somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টাই-ডাই প্রিন্টিং

০১ লা জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাপড় রং করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। যেমন- ব্লক প্রিন্ট, বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট। এর পাশাপাশি কাপড় রং করার অন্যতম জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে টাই-ডাই। বাঁধন পদ্ধতিতে কাপড় রং করাকেই টাই-ডাই বলে। এক্ষেত্রে কাপড়ের কোনো কোনো অংশ কুঁচকে নিয়ে সুতা দিয়ে বাঁধা হয়। ঐ অবস্থায় কাপড়টি রং-এ ডোবালে বাঁধা অংশে রং লাগতে পারে না। বাকি কাপড় রং-এ রঙিন হয়। এভাবে রং লাগা ও রং না লাগা অংশ মিলে একটা নকশা সৃষ্টি হয়। বাঁধনের মধ্যে অল্প রং চুঁইয়ে ঢুকে কিছুটা গাঢ় ও কিছুট হালকা রং- এ রঙিন করে তোলে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান

* স্থায়ী উপকরণ

উপকরণ পরিমাণ আনুমানিক মূল্য (টাকা) প্রাপ্তিস্থান
প্লাস্টিকের গামলা ১টি ৬০-৬৫ তৈজসপত্রের দোকান
এনামেল বাটি ১টি ২০-২৫ তৈজসপত্রের দোকান
চামচ (বড়) ১ টি ২০-২৫ তৈজসপত্রের দোকান
চা-চামচ ১টি ১০-১৫ তৈজসপত্রের দোকান
চুলা ১টি ১০০-১৫০ বানিয়ে নেয়া যায়
ওষুধের ড্রপার ১টি ১০-১৫ ফার্মেসী
হাঁড়ি (বড়) ১টি ১০০-১২০ তৈজসপত্রের দোকান
স্পঞ্জ ১টি ১০-১৫ ফার্মেসী
রাবারের দস্তানা ১ জোড়া ৫০-৫৫ ফার্মেসী
পেন্সিল ১টি ৫-৬ মুদি দোকান
রাবার ১টি ৫-৬ মুদি দোকান
সুঁই সুতা ১টি করে ১০-১২ মুদি দোকান
মোট=৪০০-৫০৯ টাকা

*কাঁচামাল
টাই-ডাই করার রঙ কেনার জন্য অল্প কিছু টাকার কাঁচামাল দরকার হয়। কাঁচামালের মধ্যে আছে প্রুশিয়ান রং, ডিটারজেন্ট, লবণ, ইউরিয়া, রেজিষ্ট সল্ট ইত্যাদি। এগুলো স্থানীয় রঙের দোকানে কিনতে পাওয়া যাবে।



টাই-ডাই করার নিয়ম

টাই-ডাই করার আগে কিছু কাজ করা প্রয়োজন।
* কাপড় মাড়মুক্ত করা
টাই-ডাই করার আগে কাপড় মাড়মুক্ত করে নিতে হবে। কাপড়ে মাড় থাকলে রং করতে অসুবিধা হবে। এলুমিনিয়ামের ডেকচিতে এক থেকে দেড় লিটার পানি নিয়ে ফুটাতে হবে। ফুটন্ত পানিতে এক চা চামচ সোডা গুলিয়ে নিতে হবে। এরপর সোডা মিশ্রিত পানিতে কাপড়গুলো দিয়ে ১০ মিনিট ভালভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে। এরপর কাপড়গুলো ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে চিপে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।

* কাপড় বাঁধা
কাপড়ের আয়তন অনুযায়ী ভাঁজ করে বিভিন্ন স্থানে বাঁধতে হবে। ভাঁজ করে বাঁধন দিলে নানান জায়গায় নকশা ফুটবে। বিভিন্ন ধরণের বাঁধনগুলো হলো ফুল বাঁধন, প্যাচানো ফুল বাঁধন, ডাবল ফুল বাঁধন,ডোরা বাঁধন, গুচ্ছ ফুল বাঁধন, মার্বেল বাঁধন, ভাঁজ করে বাঁধন, সেলাই করে বাঁধন, কোন জিনিস ঢুকিয়ে বাঁধা ইত্যাদি।

১. ফুল বাঁধন: কাপড়ের কিছু জায়গা আঙ্গুল দিয়ে উপরে ফুলিয়ে তুলতে হবে। এর গোড়ায় সুতা জড়িয়ে চওড়া একটা অংশ শক্ত করে বাঁধতে হবে। এই অবস্থায় কাপড় রঙে ডুবালে বাঁধা জায়গাটি রিং বা বৃত্তের আকারের সাদা থাকবে। একে ফুল বলা হয়। ফুলানো অংশ যত উচুঁ হবে ফুলও তত বড় হবে।

২. জিনিস ঢুকিয়ে বাঁধন: একই আকৃতি ও আকারের অনেক গুলো বাঁধন বাঁধতে হলে এর মধ্যে কাঠি, মার্বেল পাথর, শুকনা বিচি প্রভৃতি একই মাপের জিনিস ঢুকিয়ে তারপর বাঁধতে হবে।

৩. ডোরা বাঁধন: কাপড়ে পেন্সিল দিয়ে একটা রেখা টেনে নিতে হবে। এই রেখা বরাবর কুঁচি দিয়ে কাপড়টা ভাঁজ করে নিতে হবে। এবার লাইন বরাবর জায়গায় কুঁচিটা শক্ত করে বাঁধতে হবে। এই কাপড় রঙ-এ ডুবালে লাইন বরাবর সাদা একটা ডোরা পাওয়া যাবে। বাঁধনের জায়গা চওড়া হলে ডোরাও চওড়া হবে। যতগুলো ডোরা প্রয়োজন ততগুলো লাইন টেনে সেখানে এইভাবে বাঁধতে হবে।

* টাইডাই করার ধাপসমূহ :
১. প্রথমে ইচ্ছা অনুযায়ী কাপড়টি বাঁধতে হবে। একটা গামলায় ঠান্ডা পানি নিতে হবে। বাঁধার পর কাপড়টি গামলার পানিতে পাঁচ মিনিট ঢুবিয়ে রাখতে হবে। এর পর তুলে হালকাভাবে চিপে নিতে হবে।
২. একটা এনামেল বাটিতে কুসুম গরম পানিতে রঙ গুলিয়ে নিতে হবে। সাধারণত এক গজ কাপড়ের জন্য এক চা চামচ রঙ লাগে। একটা গামলায় পরিমান মতো ঠান্ডা পানি নিয়ে রঙ গোলা পানি মিশাতে হবে।
৩. এবার এই পানিতে কাপড় ডুবিয়ে ১৫ মিনিট নাড়াচাড়া করতে হবে। তারপর কাপড় গামলা থেকে তুলে নিতে হবে।
৪. কাপড় মোটা হলে এক চা-চামচ ইউরিয়া রঙের পানিতে মিশিয়ে কাপড় আরোও ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।

৫. এইভাবে তিন চা-চামচ লবণ রঙ মেশানো পানিতে মিশাতে হবে এবং কাপড় ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে। ইউরিয়া মেশানো হলে কাপড় ১৫মিনিট ডুবিয়ে রাখলেই হবে। এভাবে রঙ করার কাজ শেষ হবে।
৬. গামলা থেকে কাপড় তুলে পরিস্কার ঠান্ডা পানিতে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত কাপড় থেকে আলগা রঙ বেরুনো শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত কাপড় ধুতে হবে।
৭. এবার সাবধানে সুতলির বাঁধনগুলো খুলে নিতে হবে যাতে এক জায়গার রঙ অন্য জায়গায় না লাগে।
৮. সাবান মেশানো ফুটন্ত পানিতে কাপড় সর্ম্পূণ ডুবিয়ে ১০ মিনিট সিদ্ধ করতে হবে। সিল্ক বা উলের ক্ষেত্রে শুধু গরম পানি ব্যবহার করলেই হবে।
৯. কাপড় উঠিয়ে ঠান্ডা পানিতে কয়েকবার ধুয়ে ছায়ায় মেলে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকানো কাপড় ইস্ত্রি করতে হবে।

*ড্রপার থেকে রঙ ফেলে রঙ করা

ড্রপার দিয়ে বাঁধা জায়গার উপর বা অন্য জায়গায় সরাসরি রঙ ফেলেও টাই-ডাই করা যায়। এভাবে নানা অংশে নানা রঙ করা যায়।
১. আগের মতো রঙ পানিতে মিশিয়ে নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সোডা, লবণ ও প্রয়োজনে ইউরিয়া আগে থেকেই মিশিয়ে নিতে হবে। এর সাথে আঙ্গুলের এক চিমটা রেজিস্ট সল্ট মিশাতে হবে।
২. যেসব জায়গায় রঙ ফেলতে হবে সে সব জায়গা আগে পেন্সিল দিয়ে এঁকে নিতে হবে। ড্রপার দিয়ে সে সব জায়গায় রঙ ফেলতে হবে। হাতে দস্তানা পরে নিতে হবে এবং আঙ্গুলে ঘষে ঘষে রঙ ঠিক জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে। অতিরিক্ত রঙ শুকনো স্পঞ্জ দিয়ে শুষে নিতে হবে।
৩. কাপড়ের অন্য অংশ অন্য রঙ করতে চাইলে বা পুরো কাপড় অন্য রঙ এ ডুবাতে চাইলে আগের রঙ করা জায়গাগুলো কুঁচকে একসাথে পলিথিন দিয়ে ঢেকে বেঁধে নিতে হবে।
৪. এরপর আগের পদ্ধতিতে রঙ করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:০১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৪১



ফারাজা তাবাসসুম খান-
আজ বুধবার, ৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ইংরেজি ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬। বহু আগে একটা বই পড়েছিলাম- 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। প্রধান চরিত্রের নাম- হাজারি ঠাকুর। সে বাস্তববাদী, সহজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×