"তোদের নবী এই করেছিল ঐ করেছিল। তোদের আল্লাহ এই, ঐ।"
বলেই একদল ফাজিল মিথ্যা আজগুবি বানোয়াট আংশিক সত্য ইত্যাদি ঘটনা বয়ান করবে।
"মুখ সামলে কথা বল হারামজাদা!"
এই হবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জবাব।
"গালাগালি না করে যুক্তি দেখা ছাগু কোথাকার।"
পোস্টদাতা যেই মাত্র এই কথা বলবে, মুমিন ব্যক্তি তখন আর কোন যুক্তির ধার ধরবে না। পরিকল্পনা করবে এই হেট স্পিচ ছড়িয়ে বেড়ানো নরাধমকে ওপারে পাঠিয়ে সমাজকে আবর্জনামুক্ত করার।
এবং একদিন ঠিকই সুবিধা মতন জায়গায় পেয়ে "বিসমিল্লাহ" বলে উইকেট ফেলে দিবে।
কথা এগুবার আগে অন্য একটা কথা বলে নেই।
মুহাম্মদ (সঃ) নামের এক ব্যক্তি সেই ১৪০০ বছর আগে জাহেলি আরব সমাজে এই শিক্ষা দিয়েছিলেন যে নিজেদের অধীনস্থ দাসেদের সাথে সদয় আচরণ করতে। মালিক যা খাবে, যা পরবে, অধীনস্থ দাসেদেরও যেন তাই খাওয়ানো হয়, তাই পড়ানো হয়।
গোত্র ভিত্তিক সেই আরব সমাজে হুদায়ফা ইবনে উৎবা ছিলেন উৎবা ইবনে রাবিয়ার পুত্র। চিনেছেন তাকে? বনু আব্দ শামস গোত্রের অন্যতম প্রধান, মক্কার অন্যতম ডেলিকেট নেতা ছিলেন এই উৎবা। পিতৃ পরিচয় ছাড়াও হুদায়্ফার আরেকটি পরিচয় ছিল। তাঁর আপন দুলাভাই ছিলেন আবু সুফিয়ান। আরেকজন বিগ শট কুরাইশ নেতা। এখানে নেতা বলতে ধরে নিতে পারেন একেকজন স্বীয় গোত্রের রাজা। কারন মক্কায় কখনই অফিসিয়ালি কোন রাজা ছিলেন না। গোত্রপ্রধানের নির্দেশই সবাই মেনে চলতো।
এমন সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে হয়ে তিনি করলেন? নিজের দাস সেলিমকে (সেলিম মাওলা আবু হুদায়ফা(রাঃ)) পাশে বসিয়ে এক পাতে খাবার খাওয়া শুরু করে দিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই সেলিমকে পালক নিলেন। তারপর নিজের আপন ভাই বানিয়ে দিলেন। মুহাম্মদের (সঃ) নির্দেশ বলে কথা!
ব্যাটল অফ ইয়ামামাতে হুদায়্ফা এবং সেলিম দুজনই শহীদ হন। রাদিয়াল্লাহু আনহু। এবং সেই যুদ্ধের বিজয়ী সেনাপতি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ(রাঃ) (আল্লাহর তরবারী নাম যিনি ইতিহাসে অমর) বলেন "এরা দুইজন আপন ভাইয়ের মত বেঁচেছে। এবং আপন ভাইয়ের মতই শাহাদাত বরণ করেছে। এই দুই ভাইকে একই কবরে কবর দিও। আল্লাহ তাঁদের দুইজনের শাহাদাত কবুল করুন।"
এছাড়া এই কথা নিশ্চই সবাই জানেন যে মুহাম্মদ (সঃ) নিজেও কখনই দাস রাখতেন না। দাসেদের মুক্ত করে অপশন দিতেন, "ইচ্ছা করলে তোমরা আমার সাথে থেকে যেতে পার, ইচ্ছা করলে চলেও যেতে পার।"
আবু বকর(রাঃ) নিজের সম্পত্তির একটা বিরাট অংশ ব্যয় করেছিলেন অন্যের দাসেদের (যারা অত্যাচারিত হতেন) কিনে কিনে মুক্ত করার পেছনে। তাই আমরা দেখতে পাই ইসলামের প্রথম অফিসিয়াল মুয়াজ্জিনের নাম বেলাল ইবনে রাবাহ(রাঃ), অতীত জীবনে যিনি ছিলেন একজন আবিসিনিয়ন ক্রীতদাস। কোন সম্ভ্রান্ত আরব পরিবারের সন্তান নন।
কথা হচ্ছে, আপনি এখন অতি আধুনিক সমাজে বাস করেন। আমরা চাঁদে মানুষ পাঠিয়ে দিয়েছি চল্লিশ বছরেরও আগে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে যেতে আমাদের একদিনও সময় লাগেনা। ম্যালেরিয়া, বসন্ত, যক্ষা, পোলিও ইত্যাদি রোগ থেকে আমরা প্রায় মুক্তি পেয়ে গেছি। ইনশাআল্লাহ ক্যান্সার, এইডস ইত্যাদি রোগের থেকেও মুক্তি মিলবে দ্রুত। প্রশ্ন হচ্ছে, এমন সুসভ্য সমাজে বাস করেও আপনি আপনার অধীনস্থ লোকজনদের সাথে, সহজ ভাষায় কাজের লোকের প্রতি কতখানি সহানুভূতিশীল? বিইং প্র্যাকটিকাল, আমি আশাও করছিনা সাহাবীদের মতন এক থালে খাবার কথা, আমি বলছি নিজের বাড়ির কাজের লোককে কী আপনি নিজের বাড়ির একটা চেয়ারেও বসতে দেন? আপনার লেভেলের বিছানাতো দূর কী বাত, আপনি কী আদৌ মেঝেতে তাঁদের শোয়ার জন্য একটা তোষক কিনে দেন? আমি অনেক "বড়লোকের" বাড়িতে দেখেছি কাজের লোক স্রেফ একটা চাদর বিছিয়ে তেলচিটচিটে নোংরা বালিশ মাথার নিচে দিয়ে শুয়ে পড়ছে। বাড়িতে দামী দামী ডিশ রান্না হচ্ছে, কিন্তু ওদের পাতে আপনিই তুলে দিচ্ছেন বাসী গন্ধ ছোটা তরকারী অথবা ভেজিটেবল। মাংশ রান্না করেও তার স্বাদ তাঁরা পায় না।
আর যদি কোন কিছু মিসিং হয় তাহলে তো ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। আপনার নিজের ছেলে মেয়ে যদি সেই একই জিনিস চুরি করতো, তাহলে কী আপনি ওদেরও এভাবে মারধর করতেন?
এই ঘটনা হেট স্পিচ ছড়িয়ে বেড়ানো মুক্তমনার বাড়িতেও ঘটে। আবার নবী প্রেমে অন্ধ, মানুষ খুনে উন্মাতাল, মুমিন মুসলমানের বাড়িতেও ঘটে।
হামাগুড়ি দেয়া যে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ির ছুটা বুয়া কাজ করতে আসে, একবারও তার মাথায় হাত বুলিয়ে তার মায়ের কাছে খোঁজ নিয়েছেন সে পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছে কিনা? এইদিকে আপনার নিজের সন্তান হয়তো অতিরিক্ত পুষ্টির চোটে বাজারের কাপড়ের দোকানে শর্টেজ ফেলে দিচ্ছে।
মুক্তমনারা সমাজের মুক্তির জন্য এত পরিশ্রম করে একটা লোকের এত এত দোষ বানিয়ে বানিয়ে লিখে তাঁকে অবমাননা না করে শুধু নিজের "অধীনস্থ" লোকেদের প্রতিই যদি সদয় হতো, তাহলে সমাজের মুক্তি আপনাতেই ঘটতো।
এবং নবীকে অপমান করায় জিহাদী জোশে অন্ধ হয়ে কোন মুমিন মুসলমান কারও মাথা না ফেলে যদি সেই একই নবীর নির্দেশ পালন করে যেত, তাহলেও বহু আগেই সমাজের মুক্তি ঘটে যেত।
আমরা হচ্ছি অতি আজাইরা একটা জাতি। হাতে অনেক আজাইরা সময় থাকায় অতি সহজ কাজকে অতি সহজভাবে চিন্তা না করে সবসময়ে আজাইরা পথটাই বেছে নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

