জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্তৃক যৌন নিপীড়নের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা কর্তৃক অবহিত হয়েছি।এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানানো আমি আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছি। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যৌন নিপীড়নের ঘটনা স্বীকার করাই একটি মেয়ের জন্যে অসীম সাহসিকতার পরিচয়। আর এর প্রতিবাদ অবশ্যই বিরল একটি ঘটনা। এ ধরনের বিরল ঘটনার মুখোমুখি যখন আমরা হই তখন বুঝতে হবে সমাজে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। এই পরিবতনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকসমাজ যারা গঠন করে বুদ্ধিজীবী সমাজের মূখ্য অংশ তাদেরকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চাই। অথচ যখন দেখি সম্পূণ উল্টো চিত্র : উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খলনায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এবং অন্য একদল শিক্ষক নৈতিকতার এই স্খলনকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে নিপীড়তকে করছেন আরও নিপীড়ত । শিক্ষকদের এই ভূমিকা আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে: শিক্ষাথীদের প্রতিবাদে যে পরিবর্তনের আশা আমরা করেছিলাম সেই পরিবর্তন আসলে কোনদিকে হচ্ছে ?
আমার মনে পড়ে যখন আমি নিজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলাম তখন ধর্ষক মানিক ও তার সহযোগীদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করতে রাত আর দিনকে একত্রিত করে পথে নেমেছিলাম।সেই সময়ের অনেক দুঃখভরা স্মৃতি এখনও আমার হৃদয়ে দগদগে হয়ে আছে।তখনও একদল শিক্ষক নামধারী নপুংসককে আমাদের পাশে পাইনি আর এখনও আমারই উত্তরসূরী নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা তাদের পাশে পাচ্ছেন না।মাঝখানে শুধু অনেকটুকু সময় বয়ে গেছে কিন্তু দৃশ্য এতটুকু পাল্টায়নি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


