১.
চন্দ্রনাথ ছিলো আমার খুব কাছের বন্ধু। ছোটবেলায় আমাদের সারাটা দুপুর প্রজাপতির পিছু ছুটে কাটত। চন্দ্রনাথের ঝাকড়া চুল বেয়ে গোধুলী নামত। রাতের বেলায় দূরে কোথাও শিয়াল ডাকলে ভয়ে কুকড়ে যেত সে। চন্দ্রনাথ ছিল আমার বন্ধু; যে কিনা বৃষ্টি শেষে হেসে উঠা রংধনু দেখতে চেয়েছিল। মেঘে মেঘে যে কত বেলা গড়াল! শুধু মেঘে মেঘে বৃষ্টি ঝরে নি।
২.
এক গোধুলী লগনে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিল। আমি আলতা রাঙা পায়ে ছুটতে ছুটতে চন্দ্রনাথের ঘরে এসে পৌঁছলাম....
"চন্দ্র, ও চন্দ্র! মায়া দীঘির পাড় ঘেষে রংধনু ভাসছে! জলদি আয়। জলদি"
চন্দ্রনাথ ঠায় বসে থাকে এক পায়া ভাঙা কাঠের চেয়ারে। আমি সেদিন জেনেছিলাম চন্দ্রনাথের চোখের খোলসে ডাহুক ঘুমিয়ে।
৩.
চন্দ্রনাথ আমার খুব কাছের এক বন্ধু ছিলো। সারা রাত বসে বসে যে তারা গুনতো। একটা, দুটি, তিনটি, চারটি....
আমাদের বৈঠক ঘরের জানালার ধারে বসে এক শালিক তাকে বলতো "উহুঁ, এভাবে গুনতে হয় না। গুনতে হয় এভাবে দুই দু গুনা চার, তিন দু গুনা ছয়..."
আমি বিষন্ন হয়ে সব শুনতাম। শালিক জানত না, আমাদের চন্দ্রনাথের চোখে জোনাকের আলো জ্বলতো না। শালিকটা চন্দ্রনাথের গালে আচড় বসিয়ে দিয়েছিলো।
অনেক রাত হলে সেই দাগ তারাদের মত জ্বলতো।
৪.
চন্দ্রনাথ আমার বন্ধু ছিলো, যে কিনা বড় হলে আমার জন্য এক গোঁছা কলাপাতা রঙা চুড়ি আনবে বলেছিলো। আমি সেদিন ভীষন খুশি হয়ে আমার সদ্য গাঁথা বকুল ফুলের মালাটা পরিয়ে দিয়েছিলাম।
চন্দ্র বলেছিলো "তুই দেখিস, আমি একদিন অনেক বড় হবো। যেখানে সূর্য এসে মিলিয়ে যায় আমি ততদূর যাবো রংধনু ধরতে। উহুঁ মন খারাপ করিস না। আমি ততদূর গেলেও আমার দেয়া কাচের চুড়ি তুর হাতে রিনিঝিনি সুর বাজবে....সেই সুর বাতাস নিয়ে যাবে আমার কাছে।"
"আর এই বকুল ফুলের মালা আমি কোনদিন হারাতে দিবো না"
৫.
বকুলফুলের মালা হারায় নি, শুধু শুকিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। শুধু চন্দ্র আমাকে আর তার গল্প শুনায় না। আমার চন্দ্র আজ সে নিজেই রংধনু হয়ে ঝুলে গেছে আকাশের বুকে।
চন্দ্রনাথ আমার খুব কাছের এক বন্ধু ছিলো।
আলোচিত ব্লগ
গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।