ব্লগার cuetleaks বাকশালের জন্য একখানা শোকগাথা রচনা করেছেন ( বংগবন্ধুর একটা রেফারেন্সহীন সাক্ষাতকারসহ) একটা আর অনেকেই সেখানে হাপুস নয়নে কাদছেন। আহা বাকশাল থাকলে কত বান্চুদ ভালা হই্য়া যাইতো.....ব্লা...ব্লা।
সেখানে কমেন্ট করতে যেয়ে একটুা দীর্ঘ হয়ে গেল তাই এটাকে একটা পোস্ট হিসেবেই দিয়ে দিলাম।
আলোচনা এবং সমালোচনায় (যত কঠিন সমালোচনাই হোক) স্বাগতম, কিন্তু গালি দিয়ে কেউ আমার ব্লগকে নোংরা করতে চাইলে ব্যান
কমেন্ট ২:তীর্থযাত্রী বলেছেন: বঙ্গবন্ধুর বাকশাল থাকলে হয়তো আমরা নিজেদের মালয়েশিয়ার সাথে তুলনা করতে পারতাম। সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদোন প্রিয়তে নিলাম
হাসবো না কাদবো বুঝতে পারছি না!!!
বংগবন্ধু ছিলেন সেই ধরনের রাজনিতিবিদ যার মতিগতিরই কোন ঠিক ছিল না, তিনি প্রথমে আন্দোলন করলেন সংসদিয় গনতন্ত্রের জন্য, তারপরে ক্ষমতায় এসে করলেন রাস্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা, সাথে মিশালেন সমাজতন্ত্র, আবার ৭৪'এ এসে
ওআইসির সাথে হাত মিলিয়ে ইসলামের ধ্বজা ধরলেন, শেষে একেবারে সব দল নিষিদ্ধকরে বাকশাল কায়েম করে বসলেন।
এ থেকে খুব স্পষ্টভাবেই প্রমান হয় তিনি ছিলেন ভিশনহিন, পথহারা নেতা।
আমি তার দেশপ্রেম নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখি না, কারন তিনিই বাংগালিকে দেশপ্রেমের পুর্ন পাঠ দিয়েছেন, কিন্তু এই কথায় কোন ভুল নেই যে তিনি যতটা ভাল স্বাধিনতা আন্দোলনের নেতা ছিলেন ঠিক ততটাই খারাপ প্রশাসক ছিলেন।
স্বাধিনতার পর তিনি আগ পিছ চিন্তা না করেই সকল শিল্প কারখানাকে রাষ্ট্রায়ত্ত করলেন, অদক্ষ আর সুবিধাবাদিদের সেখানে বসালেন, তারা চুষে খেয়ে সেগুলো কে ছেবড়া করে দিল।
হ্যা, বাকশাল হয়ত কাজে দিত যদি তা বংগবন্ধুর নেত্রত্বে না হয়ে তাজউদ্দিনের নেত্রিত্বে হত। কারন এই মানুষটার মাঝে প্রশাসকের গুন ছিল, তিনি যুদ্ধের সময় প্রশাসন সামলেছেন দক্ষতার সাথে, যা বংগবন্ধু যুদ্ধের পরে পারেননি, বরং তাজুদ্দিনের মত লোককে সরিয়ে কাছে টেনেছেন চাটুকারদের। যিনে সঠিক লোককে সঠিক জায়গায় বসাতে পারেন না তিনি কিভাবে যোগ্য প্রশাসক হোন? একজন ভালো প্রশাসকের প্রথম গুন হল এটা।
রকফেলার ( আমেরিকার এক সময়ের সেরা শিল্পপতি) একটা কথা বলেছিলেন এখানে মনে হয় প্রাসংগিক হবে (অনেকটা এরকম):
আমি মেশিন পাতি, স্টিল এসবের কিছুই বুঝি না, তবে হা আমি এটা বুঝি কারা এসব ঠিকঠাক বুঝে তাদেরকে আমি জায়গামত বসিয়ে দিয়েছি, ব্যাস আমি সফল।
বাকশাল আসার পরে বংগবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে তাজউদ্দিনের একটা কথা এখানে রেফারেন্স ছাড়াই বলছি, ( যেহেতু আপনি নিজেই রেফারেন্স এর ধার ধারেন নি, আমিও এই স্বাধিনতা নিচ্ছি), " বাকশাল কায়েম করে আপনি নিজেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা থেকে সরানোর সব পথ বন্ধ করে দিলেন"।
অদুরদর্শি বংগবন্ধু এইকথার মানে বুঝতে পারেন নি, অথচ তাজুদ্দিন দিব্য চোখে ভবিষ্যত দেখেছেন, আরো অনেকেই দেখেছেন কিন্তু তাদের কথা বংগবন্ধুর কানে পৌছে নি।
কমেন্ট ১:
আপনি এমন একটি সাক্ষাতকারের কথা বলে বাকশাল জায়েজ করার কথা বলছেন যার রেফারেন্স আপনার নিজের কাছেই নেই। অথচ আপনি সবার কাছেই তাদের কথার রেফারেন্স খুজে বেড়াচ্ছেন। অদ্ভুত নয় কি?
ধরে নিলাম সাক্ষাতকারটি ঠিক আছে। কিন্তু এটা পড়ে মনে হল বঙ্গবন্ধু গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র আর ইসলামের একটা জগাখিচুড়ি বানানোর চেষ্টা করেছেন, যা আকবরের দীন ই ইলাহির কথা মনে করিয়ে দেয়।
দীন ই ইলাহি যেমন অদ্ভুত এবং অগ্রহনযোগ্য ধর্ম, তেমনি বাকশাল অদ্ভুত এবং অগ্রহনযোগ্য শাসনব্যবস্থা।
দয়া করে আমার লেখাটাকে বংগবন্ধুর প্রতি বিষোদগার হিসেবে নেবেন না, এটা জাস্ট তার শাসনের সমালোচনা, আশা করি রা্ষ্ট্রদ্রোহিতা করে বসি নি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১২ দুপুর ২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


