somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

”মায়ের নাম বলতে নেই

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

”মায়ের নাম বলতে নেই।” এই কথা শুনে শুনে পার করেছি কৈশোর যৌবন। অনেকে তো মায়ের নামই জানতো না।ভুলেই যেতে হতো একসময়। হাসিনা সরকার যে কি একটা ভাল কাজ করেছে যে সার্টিফিকেটসহ অফিসিয়াল ডকুমেন্টে মায়ের নাম যোগ করে। এটা আমার মতে সকল মায়েদের জন্য আনন্দের খবর। আমার জানা মতে এই সংবাদ শুনার পর অনেক মা নীরবে অশ্র ফেলে বালিশ ভিজিয়েছেন যে এতদিন পরে তাদের মূল্যায়ন হয়েছে।যে বারে প্রথম এই প্রথা চালু হলো আমার শোনা এবং জানা একটা ঘটনার উল্লেখ না করে পারছি না। কোন এক ছেলে গেছে তার এসএসসির form fill up করতে। সেবারই প্রথম মায়ের নামের ঘর পূরণ করতে হবে।মহাবিপদে পড়লো ছেলেটি। তখন মোবাইলের এত প্রচলন ছিল না। তাই সে জানতেও পারলো না তার মায়ের নাম। অবশেষে ছেলেটি ভাবলো মা তো তার কাছে দেবীর মতো। তাই সে ঐ মুহূর্তে মাকে দেবীর আসনে স্থান করে দিল। অর্থাত তার মায়ের নাম রাখলো দেবী রানী।আমার মেয়ের ভারতের সার্টিফিকেটে ICSE and ISC ২ টা তেই মায়ের নাম প্রথমে আছে। এর জন্য আমার খুব আনন্দ। আমি মাঝে মাঝে সার্টিফিকেট বের করি নিজে দেথি, আর ওর বাবাকে দেখাই আর প্রাণভরে হাসি। কিন্তু সম্প্রতী একটি অনুষ্ঠানের কাণ্ড দেখে আমি খুবই ব্যথিত হয়েছি। আমার মতো আপনারাও হবেন।আামার ঐ মেয়েটা আমেরিকার ট্রয় University তে scholarship পেয়েছে। এর জন্য আইনজীবি কল্যাণ সমিতি থেকে সম্বর্ধনা দেবে।আইনজীবিদের ছেলেমেয়েরা যারা এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে তাদের সংগে সংযুক্ত করে সম্মাননা দিয়েছে।আমি খুব খুশী হয়েছি।কিন্তু খোদ আইনজীবিরা কাজটা কি করলো? অংশগ্রহণকারীদের নামের তালিকা দেখলাম –কৃতী সন্তানের নামের পরে পিতা এডভোকেট………………., আমার মেয়ের নামেও এসেছে পিতা এডভোবেট……………., মায়ের নাম কোথাও নেই। আমার প্রশ্ন ভাগ্যক্রমে এবার না হয় কৃতী সন্তানেরা সকলে আমার শ্রদ্ধেয় পুরুষ আইনজীবিদের সন্তান। আজকাল তো বহু বোনেরা আইন প্র্যাকটিস করছেন, তাদের সন্তানেরা আইনজীবি কল্যাণ সমিতিতে কার নামে পরিচিত হতো? মাতা এডভোকেট…………নিশ্চয়? আরো হতাশ হলাম যখন দেখলাম ওদের যে ক্রেস্টটা দিয়েছে ওখানেও শুধু মাত্র পিতার নাম। হায়রে অভাগা মাতা---আমার নামটি কোথাও নেই। কোথাও নেই আমার নামটি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×