somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ISIS, বকো হারাম, আল কায়েদাসহ সব জঙ্গিরা ধ্বংস হোক

১১ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল একজন ISIS কুলাঙ্গার একটা খ্রিষ্টান দম্পতির গাড়ি আটকে বন্দুকের নলের সামনে জিজ্ঞেস করলো, "তোমরা কী মুসলমান?"
খ্রিষ্টান ভদ্রলোক জবাব দিলেন, "জ্বী জনাব।"
কুলাঙ্গারটার সন্দেহ হলো। তাই সে বলল, "তুমি যদি মুসলিম হয়ে থাকো, তবে কুরআনের একটি আয়াত পড়ে শোনাও।"
খ্রিষ্টান ভদ্রলোক বাইবেল থেকে একটি বাক্য আবৃত্তি করলো।
কুলাঙ্গারটা সন্তুষ্ট হাসি হেসে বলল, "আলহামদুলিল্লাহ! তোমরা যেতে পার।"
গাড়ি সামনে এগিয়ে যাবার পরে ভদ্রলোকের স্ত্রী বললেন, "তুমি কত্তবড় ঝুঁকি নিয়েছিলে বুঝতে পারছো? যদি ধরা পড়তে তাহলে ওরা আমাদের কী করতো কল্পনা করতে পারছো?"
স্বামী খুবই সরল গলায় উত্তর দিলেন, "Relax! ভয়ের কিছু নেই। ওরা যদি জীবনেও কুরআন পড়ে থাকতো, তাহলে কখনই নিষ্পাপ মানুষকে হত্যা করতে পারতো না।"
সন্ত্রাসীদের একটাই ধর্ম। খুনাখুনি। আমাদের মতন তাদেরও একটাই প্রভু। তবে সেটা ইবলিস শয়তান।
উপরের লেখাটির শেষ মন্তব্য ছাড়া পুরোটাই বিদেশী গল্প অবলম্বনে লেখা। এবারে বাস্তব গল্প শোনাই।
কিছুদিন আগে একটা ভিডিও দেখলাম, একজন আশি-নব্বই বছরের বৃদ্ধা কিছু কুলাঙ্গার ISIS সদস্যের একদম মুখের উপর তাদের সন্ত্রাসী, শয়তানের পূজারী, আধুনিক দাজ্জাল ইত্যাদি বলে গালি দিচ্ছিলেন।
ওদের হাতে রাইফেল ছিল - বৃদ্ধার সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপও নেই।
তাঁর অস্ত্র শুধুই কুরআনের বাণী।
"যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দিবে এবং ন্যায় করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় পরায়নকারীদের পছন্দ করেন।" (আল হুজরাত, আয়াত ৯)
জানোয়ারগুলি এইসব শুনে হাসছিল। নিজের চোখে দেখেছি!
বৃদ্ধা যখন আরবি কবিতা (শান্তির আহ্বান করে) আবৃত্তি করে শোনাচ্ছিলেন, তারা একে অন্যের গা টিপে দাঁত কেলিয়ে বলছিল, "দাদী দেখি কবি! হেহেহে।"
এইটাই কী যথেষ্ট প্রমাণ নয় যে তারা মুসলিম নয়? যারা কুরআনের বাণী শুনে হেসে উড়িয়ে দেয়, তাদের মুসলিম বলবেন কোন যুক্তিতে?
আমি ভয়ে ছিলাম এই বুঝি ওরা বুড়িকে গুলি করে হত্যা করে। বুড়ির তেজ দেখেও মনে হচ্ছিল বেচারী আজকেই পৃথিবীকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত হয়ে এসেছেন।
এবং তখনই মনে হলো, এমন মৃত্যুর চেয়ে গৌরবময় আর কী হতে পারে? মরতেতো একদিন আমাদের সবাইকেই হবে, তবে এইভাবে কেন নয়?
সেই যখন কবরেই যাচ্ছি, তবে হেঁটে হেঁটে কেন? লিমুজিনে চড়ে গেলে ক্ষতি কী?
আধুনিক দাজ্জালের মুখের উপর বলা, "তুই শয়তান! তুই ইবলিস! তুই ধ্বংস হ!"
আহা! শ্রদ্ধায় বুড়িকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করছিল। তাঁর মতন সাহস যদি আমাদের সবার থাকতো!
ISIS এর হাতে এখন দুইজন বাঙ্গালি ভাই জিম্মি আছেন। তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটবে একমাত্র আল্লাহই জানেন। হয়তো তাঁদেরও শিরোচ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ হবে ইউটিউবে। হয়তো কোন মিরাকেল ঘটবে, তাঁরা পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারবেন।
তাঁদের পরিবারের লোকেদের কথা কল্পনা করতে পারছেন? কী দুঃসহ তাঁদের দিন কাটছে, কী দুঃস্বপ্নে ভরা রাত?
আমার অন্তত সেটা কল্পনা করার ক্ষমতা নেই।
দিনকে দিন ভাইরাসের মতন এরা ছড়িয়ে পড়ছে, অথচ কেউ কিছু করতে পারছে না। এদের মারতে গেলেই একদল লোক হইহই করে গালাগালি শুরু করেন, "এই শালার আমেরিকা আর তার চ্যালারা মুসলমানদের পৃথিবীর বুক থেকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত শান্তি পাবেনা।"
আর ওরা যে মুসলিমদের ধরে ধরে মারছে?
তখন মিনমিনে গলায় উল্টো যুক্তি দেবার চেষ্টা করে, "ইরাকের গণহত্যা কে শুরু করেছিল? আফগানিস্তানের মিলিয়ন মানুষকে হত্যা কে করেছে? এইটা কারা করেছে? ঐটা কারা করেছে? ব্লা ব্লা ব্লা...."
এদেরকে আহাম্মক বললেও "আহাম্মক" শব্দটার প্রতি অবিচার করা হবে। আফসোস, পৃথিবীতে এই ধরনের লোকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
নাহলে বিশ্বের প্রতিটা মানুষ একজোট হয়ে এদের নির্মূল করতে কতক্ষনইবা লাগতো?
আপনার শরীরের ভিতর ক্যানসার, আপনি যতই সাবান ডোলে গোসল করেন, শরীর সুস্থ হবে? শরীরের ভিতরেই চিকিৎসা করতে হবে।
পৃথিবীর সব বিধর্মী, সব নাস্তিককে কুপিয়ে হত্যা করলে ইসলামের কোনই লাভ হবেনা। ইসলামকে রক্ষা করতে চাইলে সবার আগে ভিতরকার ক্যানসার, ISIS, বকো হারাম, আল কায়েদাসহ সব জঙ্গিদের ধ্বংস করাটা ফরয। এর কোনই বিকল্প নাই।
আমরা যে কবে বুঝবো!
আমাদের যে কবে সেই বৃদ্ধার মতন বুদ্ধি আর সাহস হবে!
আল্লাহ আমার দেশের দুই বাঙ্গালি ভাইকে জালিমের হাত থেকে হেফাজত করে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন।
আল্লাহ পৃথিবীর প্রতিটা মানুষকে এইসব জালিম এবং তাদের চ্যালাদের হাত থেকে রক্ষা করুন!
আপাতত দোয়া করা ছাড়া আর কী যে করবো বুঝতে পারছি না।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×