ডাক্তার বাবা মায়ের কথা বাদই দিলাম শিক্ষক বাবা মাও চান তাদের ছেলে ডাক্তার হোক। এই ক্ষেত্রে একজন কেরানীও পিছিয়ে থাকনে না। মোট কথা সকল পেশার বাবা মা-ই চেয়ে থাকেন ছেলেকে ডাক্তার হিসাবে দেখতে।
না হলে ২য় পছন্দ ইজ্ঞিনিয়ার।৩য় পছন্দ কোন আমলা। এর পরে কোন পছন্দ নেই। তখন যে প্রফেসনে উপরি ইনকাম বেশী আসার সুযোগ আছে, সেইটাই ছেলেকে পড়াতে চান।এ ক্ষেত্রেও শিক্ষক হিসাবে তাদের ছেলেকে কোন মা বাবা দেখতে চান না। আর সেই আদর্শে বড় করে তোলেন না। প্রথম থেকেই কাড়ি কাড়ি টাকার নেশার সুরটা বাবা মা-ই ধরিয়ে দিয়ে থাকেন।(অবশ্যই সকলে নন)।
অনুরূপভাবে জামাই হিসাবে প্রথম পছন্দ ডাক্তার্ ২য় পছন্দ ইজ্ঞিনিয়ার ৩য় পছন্দ কোন আমলা। কারণ এখানেও জামাই কাড়ি কাড়ি টাকা ইনকাম করবে এই আশায় । মেয়ে তাদের সুখে থাকবে টাকার কাড়ি নিয়ে।শান্তিতে থাকবে কিনা ভাবার দরকার পড়ে না।
বাবা মা সর্বস্ব নিয়োগ করে ছেলে ডাক্তারী পড়াতে চান এর কারন হিসাবে প্রথমেই তারা যুক্তি দেখাবেন মানুষের সেবা করবে তাদের ছেলে। ডাক্তারী মহত পেশা ইত্যাদি
কিন্তু তারা কখনই ভেবে দেখেন না যে মানুষের সেবা করার জন্য ডাক্তার হওয়া লাগে না। একজন বাস ড্রাইভারও প্রকারন্তরে মানুষের সেবা করছে।(আমি এখানে ড্রাইভার পেশাকে খাট করে দেখছি না্ উদাহরন দিয়েছি মাত্র)।
এই বিষয়ে ১৯৭৫ সালে মুক্তি্ প্রাপ্ত ছবি ”সুর্য কণ্যাতে” আলমগীর কবির বাবা মোস্তফার মুখ দিয়ে আসল সত্যটি বের করেছেন। ডাক্তার না হতে পারলে সে ছেলে অমানুষ হবে, তিনি এ কথাও বলেছেন।
এর প্রতিবাদ/সামলোচনা করেছেন পুত্র বুলবুল আহমেদ। কিন্তু সমাজে এই ধারনা আরও ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে, সংক্রামক রোগের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলে বা মেয়ের আসল মেধা যাচাই না করেই কোন রকমে এ+ পেলেই তারা স্বপ্ন দেখতে থাকেন ছেলে/মেয়ে আমার ডাক্তার হবে।
কেরানীর ছেলে কেরানী হতে হবে এমন কোন কথা নেই তবে তার যোগ্যতা এবং মেধা যেখানে তাকে নিয়ে যাবে সেখানে যেয়েই তৃপ্ত থাকতে হবে, অহনির্শ চেষ্টা করে যেতে হবে একজন ভালো মানুষ হবার।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




