somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৌন্দর্য প্রিয়তা নাকি মানসিক বৈকল্যতা

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৌন্দর্য প্রিয়তা নাকি মানসিক বৈকল্যতা

আমরা প্রকৃতিগত ভাবে প্রথমে এ্যানিম্যাল এবং পরে মানুষ। একটা এ্যানিম্যালের প্রথম বৈশিষ্ট্যই হলো তার অধিকার সম্পর্কে সদা সজাগ দৃষ্টি প্রখরতা। তার যখন ক্ষুধা লাগে সে তখন কোনো দিকে না তাকিয়েই ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করে। এর অনথ্যা কখনোই হয়না। কিন্তু মানুষের বেলায় ভিন্ন কথা, কারণ তার এই মানুষ হওয়ার সাথে মনুষত্ব্য ও মানবতারও সম্পর্ক থেকে যায়। সোজা কথায় বলতে গেলে বলতে হয় যার মাঝে মনুষত্ব্য ও মানবতা বিরাজ করে সেই মানুষ হিসেবে আত্নপ্রকাশ করতে পারে।
এই তো গেল মানুষ আর না মানুষের কথা। এই মানুষ আর না মানুষের কিন্তু একটা জায়গায় ভীষন মিল। আর তা হলো তাদের সৌন্দর্য প্রিয়তা। এ্যানিম্যাল তার বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে সৌন্দর্য খোজে। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি ঘটে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থান থেকে। মানুষ তার সৌন্দর্যতার দৃষ্টিকোন মাপে তার স্থানিক সত্ত্বা থেকে।
শুধু বললে তো আর হবে না, এর জন্য চাই বিশ্লেষন। সারাবিশ্বকে যদি দুভাগে ভাগ করা যায়, এক ভাগ পড়ে শোষকের দলে আর এক ভাগ পড়ে শোষিতের দলে। আমরা যারা তৃতীয় বিশ্বের জনগণ তারা স্বভাবতই শোষিতের দলে। কারণ হলো বিশাল একটা সময় আমরা ব্রিটিশ উপনিবেশিকতার মধ্য দিয়ে পাড় করেছি। এই উপনিবেশিকতার মধ্যে থাকার কারণে আস্তে আস্তে আমাদের অনেক গুলো মৌলিক বিষয় পরিবর্তন হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রধানই হলো সৌন্দর্যতা। যেমন ধরা যাক আফ্রিকার কোন এক দেশের একটা ছেলে লন্ডন শহরে আসলো পড়ার জন্য। পড়তে আসার পর দিন থেকেই সে একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে বেশ উৎসাহী হয়ে উঠলো। কোনক্রমে সে একদিন সেই মেয়েটির সাথে সম্পর্ক স্থাপনেও সমর্থ হলো। এরকিছু দিন পর একদিন তারা শারিরীক সম্পর্কের দিকে গেল। সেই শারিরীক সম্পর্কের সময় ছেলেটি যখন মেয়েটির স্তন দুটি তার হাতের মুঠোয় নিল তখন সেই ছেলেটির যে মানসিকতা কাজ করে তা রীতিমত ভয়ংকর। সে একইধারে চিন্তা করে যে, সে সাদা চামড়ার গোষ্ঠীর মধ্যে প্রবেশ করলো এবং একই সঙ্গে সে আরো চিন্তা করে যে সে তার জাতি সত্ত্বা দ্বারা আরেকটি জাতিসত্ত্বাকে পদানত করলো। এরকমই হয়। একই বলে মানসিক বৈকল্যতা।

কিন্তু এই বৈকল্যতার কারণ কি? যখন এই উপমহাদেশে ইংরেজরা শাসন করছিল তখনকার কথা বলছি। একদিন ফিটন গাড়িতে চড়ে কোন এক বিলেতি মেম রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশে এক বাঙালী ছেলে দাড়িয়ে আছে। তার চোখে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন। সে প্রতিনিয়তই ভাবছে এই ইংরেজরা আমাদের শোষন করছে, হয় এদের মারতে হবে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো মানুষ মারাটা অনেক বেশি সাহস ও কষ্টের কাজ। সে যখন এই কাজটি করতে পারলো না তখন সে চিন্তা করলো এদের সমকক্ষ হতে হবে। এই যে সমকক্ষ হবার বাসনা, এই বাসনা থেকেই মূলত জন্ম নিয়েছিল সেদিনকার কেরাণী শ্রেণী। এই কেরানী শ্রেণী দিনে দিনে ভারি হতে শুরু করলো। যেহেতু তারা সমকক্ষ হতে গিয়ে কিছু পড়া লেখা শিখেছিল তাই তারা আস্তে আস্তে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে পড়লো। এবং যার কারণে ঐ দাস মনোবৃত্তি সমগ্র জাতির উপরই আস্তে আস্তে প্রভাব ফেলতে শুরু করলো। আমি যে বিবর্তনের কথা বললাম তা কিন্তু হুটহাট করে হয়নি। কালের ধুলো জমতে জমতেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর তাই আজ আমরা দেখতে পাই, যে কোন ছেলে অথবা মেয়ে বিয়ে করতে গেলে বা প্রেম করতে গেলে সুন্দর ছেলে বা সুন্দর মেয়ে খোজে। আমার এই কথা শুনে হয়তোবা অনেকেই বলতে পারেন, না আমি এরকম নয়। সেক্ষেত্রে আমি বলবো ব্যাতিক্রম কখোনেই উদাহরণ হতে পারেনা। ব্যাতিক্রমীরা বাধ ভাঙ্গার সূচনা করতে পারে কিন্তু বাধ ভাঙতে পারে না। আর শত বছরের এই মানসিক উপনিবেশিকতা রোধে চাই নব্য জাতীয়তাবাদের উত্থান।

সহজ মানুষ
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×