বিশ্বের ৫০০ জন সর্বাধিক প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের মধ্যে প্রথম হচ্ছেন সৌদি বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ। "সেন্টার ফর মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডাষ্ট্যান্ডিং" মুসলিম বিশ্বের উপর গবেষণা করে। এতে - জ্ঞানী (স্কলার), রাজনীতিবিদ, প্রশাসনিক দক্ষতা, জাতীয় বা বংশীয় মর্যাদা, ধর্ম প্রচারক, মহিলা, তারুণ্যদ্দীপ্ত, জনসেবা, উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, মিডিয়া, মৌলবাদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ইসলাম, সমসাময়িক বিষয়ে তাৎক্ষনিক মতামত প্রদান, মোট ১৫টি ক্যাটাগরীর ভিত্তিতে ৫০০জন মুসলিম নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ইসলামিক ষ্টাডিজের বিশ্ববিখ্যাত অধ্যাপক জন এ্যাসপেজিতের সম্পাদনায় প্রকাশিত ২০০ পৃষ্ঠার একটি বইতে এই নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আমেরিকার জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটির "দ্য প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল সেন্টার মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডাষ্ট্যান্ডিং" বইটি প্রকাশ করে। বইটি নিন্মের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে : http://www.rissc.jo/ তালিকার ২য় স্থানে রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলি খামেনী, ৫ম স্থানে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়েব এরদেগান ৯ম স্থানে ড. ইউসুফ আল কারজাভি ১২তম স্থানে মুসলিম ব্রাদারহুডের মুহাম্মদ মেহেদী আকিফ, ৩৪তম স্থানে হামাস নেতা খালেদ মিশাল ও ৪৩তম স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নাম। তার সম্পর্কে বইয়ে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার এবং ইসলামী শিক্ষা বিস্তার এবং ইসলাম প্রচারে অবদান রেখেছেন। জামায়াতের অভ্যন্তরে ও বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চায় অবদান রাখায় মাওলানা নিজামীর প্রশংসা করা হয়। এতে বলা হয়, সক্রিয় রাজনীতিবিদ মাওলানা নিজামী জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরে এবং বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ সমর্থক। নিন্মে তাদের ৫০ জনের তালিকা দেয়া হলো -
১। সাউদি আরবের বাদশা ও দুইটি পবিত্র মসজিদের খাদেম আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।
২। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী।
৩। মরক্কোর বাদশা ৬ষ্ঠ মুহাম্মদ।
৪। জর্ডানের বাদশা ২য় আবদুল্লাহ বিন হোসাইন।
৫। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যেব এরদেগান।
৬। ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাইয়িদ আল সাইয়িদ।
৭। ইরাকের নাজাফের শিয়া শীর্ষ নেতা সাইয়্যেদ আলী হোসাইন সিসতানি।
৮। মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটির গ্র্যান্ড মুফতি ও আল আজহার মসজিদের গ্র্যান্ড ইমাম ড. সাইয়্যেদ তানতাভি।
৯। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ মুসলিম স্কলার এর প্রধান ড. ইউসুফ আল কারজাভি।
১০। মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি ড. আলী জুম'আ।
১১। সাউদী আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ আলে আল শায়খ।
১২। মিশরের মুসলিম ব্রাদাহুডের সুপ্রীম গাইড মুহাম্মদ মেহেদী আকিফ।
১৩। তুরস্কের ধর্ম প্রচারক ফেইতুল্লাহ গুলেন।
১৪। মিশরের ধর্ম প্রচারক ও সমাজ সংস্কারক আমর খালেদ।
১৫। পাকিস্তান তাবলীগ জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ আবদুল ওহাব।
১৬। নাইজেরিয়ার সুকুটুর সুলতান আমিরুল মো'মেনিন শেখ আল সুলতান মুহাম্মদ আবু বকর ৩য়।
১৭। লেবাননের হিজবুল্লাহর সেক্রেটারী জেনারেল সাইয়্যিদ হাসান নাসরুল্লাহ্ ।
১৮। ইন্দোনেশিয়ার বৃহৎ মুসলিম সংগঠন ‘নাহদাতুল উলামা’এর চেয়ারম্যান ড. কে এইচ আকমাদ হুসাইন মুজাইদী।
১৯। সাউদী আরবের বিশিষ্ট স্কলার ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব শেখ সালমান আল আওউদা।
২০। ইসমাঈলী স¤প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা শাহ করিম হুসাইনী আখা খান ৪র্থ।
২১। ইউনাইটেড আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাখতুম।
২২। আবুদাবি'র ক্রাউন প্রিন্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরর্ম ফোর্সের ডেপুটি সুপ্রীম কমান্ডার শেখ মুহাম্মদ বিন যায়েদ আল নাহিয়ান।
২৩। সিরিয়ার ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ও দামেস্ক ইউনিভার্সিটির আইন ফ্যাকাল্টির প্রধান ড. এম সাইয়্যিদ রামাদান আল ভউতী।
২৪। ব্রুনাই'র সুলতান ও বিশ্বের বিশিষ্ট ধনী ব্যক্তি হাজী হাছান বলকিয়া মোয়াইজ্জাদ্দীন ওয়াদ্দৌলা।
২৫। মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. শেখ আহমদ মুহাম্মদ আল তাইয়্যেব।
২৬। ইয়েমেনের শীয়াদের যায়েদী শাখার ইমাম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল মনসুর।
২৭। পাকিস্তানের ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ, দেওবন্দী নেতা ও বিচারক শেখ মুহাম্মদ তাকী উসমানী।
২৮। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল।
২৯। সিরিয়ার কুরআনের তাফসীর বিশেষজ্ঞ শেখ মুহাম্মদ আলী সাবুনী।
৩০। আফ্রিকা ভিত্তিক "ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ মুসলিম স্কলার" এর ডেপুটি হেড শেখ আবদুল্লাহ বিন বায়া।
৩১। সিরিয়ার মহিলা সংস্থা কুবেসী মুফমেন্ট এর প্রধান শেখা মুনিরা কুবেসী।
৩২। সেনেগালের তিজানিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা শেখ আহমদ তিজানী আলী সাইসি।
৩৩। ইয়েমেনের ‘দারুল মোস্তফা’এর ডিরেক্টর শেখ আল হাবিব উমর বিন হাফিজ।
৩৪। ফিলিস্তিনের হামাসের নেতা খালেদ মিশাল।
৩৫। ইন্দোনেশিয়ার ‘মুহাম্মদীয়া’-এর প্রধান ও ওলামা কাউন্সিল-এর নেতা প্রফেসর ড. এম দ্বীন শামছুদ্দীন।
৩৬। ভারতে ‘জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ-এর জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা মাহমুদ মাদানী।
৩৭। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘তাবা ফাউন্ডেশন’এর ডিজি শেখ হাবিব আলী যইনুল আবেদীন আল জাফরী।
৩৮। আমেরিকার ক্যালিফোনিয়ার ‘জায়তুনা ইনষ্টিটিউট এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ হামজা ইউসুফ হানসুন।
৩৯। বসনীয়া ও হার্জেগোবিনার গ্র্যান্ড মুফতি প্রফেসর ড. মোস্তফা ছেরিক।
৪০। ওআইসির জেনারেল সেক্রেটারী প্রফেসর ড. একমেলুদ্দীন ইসানুগ্লু।
৪১। ইরানের বিপ্লবী (Revolutionary Guard) বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মুহাম্মদ আলী জাফরী।
৪২। মালয়েশিয়ার কেলাতান প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মালয়েশিয়ার ইসলামী দল সমূহের গাইডার দাতু হাজী নিক আব্দুল আজিজ নিক মাত।
৪৩। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।
৪৪। ভারতের কাদেরী সম্প্রদায়ের নেতা প্রফেসর সাইয়েদ আমিন মিয়ান কাদেরী।
৪৫। ভারতের বুহুরী সম্প্রদায়ের প্রধান মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন।
৪৬। পাকিস্তানের পরমানু বিজ্ঞানী ড. আব্দুল কাদির খান।
৪৭। আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইসলামীক ষ্টাডিজ-এর প্রফেসর বিশিষ্ট ইসলামী বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. সাইয়েদ হুসেইন নাছের।
৪৮। ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম প্রচারক আবদুল্লাহ ‘এএ জাইম’ জাইমনাস্তিয়ার।
৪৯। সাইপ্রাসের নক্সবন্দি সুফি নেতা মেহমিত নাজিম আদিল আল কুবরুসী আল হক্কানী।
৫০। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইসলামী শিক্ষা সংস্থা ওঝঊঝঈঙ- এর জেনারেল সেক্রেটারী ড. আবদ আল আজিজ বিন উসমান আল তাওয়াইজিরি।
বিশ্বের ৫০০ জন প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৬৯টি মন্তব্য ১১টি উত্তর
পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।