somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের দেশে পরচর্চার বিরুদ্ধে কোন আইন নেই, এইটাই আফসোস!

০৩ রা জুন, ২০১৫ রাত ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক বিকেলে নবীজি (সঃ) সাফার উপরে উঠে কুরাইশদের উদ্দেশ্যে বলে উঠেন, "আমি যদি বলি এই পাহাড়ের অপর পাশ থেকে এক বিরাট সেনাবাহিনী মক্কা আক্রমনের উদ্দেশ্যে ধেয়ে আসছে, তবে তোমরা কী তা বিশ্বাস করবে?"
মক্কাবাসী জবাবে বলে, "অবশ্যই বিশ্বাস করব। তুমি আল-আমিন! আমরা কখনই তোমাকে মিথ্যা বলতে শুনিনি।"
নবীজি(সঃ) তখন এক বুক আশা নিয়ে বলেন, "তবে জেনে রাখ, এর চেয়েও কঠিন শাস্তি তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। কেয়ামতের দিন যখন তোমাদেরকে তোমাদের প্রভুর কাছে দাঁড়াতে হবে, তখন আমিও তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারব না। সেই ভয়াবহ শাস্তি থেকে বাঁচতে চাইলে এখন থেকেই খারাপ কাজ ত্যাগ করে সৎ পথে ফিরে এসো।"
নবীজির আশা ছিল, তাঁর লোকেরা সহজেই বুঝতে পারবে যে, যে ব্যক্তি পার্থিব কোন স্বার্থে কখনো মিথ্যে বলেননি, তিনি অপার্থিব স্বার্থেও মিথ্যে বলবেন না।
কিন্তু একটু আগেই তাঁকে আল-আমিন ডাকা কুরাইশরা এবার ক্ষেপে উঠলো। আবারও সবচেয়ে বেশি গলা উঁচু করলো আবু লাহাব। সে এক মুঠ ধুলি মাটি থেকে তুলে নিয়ে নবীজিকে গালাগালি করে তাঁর দিকে ঢিল ছুড়ে মেরে বলে, "তুমি ধ্বংস হও ইয়া মুহাম্মদ! তুমি বলতে চাও, আমাদের বাপ দাদার ধর্ম মিথ্যা এবং তোমার ধর্ম সত্যি?"
কুরাইশদের কাছে "বাপ দাদার" যেকোন কিছুই ছিল সন্দেহাতীতভাবে ভাল। তাই আবু লাহাবের সাথে সবাই একযোগে নবীজির (সঃ) বিরোধিতা করলো এবং তাঁকে অভিশাপ দিতে লাগলো। জবাব এলো আল্লাহর তরফ থেকে, "আবু লাহাবের হাত দুটি ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে। কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। খুব শীঘ্রই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে। এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে, তার গলদেশে খেজুরের কাটার রশি নিয়ে।" (সুরাহ লাহাব)
দোজখে দুই স্বামী স্ত্রীকে দিয়ে জাহান্নামের আগুনের ইন্ধন বহন করানো হবে, এবং খেঁজুর কাটায় তৈরী দড়ি গলায় জড়িয়ে টানা হবে। আল্লাহর ওয়াদা! কী ভয়াবহ অভিশাপ!
আবু লাহাব কেন ধ্বংশ হোক এটা সবাই বুঝতে পারছেন। প্রশ্ন আসতে পারে, তার স্ত্রী কোন অপরাধে অপরাধী হলো?
এই মহিলা সামনা সামনি ভাল থাকলেও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নবীজির নামে মিথ্যা রটনা রটাতো। আধুনিক ভাষায় যাকে আমরা কুটনামি বলি, ইংরেজিতে যাকে বলে গসিপ এবং আমাদের অনেকের মধ্যেই যে স্বভাবটি ভাল মতই বিদ্যমান।
"জানেন? পাশের বাড়ির নতুন ভাড়াটে সুহানা আছে না? আরে ঐ যে সবাই সুন্দরী সুন্দরী বলে, যদিও আমার চোখে তাকে কখনই সুন্দরী বলে মনে হয়না - এইটা কিন্তু তার সেকেন্ড বিয়ে। আগেরটা ডিভোর্স হয়ে গেছে। খবর এক্কেবারে পাকা!"
এখন আমাদের হজরত খাদিজার (রাঃ) তৃতীয় স্বামী ছিলেন হজরত মুহাম্মদ(সঃ)। যাইদের সাথে জয়নবের ডিভোর্সের পরেই নবীজি (সঃ) তাঁকে বিয়ে করেছিলেন। তাহলে "ডিভোর্স" হওয়ায় সুহানা কি করে খারাপ হয়ে গেল?
সাময়িক আনন্দের জন্য, বা সময় কাটানোর জন্য আমরা সত্য মিথ্যা না জেনেই মানুষের ব্যপারে ফালতু কথা বলি।
"কালকে ভাবিকে দেখলাম মার্কেটে অন্য এক পুরুষের সাথে হেসে হেসে গল্প করতে। তোর কোন শালা আছে তাতো জানা ছিল না।"
প্রথম কথা, আমার কয়টা শালা আছে সেটা তোকে হিসাব রাখতে হবে কেন? দ্বিতীয় কথা, আমার বউ কার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে, সেই কৈফিয়ৎ তোকে কেন দিতে হবে? তারচেয়ে বড় কথা, তুই আমার বৌয়ের ব্যপারে এত আগ্রহী কেন?
কিন্তু এসব বিবেচনায় না নিয়ে আমরা শয়তানের ফাঁদে পা দেই, এবং ঘরে অশান্তি টেনে আনি।
সত্য ঘটনা হলো, মহিলা হয়তো অত্যন্ত নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে পূর্বপরিচিত কোন পুরুষের সাথে সামান্য কিছু কথা বলছিল।
আমাদের কারনে অন্যের সংসারে যে আগুন লেগে যাচ্ছে সেটা জেনেও না বুঝার অভিনয় করি। মোটেও পাত্তা দেইনা।
কেউ কেউ আছি ইচ্ছা করেই মানুষের মনে আঘাত দেয়ার জন্য কাজটা করি।
"শুনলাম তোমার বোন্ নাকি পালিয়ে বিয়ে করেছে? তা তোমাদের বাড়ির এখন কী অবস্থা?"
অথবা, "আপনার ছেলের পরীক্ষায় এত বাজে রেজাল্টের কারন কী?"
কিংবা, "ভাবি, মেয়ে বড় হলে চোখে চোখে রাখতে হয়। দিনকাল খারাপ। কবে ইন্টারনেটে সিডি বেরিয়ে আসে, কে বলতে পারে?"
এই স্বভাবের সবার উদ্দেশ্যেই আয়াতটি প্রযোজ্য। শাস্তি বুঝতে পারছেনতো? জাহান্নামের আগুনের ইন্ধন বহনকারী!
যদি আপনার মধ্যে এই স্বভাব থাকে, এখনি তওবা করে নিজেকে শুধরে ফেলুন।
আর যাদের মধ্যে এই স্বভাব আছে, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন। চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, খুন ইত্যাদির মতই পরনিন্দা ও পরচর্চাও একটি ভয়াবহ সামাজিক অপরাধ। আমাদের দেশে এর বিরুদ্ধে কোন আইন নেই, এইটাই আফসোস!
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫



আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। পরিচিত যারা কাজ করেন তেমন দু একজনের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×