সেই দিন এক মেয়ে মেসেজ দিল, (ইংরেজীতে)
ব্রাদার, "এই নিয়ে চারটে মেসেজ করলাম,
বাট এখনও তুমি আমাকে রেপ করলে না’?
.
যতক্ষনে বুঝলাম ইংরাজি হরফে ‘rep’ হল ‘reply’-এর
সংক্ষিপ্তকরণ, ততক্ষনে শরীর ঘামিয়ে গেল।
.
ফেসবুকে বিচিত্র সংক্ষিপ্তকরণের ছড়াছড়ি।
শুরুতে o.m.g. দেখলে ভাবতাম বোধহয়
লিখতে চাইছে ‘ও মাগো’, এখন বুঝেছি ওটা
বিস্ময়যুক্ত ‘ও মাই গড’! ভাবলেই ভাল লাগে।
.
‘hate’ লেখা দেখে ভাবি আমি কি এতই ঘৃণ্য?
পরে বুঝতে পারি ওটা হল ‘হাতে’।
এভাবেই ক্রমাগত শিখতে থাকি ই-ভাষা।
.
কত সংক্ষেপে লেখা যায়, তার যেন প্রতিযোগিতা
শুরু হয়ে গেছে। একটি নমুনা পেশ করি,
‘O-P-C-A-D-K-S-O’। কিছু বুঝলেন?
এটা হলঃ- ‘ও পিসি, এদিকে এস’।
.
হাহাহা, রীতিমত গবেষণার করার মত।
খ্যাতনামা ব্যক্তির জন্মদিন বা মৃত্যুদিন এলেই হল।
মৃত্যুদিনের হলে তো কথাই নাই, খালি কমেন্ট আসবে ‘RIP’
হায় আল্লাহ এই রিপ টা আবার কি..?? এই রিপ হল ‘রেস্ট ইন পিস’।
শান্তিতে থাকার কী অশান্তিকর প্রার্থনা প্রয়াস। :-D
.
শুধু কি ভাষার জটিলতা?
ফেসবুকিয়ানরা এক-একজন একেক টা মাল।
কেউ লাইক বিশেষজ্ঞ। এঁরা বেশি কথা না বলে
পাইকারি হারে লাইক করেই যায়।
.
কারও হয়ত বাবা মারা গেল,
সে বেচারা কাঁদোকাঁদো ভাষায় জানিয়েছে মৃত্যুসংবাদ।
ব্যস, লাইক মাস্টার সেটিও দিলেন লাইক করে।
সাথে " মাম্মাহ লাইক ব্যাক" কমেন্ট ফ্রি... :-D
.
এক সম্প্রদায় খালি গান শুনিয়ে বেড়ান।
দিবস ও রজনী তাঁরা যেন ব্রত নিয়েছেন‘
তোমায় গান শোনাব’ শতকরা কত ভাগ যে
সেগুলি শোনেন বলা মুশকিল।
এত সময় কই, কিন্তু তাই বলে অমুক দাদা গান
দিয়েছেন আর আমি সামান্য কান দেব না?
সে তো অভদ্রতা, চরম বেয়াদবি।
.
আর এক কিসিমের ফেসবুকিয়ান আছেন,
যাঁদের বলা হয় স্ট্যাটাসটিয়ান।
এঁরা নিশ্বাস নেয় আর স্ট্যাটাস প্রসব করেন।
ডেলিভারী স্পিড ঘন্টায় ৪২০কিঃমি।
এঁরা কারও উত্তর বা মতামতের হুটকি মারে না।
.
এঁদের ফ্রিমেল দের স্ট্যাটাস হল এইরকমঃ -
‘বড্ড মাথা ধরেছে’, 'বমি বমি ভাব' পরমুহূর্তেই ‘উফ্ কী দিল!’
কে দিলেন, কাকে দিলেন, কী দিলেন?? তা কেউ
জানতেও চায় না; তবু তিনি শুধু স্ট্যাটাস দিয়ে যান।
কারন তাদের ফিলিংস সব সময় প্রেগ্নেন্ট...
.
ই-রাজ্যের আর এক বাসিন্দার নাম ট্যাগনেশিয়ান।
এঁরা আপনারে না চিনলেও ভচ্ছত করে
যে কোন পুটু আপনার টাইমলাইনে ভইরা দিবই।
আর এডাশিয়ানদের কথা না বলাই বাল। উনারা
ছাগলের ৩ নং বাচ্ছার মত ফেসবুকে লাফাইবো আর বলব
"এড মি আই এম বলদ" "পাছায় আছি পাছায় মেরো"
.
আর আছেন কমেন্ট মাস্টার।
তিনি যেখানে পারেন, কমেন্ট দিয়ে বেড়ান।
চেনা-অচেনার ধার ধারেন না। হুম হাম,
ওহ ইয়াহ, ইয়েচ, ‘থ্যাঙ্কইউ মাম্মাহ’! এই সব তার দখলে।
কিন্তু কাকে থ্যাঙ্ক ইউ, কেন থ্যাঙ্ক ইউ..??
ওসব প্রশ্ন করা ই-দেশে অপ্রাসঙ্গিক।
.
এই হল আমাদের ইলেক্ট্রিক দুনিয়া,
ই-দুনিয়ায় এখনও যাঁরা পা রাখেননি,
আসুন নারী-পুরুষ অবাধে ‘মলে মলে যোগ দিন’
আর আপ্নাদের দেখে আমিও মলের সুখে গান গাই
.
‘আহা E আনন্দ আকাশে বাতাসে…’। :v
.
.
মূল ধারনাঃ ইন্টারনেট।
রসাক্ত এডিটঃ বুঈড়া।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





