somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কয়েকজন নওমুসলিমের সাক্ষাৎকার

০৬ ই মে, ২০১২ দুপুর ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কেউ মুসলমান হতে চাইলে এবং অল্পদিন পূর্বে মুসলমান হয়েছেন এমন কাউকে পেলে আমরা সাধারণতঃ প্রশ্ন করে থাকি যে, সে কি দেখে মুসলমান হতে চায় এবং কি দেখে মুসলমান হয়েছেন। এর জবাবে মাত্র কয়েকটি জবাবই ঘরে ফিরে আসতে থাকে। এই ধরনের কয়েকটি সাক্ষাৎকার একানে দেয়া হলোঃ

১। অতি সম্প্রতি দিনাজপুর জেলার চরকাইয়ের একটি মেয়ে যার বর্তমান নাম ‘লায়লা বেগম’ পূর্বে নাম ‘সপ্তামী’ আমাদের নিকট ইসলাম গ্রহণের জন্য আসলে তাকে ইসলাম গ্রহণ করার কারণ জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে বললো ঃ
“হিন্দু ধর্মের কোন বিধিবিবিধানই আমার কাছে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় না এবং ব্রাহ্মণদের পক্ষপাতদুষ্ট রীতি-নীতি আমার মনকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এরই পাশাপাশি জুটে যায় ইসলাম বুঝার একটা সুযোগ। সুযোগটা হল এই যে, আমার পড়ার সময় স্কুলে কোন হিন্দু ধর্মের শিক্ষক না থাকায় আমাকে ইসলামিয়াত পড়তে হয়্ তাতে দেখি ইসলামের প্রতিটি বিধি বিধানই যুক্তিভিত্তিক এবং ন্যায়সঙ্গত। এসব দেখেই আমার মন ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়ে।”

২। সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার নাকতাড়া গ্রামেরন নও মুসলিম নাসিরুদ্দীন, পূর্বে নাম ‘নিতাই চন্দ্রমন্ডল’ তাকে জিজ্ঞেস করায় সে বললো ঃ
“আমাদের কালি তলায় মনসার ভোগ দেয়া হত। আর বলা হত এসব ভোগের মিষ্টি কেউ খেলে তার গলা দিয়ে রক্ত উঠে মারা যাবে। আমি একবার লোভ সামলাতে না পেরে তার কিছু মিষ্টি খেয়ে ফেলি। পর মা’র কাছে বলায় মা-তো খুবই শঙ্কিত হয়ে পড়েন যে, আমি হয়ত মরে যাব। মায়ের ভয় দেখে আমি আরও বেশি ভীত হয়ে পড়ি এবং মরার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। এরপর যখন আর মরলামই না তখন আমার মন বলে উঠল হিন্দু ধর্ম অবশ্যই কোন সত্য ধর্ম হতে পারে না এরপর হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন অযৌক্তিক নিয়ম-কানুন দেখে আমার মন নিজ ধর্মের বিভিন্ন অযৌক্তিক নিয়ম কানুন দেখে নিজ ধর্মের প্রতি বিদ্রোহী হয়ে উঠে। পরে ইসলাম ধর্মকে বুঝার চেষ্টা করি। এই চেষ্টার প্রথমেই আমার চোখে ধরা পড়ে ইসলামের সাম্য। দেখি নামাযের ইমামতিতে কোন বিশেষ শ্রেণীর একচেটিয়া অধিকার নেই যেমন আছে পূজার পুরোহিত ঠাকুরদের। আর দেখি বিবাহ শাদীর ব্যাপারেও ইসলামে কোন শ্রেণী ভেদাভেদ নেই। এ সব দেখেই আমি ইসলাম গ্রহণ করি।”

৩। হাসানুল বান্না পূর্বের নাম ‘দেব দুলাল সাহা’ শরীয়তপুর। তার ইসলাম গ্রহণের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বললোঃ
“আমি কমিউনিজমের বই পড়ে ধর্মের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ি। পরে দেখি কমিউনিষ্টিরা ধর্মের যে সব দুর্বল দিকগুলোর সমালোচনা করে তা হিন্দু ধর্মের মধ্যে রয়েছে। এ দেখে আমি মনে মনে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে কমিউনিষ্ট হয়ে যাই। তারপর সৌভাগ্য বশতঃ আমার প্রতিবেশীদের মধ্যে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীরা ছিল। তাদের নিকট থেক মিসরের শহীদ হাসানুল বান্না মাওলানা মওদুদীর কিছু ব্ই পড়ি। এরপর আমার ধারণা পালটে যায়। আমি বুঝতে পারি হিন্দু ধর্মের তুলনায় কমিউনিজম ভাল ঠিকই কিন্তু কমিউনিজমের তুলনায় ইসলাম শত সহস্রগুণ ভাল। এ বুঝ পরিষ্কার হওয়ার পরই আমি ইসলাম গ্রহণ করি। আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেকটি কমিউনিষ্ট যদি আমার মত নিরপেক্ষ মন নিয়ে ইসলামকে বুঝার চেষ্টা করে তবে হিন্দুদেরও পূর্বে তারাই হবে মুসলমান। কারণ তারা যা চায় তা যে কমিউনিজমে নেই আছে বরং একমাত্র ইসলামেই তা তারা অবশ্যই বুঝবে যদি তারা আমার ন্যায় ইসলামের বই পত্র পড়ে।”

৪। ইসমাঈল হোসেন দিনাজী এম.এ পূর্বনাম‘শুনেন্দ্র নাথ রায়’ দিনাজপুর। তাকে ইসলাম গ্রহণের কারণ জিজ্ঞেস করলে সে জানালঃ
“স্কুল জীবনে আমি স্বরসতী ভক্ত ছিলাম। পাড়ার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উৎসাহ দিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে স্বরসতীর পূজা করতাম। আমাদের গুরুজনেরা বলতেন ‘মা’ স্বরসতী বর দিলে বড় বিদ্বান হওয়া যায়-ক্লাশে ফাষ্ট হওয়া যায়। ক্লাশে ফাষ্ট হওয়ার জন্য আমি কায়মনো স্বরসতীর পূজা করতাম। কিন্তু দেখা গেল এত পূজা অর্চনা করেও আমি ফাষ্ট হতে পারলাম না; ফাস্ট হওয়া মুসলমান ছেলেরা। যারা ফাষ্ট হয় তারা কখনও স্বরসতীর পূজা তো করেই না বরং মাঝে মধ্যে স্বরবতীকে আমাদের সাথে বঙ্গ তামাসা করে। এতে আমার ধারণা হলো স্বরসতীতে কিছুই নেই। এভাবে গোটা পূজা পার্বনই আমার কিশোর মনে একটা ভান্ডতা ও মনগড়া বলে মনে হল। ক্রমান্বয়ে আমি অন্যান্য ধর্মের প্রতি কৌতুহলী হয়ে পড়ি এবং সময় পেলেই খ্রীষ্ট ধর্ম ও ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বই পুস্তক পাঠ করি। অবশেষে ইসলামই যে একমাত্র সত্য ধর্ম ও সঠিক জীবন ব্যবস্থা তা আমার জ্ঞান পরিস্ফুট হয়ে উঠে। অবশেষে সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আমি ইসলাম গ্রহণ করি।”
৫। শরীফ মোহাম্মদ আলী এম.এ পুর্ব নাম ‘অনন্ত কুমার দে’গ্রাম মুন্সেফপুর, রুপদিয়া, যশোর। তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বললোঃ
‘‘ইতিহাস ও বিভিন্ন গ্রন্থ পাঠে জানতে পেলাম “ভগবানের তৈরী অনেক বিধানই মানুষ পালটে দিয়েছে। যেমন হাজার হাজার বচর ধরে চলে আসা সতীদাহ প্রথা বৃটিশ আমলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর তা হিন্দু ঠাকুর পুরোহিতদের সাথে সলা পরামর্শ করেই করা হয়েছে। বিভাগোত্তর ভারতেও হরিজন সংক্রান্ত ভগবানের অনেক বিধান পাল্টানো হয়েছে। এতে আমার ধারণা হয়েছে যে এ ধর্মের ভগবানের ভুল সংশোধন করে মানুষ। অথচ সে মানুষই অর্বাচীনের মত সে ভগবানকে পূজা করে। পক্ষান্তরে মানুষের ভুল সংশোধন করে মুসলমানদের আল্লাহ। এ সব চিন্তা করার পর হতে হিন্দু ধর্মের প্রতি আমি আস্থা হারাতে থাকি এবং সটিক সত্যের সন্ধানে ইসলাম ধর্মের গ্রন্থাবলী অধ্যায়ন করে ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়ি। অবশেষে সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছুড়ে ফেলে ইসলাম গ্রহণ করি।”

বহু নওমুসলিমের নিকট থেকে এ ধরনের জবাব আমরা পেয়েছি। আমরা মনে করি বুদ্ধিমান জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য এর চাইতে বেশি যুক্তির কোন প্রয়োজন নেই। মনকে নিরপেক্ষ করে যারাই সঠিক চিন্তা করবেন তাদেরই জ্ঞানে যা মহাসত্য তা ধরা পড়বে। তাই আপনাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনি চিন্তা করুন আপনার নিজের স্বার্থেই-মৃত্যুর পর আর চিন্তার সময় থাকবে না। তখন স্বচক্ষে জাহান্নাম দেখতে হবে এবং চিরদিন সেখানে বসবাসের দুঃসংবাদ শুনতে হবে। শুনতে হবে বহু মুসলমানকেও। কাজেই অমুসলমানদেরকে বলি মুসলান হতে আর মুসলমানদেরকেও বলি খাঁটি মুসলমান হতে।
আল্লাহ আমাদের সাবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমীন

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১২ দুপুর ১২:১০
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার জটিল ভাইয়ের কুটিল এজেন্ডা ফাঁস!

লিখেছেন জটিল ভাই, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৩৩


(ছবি নেট হতে)

জটিল ভাইকে সবাই হয়তো চিনেন না। আমি কোনোকালেই তাঁর ভক্ত ছিলাম না। এমনকি কখনও আমি তাকে ব্লগার হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে রাজি নই। তাছাড়া ভবিষ্যতে তিনি করবেন এমন একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালাত আদায় বনাম নামাজ পড়া বনাম সালাত কায়েম

লিখেছেন জ্যাকেল , ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১১:৫৪




মুসলমান ও ইয়াহুদী ধর্মের মানুষগণ সেজদা সহ মোটামুটি মিল আছে উপায়ে প্রার্থনা করেন/নামাজ পড়েন। লোকমুখে আমাদের দেশে এভাবে ব্যাপারটা চলে-

নামাজ পড়তে হবে।
নামাজ পড়া বাদ দিলে মুসলমান থাকা যায় না। ফাসেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×