somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝিনাইদহকে এইভাবে আগে কখনও দেখিনি

১৮ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলা ঝিনাইদহ। নাম শুনলেই অনেকে হয়তো মনে করেন ছোট্ট, সাধারণ একটি শহর। কিন্তু ঘুরে দেখার পর বুঝলাম—ঝিনাইদহের ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য গল্প, ইতিহাস আর সৌন্দর্যের অজস্র রঙ।

শুরু করেছিলাম যাত্রা পায়রা চত্বর থেকে। শান্তির প্রতীক সাদা পায়রাটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই চত্বর, যা এখন ঝিনাইদহ শহরের প্রাণকেন্দ্র। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, শহরের মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ সবকিছু যেন এই চত্বরকে কেন্দ্র করেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

এরপর গেলাম শহীদ মিনারে। ঝিনাইদহ জেলা শহরের এই মিনারটি উদ্বোধন হয় ২০১৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে শহীদ মিনারের উপস্থিতি আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল।

আরেকটি বিস্ময়কর স্থান হলো নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি। অর্ধশতাধিক কক্ষ নিয়ে বিশাল এই প্রাসাদ আজ ভগ্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু দেয়ালে দেয়ালে খোদাই করা ইতিহাস এখনও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

শহরের আরেক প্রান্তে আছে মিয়ার দালান—একটি পুরোনো স্থাপনা, যার সৌন্দর্য সময়ের সাথে সাথে ম্লান হলেও কাহিনী এখনো বেঁচে আছে স্থানীয়দের মুখে মুখে।

ঝিনাইদহের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গার একটি হলো এশিয়ার সবচেয়ে বড় বটগাছ। বিশাল এই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল আমি যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত কোলাহলে হারিয়ে গেছি।

এছাড়াও ভ্রমণে চোখে পড়ল ঢোল সমুদ্র দীঘি আর Dream Valley Park —যা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য অসাধারণ জায়গা।

ঝিনাইদহ শুধু একটি জেলা নয়। এটি হলো ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রকৃতির এক মিলনমেলা। আমার ভ্রমণ চোখে এই শহরকে দেখে মনে হলো—বাংলাদেশের অজানা গল্পগুলো আমাদের সামনেই আছে, শুধু খুঁজে নিতে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২৫ রাত ১:০৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু তৃপ্তি দেরীতেও আসে না=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০২

জানুয়ারী শেষের পথে। নতুন বাড়ীতে একমাস হয়ে গেল। এখনো গুছানো হয়নি। প্রতিদিনের নিয়ম কানুন অনেকটা পাল্টে গেছে। সকালে অফিসে আসার সময় এত তাড়াহুড়া বাপরে বাপ। রেডি হয়েও কাজ করি। ঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুঝে বলুন, হুজুর!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




শরীয়া আইন প্রয়োগ করতে শরীয়া আইন জানা বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী আর প্রশাসন দরকার। বাংলাদেশে শরীয়তী এতো সরকারী মানুষ কি আছে? আর, শরিয়া প্রয়োগ করার জন্যে যদি একটি রাষ্ট্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় প্রফেসর ইউনুস সাহেবের নিকট খোলা চিঠি ( কাল্পনিক)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৬


মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
অন্তর্বর্তী সরকার,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

বিষয়: পে কমিশন বাস্তবায়ন ও সামষ্টিক অর্থনীতি পুনর্গঠনে একটি বিকল্প সামাজিক প্রস্তাব।

আসসালামু আলাইকুম। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আপনার শাসন আমল কেবল আইয়ুব খানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রলয়ংকরী সুনামি এবং প্রপাগান্ডা: সাধারণ মানুষ হয়ে উঠেছে উগ্র ইসলামপন্থি শক্তির হাতিয়ার

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১


"আমাকে গুম করেছিল হিটলার, গোরিং বা গোয়েবলস নয়। করেছিল সাধারণ মানুষই। প্রতিবেশী মুদি দোকানদার, দারোয়ান, ডাকপিয়ন, দুধওয়ালারাই এই কাজ করেছিল। তারা মিলিটারির পোশাক পরল, হাতে অস্ত্র নিল - আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনতার “হ্যাঁ”, দালালের “না”

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১২

যতই বলুন “হ্যাঁ”,
চাঁদাবাজরা শুনবে না;
তাদের প্রিয় “না”—
অভ্যাস তো বদলাবে না।

যতই বোঝান “হ্যাঁ”,
বুঝতে তারা চাইবে না;
অনিয়ম আর দুর্নীতি
ছাড়তে তো রাজি না।

বলছে সবাই “হ্যাঁ”,
তবু তাদের “না”;
লুট-সন্ত্রাস না থাকলে তো
তাদের জীবন চলেনা ।

গণভোটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×