:০৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×