১৯৮৮ সালে ঢাকায় আসার পর প্রচন্ড বন্যার তোড়ে যখন ভেসে যেতে গিয়েছিলাম, তখন যে তৃন খন্ডটি ধরে বেঁচে গেলাম তা হলো কাজী জাফর আহমেদের পরিবার। ঐ পরিবারে আমার প্রবেশ গৃহ শিক্ষক হিসেবে। ঢাকাতে এসে আমার প্রথম টিউশনি।
মেয়ে সোনিয়া আর রোনা আমার ছাত্রী। কি যে বিনয় সোনিয়া আর রোনার সে গল্প আর একদিন হবে। আজ বলি কাজী জাফরের কথা।
ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতাদের মধ্যে একজন অন্যতম কাজী জাফর। যদিও পরে তিনি বিতর্কিত হয়েছেন।
আমার খুব সখ তাকে স্বচক্ষে দেখা। আমি ঐ বাসায় পড়াতে পড়াতে তিনি উপ প্রধান মন্ত্রী থেকে প্রধান মন্ত্রী হলেন।
এরই মধ্যে ভাবীর কাছে শুনেছি নিজেরা বিয়ে করে কি নিদারুন অভাবের মধ্যে দিয়ে তারা দিন পার করেছেন। তখনও কাজী জাফর পরিবারের কথা ভাবতেন না্, ভাবতেন কেবল রাজনীতি আর রাজনীতি।বড় মেয়ে জয়া হবার পর অন্য লোকের ছেলে মেয়েদের হাতে আম ভাবী শুধু দেখে গেছে। জয়াকে কিনে দিতে পারে নি।
একদিন সন্ধ্যায় সোনিয়কে পড়াচ্ছি। ভাবী এসে বললেন, ”আমরা নতুন বাসা দেখতে যাবো, তুমিও চলো্”। তখনও জানিনা উনি প্রধান মন্ত্রী হতে চলেছেন।
আমি আর সোনিয়া বের হয়ে শুনলাম, ভাবী আর জাফর সাহেব সরকারী গাড়ীতে চলে গেছেন। আমি আর ২ মেয়ে যাবো তাদের পারিবারিক পুরাতন একটা গাড়ীতে।
মিন্টু রোডের মন্ত্রীদের বাসাগুলো তখন নতুন হয়েছ্ তারই একটা বরাদ্দ হয়েছে তাদের। ঘুরে ঘুরে বাসা দেখছি। এমন সময় জাফর আহমেদ হাত ২টিা জোড় করে আমার সামনে,”আপনি সোনিয়ার টিচার? কোন অসুবিধা হচ্ছে না তো আপনার?'
আমি ফিরে এসে যখন খবর দেখলাম প্রধান মন্ত্রী হলেন কাজী জাফর আহমেদ। আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। একজন প্রধান মন্ত্রী আমার সামনে হাত ২টো জোড় করে।
ঈশ্বর তার আত্মার শান্তি প্রদান করুন। ভাবী,জয়া,সোনিয়া আর রোনা তোমরা মনকে শক্ত করো। ঈশ্বরের দয়া তোমদের উপর বর্ষিত হোক।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



