somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লাহ এবং নবীর দুশমনের" সাথে ফ্রেন্ডশিপ করে আমি জাহান্নামী হতে চাই না

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার নবীর (সঃ) জীবনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে তারপরে লেখা শুরু করি।
তিনি হিজরত করার আগে মদিনায় তিনটি ইহুদি গোত্রের বাস ছিল। ওরা শত শত বছর ধরে মদিনার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিকৃষ্ট শ্রেণীর মানুষ বলে গণ্য করতো। প্রকাশ্যেই অহংকার করতো। কারন তাঁদের আসমানী কিতাব আছে, তাঁদের "শরিয়া" (আইন) আছে, তাঁরা সভ্য জাতি।
বাস্তবেই কিন্তু ঘটনা সত্য। আরবের অন্যান্য অঞ্চলের লোকেদের কোন আইন শৃঙ্খলা সভ্যতা কিছুই ছিল না, তাওরাতের (ওল্ড টেস্টামেন) কারনে ইহুদিরা আসলেই এলিট শ্রেণীর ছিলেন। বর্তমান যুগের হিসাব নিলে পশ্চিমারা যেমন আমাদের তৃতীয় বিশ্বের লোকজনের দিকে তাকিয়ে নাক সিঁটকায়, আমরা বাঙালিরা যেমন রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে আফ্রিকার কালোদের দিকে তাকিয়ে নাক সিঁটকাই, কালোরা আবার একে অপরের দিকে তাকিয়ে নাক সিঁটকায় (নাইজেরিয়ান ও কেনিয়ান দুই বাসিন্দাকে পাশাপাশি বসিয়ে মজা দেখুন) - এই নাক সিঁটকা সিঁটকি সর্বযুগে সর্বত্র ছিল।
এই নাক সিঁটকানো বা "অহংকার" কখনই ভাল না।
তা ইহুদিদের তাওরাত মতে শেষ নবী (সঃ) আগমনের সময় হয়ে এসেছিল। তাঁরা নিশ্চিত ছিল তাঁদের তিন গোত্র থেকেই তিনি নির্বাচিত হবেন। ঘটনা ঘটলো ঠিক উল্টো। যেই আরবদের তাঁরা নিকৃষ্টজ্ঞান করে আসছিল, শেষ পয়গম্বর নির্বাচিত হলেন সেই আরবদের থেকেই। তাঁদের প্রধান রাবি (ধর্মযাজক) রাসূলুল্লাহর সাথে দু চারটা কথা বলেই মুসলিম হয়ে গেলেন, কিন্তু ইহুদি নেতাদের অহংকারের কারনে তিন গোত্রের ইহুদিরা মুসলিম হলো না। প্রকাশ্য নিদর্শন থাকার পরেও। কেন? তাহলে যে এতদিন ধরে নিকৃষ্টজ্ঞান করা আরবদের সমান হয়ে যাবেন! আপনি পারবেন আপনার বাড়ির কাজের লোকের সাথে একই টেবিলে বসে ভাত খেতে? যদি না পারেন, তাহলে ভাই আপনি এখনও মুসলিম হতে পারেননি। দুঃখিত, তবে এটাই সত্য।
ইহুদিরা বনি ইস্রাঈলের বংশধর। ইসরাইল মানে হচ্ছে ইয়াকুব (আঃ) নবী, মানে ইসহাক (আঃ) নবীর পুত্র, মানে ইব্রাহিমের (আঃ) নাতি। আর আরবরা ছিলেন ইসমাঈলের (আঃ) বংশধর, মানে ইব্রাহিমের (আঃ) পুত্র। ইহুদি এবং আরবরা সম্পর্কে আপন কাজিন। কিন্তু যেহেতু ইসহাকের বংশধর মহাসমৃদ্ধ, প্রতি জেনারেশনে একটি করে নবী এসেছেন, এবং ইসমাঈলের বংশে এক মুহাম্মদ (সঃ) ছাড়া আর কোন নবী নেই, তাই ওরা নিজেদের কুলীন সম্প্রদায় ভাবতো।
যাই হোক, নবী (সঃ) আগমনের পরে ইহুদিদের সাথে কিছু চুক্তি সই করেন। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য যে চুক্তির কোন বিকল্প ছিল না।
বদরের যুদ্ধ পরে বনু কায়নুকাহ গোত্রের বাজারে এক মুসলিম নারী বাজার করতে গেলেন। এক ইহুদি দোকানি সেই মহিলার সাথে "ফ্লার্ট" করতে লাগলো। মহিলা খুবই বিরক্ত হচ্ছেন দেখে সেই ইভটিজিংয়ে আরও কয়েকজন যুক্ত হলো। একজন সেই মহিলার অজান্তে তাঁর কাপড়ের এক কোণে একটি ভারী বাটখারা রেখে দিল।
মহিলা বিরক্ত হয়ে সরে যেতে গেলে সেই বাটখারায় টান পড়ে এবং তাঁর কাপড় পুরোটা খুলে যায়। পুরো বাজারে ভদ্রমহিলা সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে যান এবং এ দৃশ্যে পুরো বাজার উল্লাসে ফেটে পড়ে।
এক সাহাবী সেই বাজারে তখনই উপস্থিত ছিলেন। "বোনের" এই অপমান তিনি সহ্য করতে পারেননি। হাতে ধরা তলোয়ার নিয়ে সেই ইভটিজার বদমাইশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ইহুদি গোত্রের সবাই সেই সাহাবীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি শহীদ হবার আগে সেই বদমাইশটার ইহজগতের লীলা সাঙ্গ করেন।
খবরটা নবীর (সঃ) কানে পৌঁছাতেই তিনি সমস্ত মুসলিমদের ডাক দেন বনু কায়নুকাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে। মুসলিম নারী লাঞ্ছনা ও সাহাবী হত্যার মাধ্যমে ওরা চুক্তিভঙ্গ করেছে। মুসলিমরা ইহুদি দূর্গ ঘেরাও করেন, ওদের আত্মসমর্পনে বাধ্য করেন, এবং মদিনা থেকে বিতাড়িত করেন।
এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে।
"আল্লাহর দৃষ্টিতে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান হচ্ছে মসজিদ, এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান হচ্ছে বাজার।" এই ব্যাপারে মুসলিমদের কারোর দ্বিমত নেইতো? দ্বিমত থাকলেও কিছু করার নেই, নবীর (সঃ) সহীহ হাদিস (মুসলিম শরীফ)। বাহুবলীর ভাষায়, "তাঁর (নবীর) বচনই ইসলামের শাসন।"
তা সেই নারী কোথায় গিয়েছিলেন? বাজারে। কাদের বাজারে? ইহুদি বাজারে। পর্দা ছিল? হয়তো ছিল, হয়তো ছিল না। ডিটেইল জানা নেই। যেহেতু ইহুদি বদমাইশ তাঁর সাথে ইভটিজিং করছিল, ধরে নেয়া যেতে পারে মুখ দেখা যাচ্ছিল। ড্রেস কেমন ছিল? জানিনা, তবে মনে হয় স্রেফ একটি চাদর জড়িয়ে গিয়েছিলেন, কারন একটি বাটখারার টানেই যেহেতু পুরো পোশাক খুলে গিয়েছিল, ধরে নেয়া যেতে পারে এয়ার টাইট পোশাক ছিল না।
শহীদ সাহাবীর কথা বাদই দিলাম, আমাদের নবী (সঃ) কী একবারও এইসব প্রসঙ্গ তুলেছেন? সাফ উত্তর, না।
ঘটনা যদি বাংলাদেশে ঘটতো, তাহলে বাঙালিরা কী বলতো? "পর্দা ঠিক ছিল না।"
"বেহায়া মেয়ে মানুষ অশ্লীল পোশাক পড়বে, ধর্ষণ হলেই কান্নাকাটি!"
"ইসলাম বলে পর্দা করতে, তোরা ইসলামী দেশে বেপর্দা হয়ে ঘুরবি, আর গায়ে হাত দিলেই চিল্লাচিল্লি করবি? মাগি, বেশ্যা.....।"
এই সমস্ত ইতর, অসভ্য, বর্বর "মুসলিম" বাঙাল মুলুকে প্রচুর পাবেন। একটা শূকরছানাকেও দেখবেন না সেই সাহাবীর মতন নিজের জীবনের পরোয়া না করেও নিজের মুসলিম বোনের লাঞ্ছনার জবাব দিতে অসভ্য ইতর জানোয়ারটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে। বনু কায়নুকার ঘটনা আজকে আমাদের নিউমার্কেটে ঘটলে সেই ইহুদি বদমাইশগুলোর মতন আজকের বাঙালি "মুসলিমগুলো" দাঁত ক্যালিয়ে মজা নিত। আমাদের নবী এদের বিরুদ্ধেই নিজের সাহাবীদের জড়ো করে ঢাকা ছাড়া করতেন।
"গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না" টিশার্ট থেকে শুরু করে মাদ্রাসা ছাত্রীর গায়ে আগুন জ্বালাবার ঘটনা গত কয়েকদিনে ঘটেছে। এইসব ঘটনা আমাদের অসভ্য, কুৎসিত রূপটাই বের করে আনে শুধু।
যারা টিশার্ট পরিহিতা মেয়েদের নিয়ে ট্রল করছে, ইসলামী পর্দাজ্ঞান শেখাতে আসছে, জেনে রাখুন, সুযোগের অভাবে এইসমস্ত জানোয়ারগুলো মেয়েদের ধর্ষণ করছে না। এদের একটু সুযোগ দেন, এরা মেয়েদের উপর ঝাঁপিয়ে না পড়লে আমি আমার নাম বদলে দিব।
যাই হোক, অনেক গভীর কথা বলে ফেললাম।
নিজের আচার আচরণ এবং নিজের আসল চেহারা নিয়ে ভাবতে থাকুন। শুধরে ফেললে ভাল। নাহলে আমাকে ব্লক করুন। "আল্লাহ এবং নবীর দুশমনের" সাথে ফ্রেন্ডশিপ করে আমি জাহান্নামী হতে চাই না।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:০০
১৩টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফাউন্টেন পেন আর কালির দোয়াত... (জীবন গদ্য)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০



ফাউন্টেন পেন আর দোয়াতের কালিতে আমরা কত সুখি ছিলাম। কত উচ্ছ্বল শিক্ষাজীবন,হই হুল্লোড় আর সুখ আনন্দে ভরা ছিল জীবন। নীল সাদা স্কুল ড্রেস,কালির ছিটার কালো নীল রঙ ছাপ,আহা আমাদের সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী থেকে বাংলাদেশ, মুক্তির কন্টকিত পথে (তেইশ জুন স্মরণে)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:২৫



বিষাদ আঁধার এক
কেড়ে নেয় শক্তি সাহস
হতাশা, জোকের মতো নিভৃতে চোষে খুন;

অনিশ্চিত আশায়
বিপ্লবীর অকাল বোধন স্বপ্নে
ব্যার্থতার দায় ঢাকে ‘কিন্নর’ সুধিজন!

তেইশ জুন, সতেরশো সাতান্ন
প্রতারণা, শঠতা আর মিথ্যেতেই
রাতের আঁধারে ডুবে যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহুরে ফোকলোর

লিখেছেন কিবরিয়া জাহিদ মামুন, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৯:৫৫



ক্লাশ থৃ তে পড়ি । প্রয়াত মিনু স্যার একদিন ক্লাশে বল্ল, তোরা আজকের শিশু তোরা একদিন বড় হবি । বড় হয়ে এই দেশ চালাবি । আজকে এরশাদ সাহেব দেশের প্রেসিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (তৃতীয় তথা শেষ পর্ব)

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৪ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৪



মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ১)
মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ২)


ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে একটা লম্বা হাটা দিতে হবে। অবশ্য চাইলে মেট্রোও (আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন) ব্যবহার করা যায়, কারন ডে-ট্রাভেল কার্ড এমনিতেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিণয়

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৪ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:১০


আদরণীয়, কোথায় দিলে ডুব?
পানকৌড়ি যেমন অন্ন অন্বেষণে—
সরোবরজল তলে
তুমিও কী ঠিক তেমন কারণে?
চোখের আড়ালে থেকে রহিলে নিশ্চুপ…
বলো কোথায় দিলে ডুব?

চলছিলো ভালই প্রিয়ংবদা বলছিলে মধুকথা
কাটছিলো সময় মধুময়
গাড়ি চালনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×