somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হড় কাহিনী (৫)

০৭ ই আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিষয়: হড় বিয়ের হালচাল-প্রথম কিস্তি
------------------------------
আপনাদের মেয়েকে আমাদের বেশ পছন্দ হয়েছে। আমরা তাকে পুত্রবধু করতে চাই যদি আপনাদের কোন আপত্তি না থাকে। কয়েকদিন সময় নিয়েই জানান, অসুবিধা নেই।
-ক্রিং ক্রিং ক্রিং.........
হ্যালো হ্যালো কে বলছেন?
-আমি ভেলেন্তিনার মা বলছি।
ও আচ্ছা। কেমন আছেন? তা কি খবর? আমাদের ছেলেকে কি পছন্দ হলো?
-পছন্দতো হয়েছে কিন্তু একটা সমস্যা আছে।
কি সমস্যা?
-কিভাবে বলি আপনাকে, আপনাদের পরিবার ছেলে বাড়ি-ঘর সবকিছুই আমাদের পছন্দ হয়েছে কিন্তু কিছু মনে করবেন না আমাদের মেয়েকে আপনারা নিয়ে চলে যান আর ওখানেই বিয়ের সমস্ত কাজ করেন।
কি বলেন এসব? এভাবে কি বিয়ে হয় নাকি? আমার ছেলের বউকে আমি ধুমধাম করে বিয়ে দিব ভেবেছি, কত স্বপ্ন আছে ছেলের বিয়ে নিয়ে। না না না এভাবে চুপিচুপি করে আমার ছেলেকে কখনই আমি বিয়ে দিবনা।
আচ্ছা কি সমস্যা হয়েছে সেটা আপনি বলবেনতো?
-আসলে গ্রামের লোকেরা এই বিয়েতে যোগ দিবেনা।
কেন কেন? কেন যোগ দিবেনা?
-আপনারাতো খ্রিস্টান না। আমরা ঘটকের কাছ থেকে শুনেছি আপনারা চার্চে গিয়ে ছেলেক বিয়েও দিবেননা। আর আপনারা চার্চে গিয়ে বিয়ে না করলে গ্রামের লোকজন আসবেনা। তাইতো বলছিলাম মেয়েকে নিয়ে আপনারা চলে যান আর আপনাদের বাড়িতেই বিয়ের অনুষ্ঠান করেন। এতে আমাদের কোন আপত্তি থাকবেনা। আমরা শুধু মেয়ের মঙ্গল চাই। আর কিছুনা।
আচ্ছা ঠিক আছে বিষয়টি আমি আমার ছেলে স্বামীর সাথে কথা বলে দেখি। আপনাকে ফোন করে যতদ্রুত সম্ভব জানাবো।
পরেরদিনই ছেলের মা মুক্তির মায়ের কাছে ফোন করে বলে বিয়েতে হড়দের অনেক কৃষ্টি পালন করা হয়। আমরা শিক্ষিত হয়ে যদি আমাদের আদি ঐতিহ্য ধরে না রেখে দাউড়ার বদলে চার্চে বিয়ে করি তাহলে হড় জাতির সংস্কৃতি বিলীন হতে সময় লাগবেনা। আপনাদের উচিত হড় বিয়ের রীতিনীতি অনুযায়ি মেয়েকে বিয়ে দেওয়া।
-হুমম সেটাতো ঠিকই বলেছেন। কিন্তু সমাজকে কে বোঝাবে? আমাদের গ্রামে সবাই খ্রিস্টান। কেউ বুঝতে চাইবেনা। ফাদার যা বলবে তাই করতে হবে। নাহলে জোর করে বিয়ে দিলেও পরে আমাদের একঘরে করে দিবে। আচ্ছা তারপরেও আরো একবার গ্রামের লোকজন মাঞ্জহি হাড়ামের সাথে কথা বলে দেখি। আমি আপনাকে এক সপ্তাহের মধ্যে জানাবো।
ঠিক আছে যতদ্রুত পারেন আমাদের জানাবেন।
-এইভাবে ৬ মাস চলে যায়। ছেলের পরিবার এখনো অপেক্ষায় আছে কখন ফোন আসবে।
চলবে.............
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:১৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“মনে রাখিস”: খুন হওয়া পরিবারগুলির মুখে কয়েক লক্ষ টাকা গুঁজে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র নয়

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৮

এ বছর আমি ঈদ করার চেষ্টা করেছি অনেক। ফিলিস্তিনের মুখগুলি এখন আর আগের মতো বিরক্ত করে না। অ্যালগরিদম সরিয়ে রাখে; ইরানের মুখগুলি মিডিয়ার রাজনীতিতে সামনে আসে কম। তবে ঈদের শুরুতেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার অফার পেয়েছিলাম, কিন্তু সায় দেইনি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৫



অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‍আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদের আসলে ডিপ স্টেট বলা হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×