somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফরহাদ মজহারের লগে বিএনপি কই যায়?

১১ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আহমদ ছফা নাকি খালেদা জিয়ারে কইছিলেন যে কারে সেক্রেটারি রাখছেন—আহমদ ছফারে চেনে না? খালেদা জিয়ার জবাব ছিলো —কী করবো, আপনারা তো আসেন না!

শোনা কথা। তাই কান দিলাম। তো, এই কনভার্সেশনে খালেদা জিয়ার বুদ্ধির খবর পাই আমি; কিন্তু তারচে বড়ো খবর হইলো বিএনপির পলিটিকস্ বিষয়ে একটা প্রায় গোপন কথা; বিএনপি আহমদ ছফা টাইপের লোক দলে চায়।

কিন্তু খালেদা জিয়ার কাছে ছফা কোন টাইপের লোক? জানি না আমি, কিন্তু অনুমান আছে কিছু। আহমদ ছফা খালেদা জিয়ার কাছে সম্ভবতঃ শিক্ষিত, কথা বলতে পারে, ইন্টেলেক্চুয়ালদের মধ্যে মুভ করে, প্রতিপত্তি আছে, আওয়ামী লীগরে ডিফাই করার মতো যুক্তি, বুদ্ধি এবং আগ্রহ আছে; একই সাথে নিজেদের প্রগতিশীল মনে করা বহু মানুষও সমাজ-রাজনীতি বোঝার জন্য যাদের চিন্তা-ভাবনা সাবস্ক্রাইব করে তেমন লোক।

খালেদা জিয়ার এই চাওয়া আসলে জিয়াউর রহমানের চাওয়ারই কন্টিনিউশন। জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগার, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, বামপন্থি প্রগতিশীল, ধর্মীয় নেতা—ইত্যকার বহু দূরে দূরের মানুষজন তাঁর দলে নিতে পারছিলেন, স্পেস দিয়া বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারছিলেন। বিএনপি বড়ো দল হইতে পারার মধ্যে ওনার এই ধারনক্ষমতার বিরাট ভূমিকা আছে। সামরিক বাহিনীপ্রধান আর রাষ্ট্রপতি হিসাবে দল গড়ার সুবিধার কথা হিসাবে নিয়াও ওই ধারনক্ষমতারে গুরুত্ব দিতে হবে; মনে রাখা দরকার, এরশাদও রাষ্ট্রপতি হিসাবে দল কইরা সুবিধা করতে পারে নাই বেশি। জিয়ার সবাইরে ধারণের আগ্রহে বিরাট ঝুঁকিও ছিলো—ভারসাম্য রাখতে পারার ঝুঁকি। জিয়াউর রহমান এই ভারসাম্য কদ্দূর রাখতে পারছিলেন তা বলবো এই লেখার পরের পর্বে।

এ পর্বে খালেদা জিয়ার বিএনপি নিয়াই থাকি; খালেদা জিয়ার বিএনপি ওই ভারসাম্য পুরা রাখতে পারে নাই। সেজন্য আওয়ামী লীগকে কৃতিত্ব দিতে হবে। বাম ও আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা বিএনপিকে একটা পুরা ডানপন্থি দল হিসাবে ট্যাগিং করতে সফল হইছে। ৭৫ সালে ভেঙে পড়া আওয়ামী লীগ ক্রমে খাড়াইয়া বিএনপিরে ডানপন্থি হিসাবে প্রচার চালাইছে। আওয়ামী লীগ এমনভাবে প্রচার চালাইছে যেনবা সে একটা বামপন্থি দল! এই ইম্প্রেশান ভূয়া হইলেও এতে বিএনপির সাথে প্রগতিশীলদের দূরত্ব বাড়ছে, সংস্কৃতিকর্মীদেরো দূরত্ব বাড়ছে। এই দূরত্বের কারণে বিএনপির ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন নাই খালেদা জিয়া। বিপরীতে বিএনপির অ্যাটিচ্যুড এমন হইয়া উঠছে যে সে নিজেই যেনবা প্রগতিশীলদের দূরে রাখতে চাইছে!

কিন্তু বাম এবং প্রগতিশীলরা বা লিবারালরা যে খালেদা জিয়ার বিএনপিরে এড়াইছেন তার ফল খুব খারাপ হইছে; বিএনপি চিন্তাশীল, শিক্ষিত, প্রগতিশীলদের অভাব পূরণের জন্য ফরহাদ মজহারের দুয়ারে গেছে; তার ফল আরো খারাপ হইছে। এই যাওয়া শূন্যস্থান তো পূরণ করেই নাই বরং শূন্যতা আরো বড়ো হইছে এতে! কেন এবং কিভাবে? সেই উত্তর বিএনপির বের করতে হবে। আপাতত আমি-ই বিএনপির হই।

উইকিপিডিয়ায় পাইলাম,

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পরপরই জিয়াউর রহমান দলের কর্মীদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেন, যার মাধ্যমে দলের কর্মীদের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, দলের আদর্শ, সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হত।

১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে এরকম একটি কর্মশালা উদ্বোধনকালে তিনি দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন,

“কোন রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না। একটা অবদান থাকতে পারে। কিন্তু ধর্মকে কেন্দ্র করে কখনওই রাজনীতি করা যেতে পারে না। অতীতে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে যে ধর্মকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সময়ে যখনই রাজনীতি করা হয়েছিল সেটা বিফল হয়েছে। কারণ ধর্ম ধর্মই। আমাদের অনেকে আছে যারা আমাদের দেশে যে বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেন। রাজনীতির রূপরেখা বানাতে চেষ্টা করেন, আমরা বারবার দেখেছি তারা বিফল হয়েছে। ধর্মের অবদান থাকতে পারে রাজনীতিতে, কিন্তু রাজনৈতিক দল ধর্মকে কেন্দ্র করে হতে পারে না। এটা মনে রাখবেন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।"

মনে রাখতে জিয়াউর রহমানের এই নির্দেশনা মনে রাখে নাই বিএনপি; বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসছে ধর্ম; ফরহাদ মজহারের বুদ্ধি লওয়াই এর প্রধান কারণ। মজহারের থিওরি বিএনপিরে দিয়া জেহাদ করাইতে চাইছে। সেই একই থিওরির মাধ্যমে আরেক দল বামরে দিয়া শ্রেণীসংগ্রাম করাইতে চাইছে। মজহারের থিওরি জেহাদরে দেখাইতে চাইছে শ্রেণীসংগ্রামের একটা ফর্ম হিসাবে। এই থিওরি স্পষ্টতঃ ফর্মরে গুরুত্ব দেয় না; রসুনের এক গোড়া দেখতে চাইয়া কোয়াগুলি যে ভিন্ন ভিন্ন রসুন সেইটা আর রিকগনাইজ করে না এই থিওরি! এই থিওরি আপনারে বহু দূর নিতে পারে; আপনি হয়তো মানুষের দেহকে বলবেন বস্তরই একটা ফর্ম মাত্র; ফর্মের ভিন্নতারে অস্বীকার করায় যেকোন একটা বস্তুর সাথে মানুষের দেহের তফাত করতেই পারলেন না আপনি! মায়াবাদের খুব কাছের চিন্তা; যেই মায়াবাদ মানুষের মরাকে বলতে পারে নিতান্তই বস্তুর বিলয়ের নিয়ম; মুরগীর থেকে নিজেরে আলাদা করতে পারলেন না আর! ফলে মানুষের মরায় নির্বিকার কইরা ফেললো আপনাকে মজহারের থিওরি। আপনি বিপ্লব করার জন্য জেহাদ বা শ্রেণীসংগ্রাম করে যাবেন নিয়ম মোতাবেক; অবিচলিতভাবে হত্যা করতে পারবেন; কেননা, মানুষ তো বস্তুর একটা ফর্ম বা অভিব্যক্তি মাত্র! বিপ্লব কইরা আপনি নতুন হাড়ি-পাতিল বানাইবেন যেন!

বিএনপি এই অমানবিক থিওরি নিতে পারে না; বিএনপি কেন মজহারের জেহাদ বা শ্রেণীসংগ্রাম করবে? বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য কি জেহাদ করা? শ্রেণীসংগ্রাম করা? কোনটাই না! ওদিকে মার্ক্সবাদী যাঁরা মজহারের সাবস্ক্রাইবার তাঁরা কেন জেহাদ করবেন? যাঁরা জেহাদ করতে চাইছেন তাঁরা কেন শ্রেণীসংগ্রাম করবেন? তারচে বড়ো বিষয় হইলো যেই মানুষের জন্য জেহাদ করবেন, শ্রেণীসংগ্রাম করবেন সেই মানুষকে নিতান্ত প্লাস্টিকের বোতলের, ইটের বা মরা গাছের গুঁড়ির একটা ফর্ম মাত্র ভেবে বিপ্লব কেন করতে হবে আপনাকে? বা মানুষকে একটা অনন্য জৈব বস্তুপিণ্ড যদি না ভাবেন তাইলে তার জন্য বিপ্লব করতেই বা চাইছেন কেন?

কথা হচ্ছিলো বিএনপি নিয়া; মজহারের বুদ্ধি লইয়া বিএনপি ক্রমেই অমানবিক হইয়া উঠছে; বিএনপি মানুষের অনুভূতির রেসপন্স দিতে ভুলে যাচ্ছে ক্রমে। এই বিএনপি কি হইতে চায় বিএনপি আদৌ?

১১ মার্চ ২০১৩

প্রথম আলোর রিপোর্ট মিলাইয়া পড়েন আমার এক বছর আগের লেখা::

ফরহাদের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, বিএনপি কখনো বিলীন হয়ে যাবে না। জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বলা হয়েছিল বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বিএনপি এগিয়ে গেছে। যাঁরা বলেন বিলীন হয়ে যাবে, তাঁদের ধারণা সঠিক নয়।
এর পরই মঞ্চে বসা ফরহাদ মজহার দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আপনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কথা বলছেন। আমরা পেশাজীবী। আমি যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেছি, আমার সেন্টিমেন্ট আপনাকে বুঝতে হবে। আমরা কেউ সরাসরি রাজনীতি করি না। বক্তব্য মনঃপূত না হলে ডাকেন কেন।’
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×