somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা আমার মা

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজকের দিনে আমার মা জননী আমাদের ছেড়ে আকাশের তারা হয়ে মিলে গেছে। আজ হয়তো সে তারা আর ফুল পাখীদের সাথে মিলে মিশে ভালই আছে। ভাল থাক মা আমার এটা চাই। আমার সংগে আমার সকল বন্ধুরা চাইবেন আমার মা যেন স্বর্গ পান, স্বর্গের সকল সুখটুকু তিনি নিংড়ে নিতে পারেন। কারন তিনি ছিলেন আমার দু:খিনি মা। সংসারের সকল দু:খ কষ্ট ভোগ করতে করতে আমার বাবার অভাবে একতাকীত্বের যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে তিনি একদিন হারিয়ে গেলেন।হারিয়ে গেলেন চিরতরে।আজ শুধু তোতা পাখীর কাছে বলা ছাড়া আমার আর করার কিছু নেই।এই তোতাপাখী যদি সত্যিই এনে দিত আমার হারিয়ে যাওয়া মাকে। মায়ের মুখখানিকে।মা মারা যাবার পরে খুব ভেংগে পড়েছিলাম। কারণ তখন বুঝতে পারলাম আমি চিরতরে অনাথ হলাম।মনে পড়ে একজন মুরুব্বি তখন শান্ত্বনা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন . ”দেখো বিয়ের পর যখন তোমার স্বামী, সন্তান, সংসার হবে তখন এত শোক থাকবে না। সারাদিনে হয়তো মায়ের মুখটা স্মরন করার সময় পাবে না।”আজ ভাবি কি কঠিন সত্য তিনি বলেছিলেন, আজ ২৮ সবছর পরে মায়ের মুখ খানিও অস্পষ্ট হয়ে এসেছে। তখন এত ক্যামেরার প্রচলন ছিল না। মোবাইল তো তখন কল্পনারও বাইরে।ছবি তুলতে হলে যেতে হতো স্টুডিওতে। সেই খরচ বহন করার ক্ষমতা আমার বাবার ছিল না। ঐ সময়ে একবার শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার চুয়াডাংগা গিয়েছিলেন। তিনি আমার মায়ের একটা ছবি এঁকে দিয়েছিলেন। ঘরের চাল থেকে অবিরাম বৃষ্টির জলের ধারায় তাও ভিজতে ভিজতে একসময় ছিড়ে গেছে। তাই আমার মেয়েদের আমার মা বাবার কোন ছবি দেখাতে পারি না।শুধু গল্প বলি। আজ যেমন আমি মনে করি তাদের আদর , ভালোবাসা , ত্যাগ আর স্বপ্নকে। মায়ের মুখখানি আজ কেবল আবছা অবয়ব।রন্ধনে আমি এখন নিজেকে দ্রৌপদী দাবী করতে পারি। একসময় আমি কিছুই রান্না করতে পার তাম না। আমার স্বামী আমার রন্ধনগুরু।আমার মা ভালো রা্ন্না করতে পারতো না। আসলে ভালো রান্নার জন্য আনুসাংগিক যা প্রয়োজন তা সরবরাহ করার সামর্থ্ আমার বাবার ছিল না। আমার মায়ের পোলাও রান্না করার খুব সখ ছিল।কোথায় পাবে পোলাও এর চাল কোথায় পাবে ঘি, তাই এই সাধ মায়ের অপূর্ণ থেকে গেল।মায়ের হাতের রান্না কেউ পছন্দ করতো না।বলতো আমার মা রাঁধতে জানে না।১ ছটাক তেলে ১ সপ্তাহ চালাতে হলে কার রান্না ভালো হয়? কিন্তু আমি আজও সেই স্বাদ খুঁজে ফিরি।যে স্বাদ ছিল মায়ের হতের আলু ভাজা, মসুরির ডাল ভর্তা আর কুমড়ো দিয়ে ডাটা চচ্চড়ি? জানিনা কবে এবং কোথায় গেলে এই স্বাদ পাবো।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×