somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই যুক্তি মেনে নিলে বাংলাদেশের ৯০% জনতাই অমুসলিম, থার্ড পার্টি বা তোতাপাখি মুসলমান। আপনারা সেইটাই বা মানবেন?

১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে এক বন্দুকধারী জুম্মার নামাজের সময়ে ঢুকে গুলি করে অর্ধশত মুসলমান মেরে ফেলল। হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট সেই ফ্যানাটিক সন্ত্রাসীর যুক্তি ছিল পরিষ্কার, "মুসলিমরা সবকিছু দখল করে ফেলছে।"
জেনোফোবিক, ইসলামোফোবিক, মহা রেসিস্ট হোয়াইট সুপ্রিমিস্টদের মেন্টাল সমস্যা আছে, ওদের ব্যাপারে একটু খোঁজ খবর নিলেই জানতে পারবেন। শুধু মুসলিমই না, পৃথিবীর সমস্ত জাতি, বর্ণ সম্পর্কেই ওরা মেন্টাল। সেদিন নিউজিল্যান্ডে মুসলিমদের হত্যা করেছে, কয়েক বছর আগেও ওরা আমেরিকায় কালো মারতো (এখনও সাদা পুলিশরা গুলি করে কালো মারে, এখনও হোয়াইট সুপ্রিমিস্টরা পারলে গুলি করে কালো সহ পৃথিবীর সব জাতিকে শেষ করে দেয়), এশিয়ানদের (চীন/জাপান এলাকার টানা চোখের মানুষ) উপর আক্রমনের ঘটনাও ঐতিহ্যবাহী। কিছুদিন আগেই এক পার্লারে ঢুকে গুলি করে কয়েকজন নিরীহ এশিয়ানকে হত্যা করা হয়েছে আমেরিকায়। এছাড়াও ম্যাক্সিকানদের, ল্যাটিন আমেরিকানদের উপর বর্ণবাদ চলে, আমাদের "ব্রাউনি"দের উপর চলে, এমনকি ইহুদিদের উপরও চলে। ইজরায়েল রাষ্ট্রের জন্মই হয়েছে এই ইউরোপিয়ানদের বর্ণবাদের কারণেই।
তা নিউজিল্যান্ড আমেরিকা থেকে বেশ দূরের দেশ। পৃথিবীর অন্য প্রান্তে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে যখন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলো, পরদিন আমাদের মসজিদগুলোতে মুসলিমদের পাশাপাশি পুলিশের ভিড়ও ছিল লক্ষ্যণীয়। টুইন টাওয়ারের ঘটনার পরে আমেরিকায় অনেক মসজিদেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আমাদের পরিচিত এক বাঙালি বড় ভাই গুলি খেয়ে মরতে বসেছিলেন। বহু স্থানে মসজিদ পোড়ার ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হবার প্রথম মাসেই মুসলিম পুরুষের গাড়িতে ও এক মহিলার শরীরে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। প্রতি জুম্মা ও ঈদে তাই আমরা দেখতে পাই আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রচুর পুলিশ মসজিদে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁরা চাননা অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনা ঘটুক।
কথা হচ্ছে, পূজার সময়ে বাংলাদেশে নিয়মিতই মন্দির মন্ডপ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। "বিচ্ছিন্ন ঘটনা"ও যদি বলেন, তারপরেও ঘটেতো, নাকি? এই যে উপরে যেসব ঘটনা বললাম, ইচ্ছা করলেই কিন্তু সেইসব দেশের সরকারগুলি বলতে পারতো "বিচ্ছিন্ন ঘটনা।" নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে এমন ঘটনা বোধয় প্রথম ঘটলো, আমেরিকায় হাজার হাজার মসজিদের মধ্যে কেবল এক দুইটিতে আগুন লেগেছে, কয়েক লক্ষ মুসলিমের মধ্যে মাত্র দুইজনের গায়ে আগুন দেয়া হয়েছে; বা কেবল এক পরিবারের বাড়িতে ঢুকে গুলি করে পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে....কিন্তু এরা "বিচ্ছিন্ন ঘটনা" বলে এসবকে সাইডে সরিয়ে রাখছে না। নিউজিল্যান্ড তাঁদের আইনই পাল্টে ফেলল, আমেরিকাতেও প্রতিটা মসজিদে মসজিদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলো। "বিচ্ছিন্ন ঘটনা" বলে পার পাবার চেষ্টা চলে বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তানের মতন দেশগুলিতে, যেখানে বিচারের নামে শুধু প্রহসন চলে এবং জনতা সাম্প্রদায়িক ইতরামিকে তুচ্ছ করার ধান্দায় লিপ্ত। হাস্যকর লাগে যখন এই জনতাকেই দেখি ফিলিস্তিনের জন্য মায়া কান্না কাঁদতে, কাশ্মীরের জন্য কাঁদতে, আফগানদের জন্য আল্লাদ দেখাতে। যত্তসব ভণ্ডামি!
তা বাংলাদেশে পূজার সময়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়না কেন? বিরোধী দলের যেকোন কর্মসূচির আগে সরকারকে দেখি পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী দিয়ে মাঠ দখল করে নিতে। যেকোন ফোনালাপ, সেটা দুই নেতার মধ্যকার হোক বা মাওলানা সাহেবের সাথে তাঁর বিবির মান ভাঙ্গানো আলাপ হোক, সরকার ফাঁস করে দেয়; তাহলে পূজার সময়ে সরকার এত ঢিলামি করে কেন? এই যে হামলাগুলো হলো, হয় এবং হচ্ছে, এগুলোতে সংঘবদ্ধভাবেই হচ্ছে, নাকি? কারোর ফোন থেকে, ফেসবুক থেকে, হোয়াটসআপ থেকে ম্যাসেজ, কল ইত্যাদি যাচ্ছে, জঙ্গিরা একত্র হচ্ছে, তারপরে আক্রমন হচ্ছে। কয়েক ঘন্টার মামলা। কোথাও কোথাও কয়েকদিনের। এতটা সময় পাওয়ার পরেও ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না? আমাদের প্রশাসনের লোকবল কম? আরও বেশি পুলিশ লাগবে? নাকি আর্মি, বিজিবি ইত্যাদি? কিন্তু বিরোধীদলের কর্মসূচির সময়ে এত লোকবল সরকার পায় কিভাবে? তখনতো দেখা যায় তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে।
পূজার আগেই হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা কেন পুলিশের কাছ থেকে বাড়তি সিকিউরিটি চেয়ে আনে না? সিসিটিভি ক্যামেরা কি এখন এতই দুর্লভ যে মাত্র কয়েকদিনের জন্যও ভাড়া করা যায়না? তাহলেইতো স্পষ্ট ধরা যেত কে কোরআন রেখে গেছে।
সেদিন এক পোস্টে বললাম, ইসলাম কিছুতেই, কোন অবস্থাতেই নির্দোষ কারোর উপর জুলুমের অনুমতি দেয় না। যদি সেই স্পেসিফিক মন্দিরের হিন্দুরা সংঘবদ্ধভাবে কুরআন অবমাননা করেও থাকে, তারপরেও আল্লাহ বা তাঁর রাসূল বা রাসূলের সাহাবীগণ অনুমতি দেননা সেই মন্দিরের পাশের মন্দিরও ভাংচুর করতে। দেশের অন্য প্রান্তের মন্দির/মন্ডপ/হিন্দু বাড়িঘর আক্রমনতো বহুদূরের কথা। যদি প্রমান হয়ও যে এই মন্দিরের লোকজন অবমাননা করেছে, তারপরেও মুসলিমদের উপর নির্দেশ হচ্ছে প্রশাসনকে চাপ দিয়ে দ্রুত এর নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়া নয়।
তা এক ভাই আসছিল আমার পোস্টে ট্যাটনামী করতে। "অন্যায়কারী যদি প্রথমে অন্যায় শুরু করে থাকে, তবে ওকেতো ছাড় দেয়া যাবেনা।" ঘুরায়ে ফিরায়ে এই বর্বরতার পক্ষে মিনমিন করা আর কি।
তা আমার পাঠকরা নিশ্চই জানেন যে ইসলামের নামে কেউ যখন ট্যাটনামী করার চেষ্টা করে, সেটা আমি সহ্য করতে পারি না। তাই উনাকে বললাম, হজরত উসমানকে (রাঃ) যারা হত্যা করে, হজরত আলী (রাঃ) ক্ষমতায় গিয়ে ওদের কারোর বিচার করেননি। এক মাস গেল, দুই মাস গেল, এইভাবে মাসের পর মাস গেল, বিচার আর হয়না। স্বাভাবিকভাবেই মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ জমা হলো। হজরত উসমান (রাঃ) আমাদের নবীজির (সঃ) অন্যতম প্রিয় সাহাবী, তাঁর দুই দুইটি মেয়ের সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। মিষ্টভাষী ও লাজুক স্বভাবের জন্য তিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সর্বজন শ্রদ্ধেয়। এছাড়া ধনাঢ্য উসমানের হৃদয় ছিল আকাশের মতন বিশাল, মুসলিমরা যতবার, যতরকম অর্থকষ্টে পড়েছেন, তিনি আল্লাহর নাম নিয়ে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দান করে গেছেন। ইসলামের ইতিহাসে দানের কোয়ান্টিটির দিক দিয়ে তাঁর পর্যায়ের কোন সাহাবী ছিলেন না। এই কারণেও উসমান ছিলেন সবার প্রিয়। আশি উর্দ্ধ বয়স্ক খলিফার এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্বাভাবিকভাবেই মুসলিমরা ফুঁসছিলেন। এদিকে তাঁর গোত্রের লোকেরাতো (উমাইয়া) আত্মীয়তার টানেই চাইছিলেন খুনের বদলে খুন। তাঁরা হজরত আয়েশাকে (রাঃ) গিয়ে বলেন, তিনি যদি খলিফার উপর চাপ দেন, তাহলে বিচার হবে।
তা হজরত আলীর (রাঃ) এই দেরির কারণ কি ছিল? অতি সহজ। "আমি অবশ্যই বিচার করবো, কিন্তু আমাকে অপরাধী শনাক্ত করে দেখাও।"
খুবই স্বাভাবিক। হাজার খানেক মানুষ বিদ্রোহ করেছে, যার মধ্যে পাঁচ ছয়জন হামলা করে হত্যা করেছে। বাকি হাজার জনের হয়তো ইনটেনশন বা নলেজ কিছুই ছিল না হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে। যারা বিচার চাইছেন, তাঁদের দাবি এই হাজার জনের উপরই যুদ্ধ ঘোষণা করা হোক। আর আলীর (রাঃ) কথা হচ্ছে, সেই জাহেলী যুগ বহু আগেই গত হয়েছে। অপরাধীর অপরাধের সাজা কেবল অপরাধীকেই দিতে হবে, তার গোষ্ঠীকে নয়।
নবীর সীরাত ভর্তি এমনসব ঘটনায়। হাদিস ভর্তি এমন সব ঘটনায়। কুরআনে প্রচুর আয়াত আছে জুলুমের বিরুদ্ধে, জুলুমকারীর ভয়াবহ শাস্তির ব্যাপারে। আলী (রাঃ) কোন সাহসে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিরুদ্ধে যাবেন? আমরা ভুলে যাই, এই সেই আলী (রাঃ), যিনি খলিফা থাকাবস্থাতেও এক ইহুদীর কাছে নিজেরই বস্তুর মালিকানা মামলা হেরে গিয়েছিলেন। তাঁর দুই পুত্র ছাড়া আর কোন সাক্ষী ছিল না যে বলবে ঐ বস্তু তাঁর। কাজীও তাই রায় দিলেন ইহুদীর পক্ষে। আলী (রাঃ) বিতর্ক করেননি।
তা আমাদের বাংলার মুসলমানরা হজরত আলীর চেয়েও বেশি মুসলিম। এইটাই সমস্যা।
আমাদের আরেকটা সমস্যা হচ্ছে তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থার উপর লোকের আস্থাহীনতা।
যেমন ধরেন, আমাদের দেশে এমন ঘটনা ঘটলে আওয়ামীলীগ থেকে প্রথমেই ঘোষণা করা হবে, "এটি জামাত বিএনপির ষড়যন্ত্র।" সেদিনই পেপারে পড়লাম, ডাকসুর নেতা বলেছে "এটি জামাত বিএনপির কাজ।"
বিএনপি থেকে পাল্টা বক্তব্য আসে, "সরকার নিজেই কাজটি করে বিএনপির নাম দেয়।"
মুসলিমরা দাবি করছে, "এটি হিন্দুদের কাজ।"
হিন্দুদের দাবি, "এটি কেউ সাজিয়েছে। মুসলিমরাই কোরআন রেখে এখন নিজেরা ভাংচুরের ঘটনা ঘটাচ্ছে।"
কেউ কেউতো দাবি করেন এতে ভারতের র জড়িত। দেশে দাঙ্গা হলে সরকার সামলাতে পারবেনা, ওদের সাহায্য নিবে, ওরাও বাংলাদেশে ঢুকে পড়বে, নিয়ন্ত্রণ করবে। সমস্যা একটাই, কারোর কাছেই প্রমান নাই। তদন্ত ফদন্ত কিছু না। যে যার মনমতন একটা অনুমানকে সত্য হিসেবে ধরে নিয়ে প্রচার শুরু করে দেয়।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মাঝে সত্য বের করার ক্ষমতা আছে একমাত্র পুলিশের। তদন্তের মাধ্যমে, যা তাদের কাজ।
তা পুলিশ গ্রেফতার করেছে এমন লোককে যে সাবেক শিবির কর্মী। মুসলিমরা ও আওয়ামীবিরোধী লোকেরা দাবি করছে "এইটা সাজানো ঘটনা। একজন নিরীহ ব্যক্তিকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে।"
ওদের দোষ দিবেন কোন যুক্তিতে? সরকারের লোকজন আগে থেকেই বিএনপি জামাত শিবিরের নামে অভিযোগ করে আসছে। দেশে যাই ঘটে, সব দোষ জামাত শিবিরের। আওয়ামীলীগের নেতা, নেতার পোলা ধরা খাইলেও প্রচার করে "বিএনপি জামাত থেকে ছুটে এসে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছে, ও সহীহ লীগার নহে।" পুলিশ যে ওদের কথায় আসলেই নির্দোষ কাউকে ধরছে না, এই বিশ্বাস করাবেন কিভাবে?
তাছাড়া বাংলাদেশের মানুষদের আছে আরেক যন্ত্রনা। সবকিছুতেই "ঈমানী" জোশ টেনে আনে। ওরা জানেই না যে ঈমান হচ্ছে সত্যের সাথে থাকা। নিজের পক্ষের লোকও যদি অপরাধী হয়, তাহলেও সত্যের পক্ষে থাকাটাই ঈমান। বিশ্বাস না হলে কুরআন পড়েন। আমি মিথ্যা বললে আমার মুখোশ উন্মোচন করেন। অনেক কার্টুন গত আট দশ বছর ধরে আমার মুখোশ উন্মোচনের চেষ্টা করে যাচ্ছে, এখনও পারেনাই।
সাম্প্রতিক উদাহরণ দেই। মাওলানা সাহেব "দ্বিতীয় স্ত্রীর" সাথে বিশ্রাম নিতে গিয়ে ধরা খান রিজোর্টে। লোকজন আম্লীগকে গালাগালি করে ভরে দিল, আমি শুধু বললাম, আশা করি হুজুর উনার বিয়ের কাবিননামা দেখাবেন। ব্যস, লোকজন আমার মুখোশ উন্মোচনের জন্য কসম খেয়ে ফেলল। একজন বলে দিল, "আফসোস হয়, আপনার মতন মানুষকে দিয়ে আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীজির (সঃ) সীরাত লিখিয়েছেন।"
বেয়াক্কেল আস্ত সীরাত পড়ে শেষ করলো, অথচ এইটাই শিখলো না যে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে সবসময়েই ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হয়, সে আসছে আমাকে নিয়ে আফসোস করতে!
তা মাওলানা সাহেবের স্ত্রীর ইন্টারভিউ ভাইরাল হয়। ঈমানী জোশের বেয়াক্কেলগুলি সত্যের বিরুদ্ধে গিয়ে অনুমান নির্ভর বয়ান প্রচার শুরু করে।
"এই মাগীর নীল বোরখা, হুজুরের স্ত্রীর বোরখার রঙ কালো ছিল।"
"এই মাগি ছাত্রলীগের নেতার বৌ। নিজের বৌকে বোরখা পরায়ে হুজুরের নামে বদনাম করছে।"
ইত্যাদি ইত্যাদি। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মহিলার ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়লো। মহিলা হয়ে গেলেন "মাগি।" কয়েক ঘন্টার মধ্যেই জানা গেল এই মহিলা আসলেই হুজুরের "দ্বিতীয় স্ত্রী।" তখন এই ঈমান গেল কই? মাঝে দিয়ে ঈমানী জোশের কারনে ভাবীকে মাগি বলে ফেলেছে।
হুজুরের ফোনালাপ ফাঁস হলো। স্পষ্টভাবে নিজের প্রথম বৌকে বললেন "অমুক ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে ছিলাম। বাড়ি এসে বলছি।"
শুরু হয়ে গেল এই ফোনালাপ মিথ্যা। অমুক তমুক সফটওয়্যারের মাধ্যমে অডিও এডিট করা যায়। সবাই তখন সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ। দুই দিনের মাথায় হুজুর নিজে বললেন ওটা তাঁর ফোনালাপ, সরকার কেন ফাঁস করলেন?
এইবারও ঈমানী ভাইদের ঈমান গেল কই?
কাহিনী তখনও চলছে। হুজুরের বিয়ের কাবিননামা নাই। ঈমানদাররা ইসলাম শিখাতে আসলো, "ইসলামী বিয়েতে কাবিননামা লাগে?"
হুজুরের প্রথম স্ত্রী জানেন না দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে। আবারও ঈমানদারদের জোশালো কথাবার্তা। "প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগে?"
হুজুরের বিয়ের সাক্ষী হিসেবে উনার নিজের পরিবারের কয়েকজন ছাড়া আর কেউ নাই। তৃতীয় পক্ষ, নিরপেক্ষ কেউ জানেই না উনার বিয়ে হয়েছে। মুরিদরা ছাড়া। মুরিদদের দাবির জোর দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক উনারা বিয়ের অনুষ্ঠান বিবিসিতে লাইভ দেখেছে।
দেখা গেল মাওলানা সাহেবের দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাপারে তাঁর প্রথম স্ত্রী সন্তানরাই না, দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান, শ্বশুর, এমনকি দ্বিতীয় স্ত্রী নিজেও জানেন না। যারা ঈমানের জোশ দেখাচ্ছিলেন, উনারা জিন্দেগীতে তিরমিযী শরীফ খুলে পড়ে নাই যেখানে আল্লাহর রাসূল স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, বিয়ে এবং অবৈধ সম্পর্কের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে ঢাক বাজিয়ে ঘোষণা (প্রচারণা)।
কেমন সেন্স বলে, আমি যদি বিয়েই করে থাকি, তাহলে চোরের মতন সম্পর্ক লুকাবার চেষ্টা নিব কেন? দ্বিতীয় স্ত্রীর দায়িত্ব আমি নিচ্ছি, ওর সন্তানরা আমার উত্তরাধিকারী হবে, ওরা জানবে না আমার ব্যাপারে? যে "সাক্ষী" এতদিন মুখ খুলে নাই, আমার মৃত্যুর পরে সম্পত্তি বন্টনের সময়ে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষে সে সাক্ষ্য দিবে? মোটেই না। আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সন্তানরা উত্তরাধিকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। সেটা "জুলুম।" কিন্তু ঈমানী জোশের লোকজন মূর্খের মতন জুলুম করতে রাজি থাকে, তবু সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, আল্লাহ ও রাসূলের পক্ষে অবস্থান নেয় না।
তারপরে ধরেন মুফতি ইব্রাহিম হুজুর গ্রেফতার হলেন। লোকজন প্রচার শুরু করলো সরকার আলেম ওলামাদের এরেস্ট করে ফেলছে! ইসলামের শত্রু! আরে, যখন এই হুজুর নির্লজ্জ্বের মতন লোকজনকে করোনা ভাইরাস, ভাইরাসের ভেকসিনের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়ে আসছিলেন, কত মানুষের জীবনকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিলেন, এবং কে জানে, কতজনের মৃত্যুর জন্য দায়ী - সব এক নিমিষেই ভুলে গেল? সরকার যদি আলেমদের বিরুদ্ধেই হতো তাহলে কেন আহমাদুল্লাহ বা আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ হুজুরদের ধরছে না? উনাদের কথাবার্তা শুনেছেন? আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের ছাত্র তাঁরা। "করোনা ভাইরাস ইন্টারভিউ দিয়েছে, বলেছে বাংলাদেশে কাউকে মারবে না। যে মরবে, সে মুনাফেক" - এই টাইপ বয়ান উনারা দেন?
এখানেও ঘটনা তাই। অপরাধী যে "মুসলমান" (যদিও যে মুনাফেক কুরআনকে অবমাননা করে সে মুসলিম হতে পারেনা, তারপরেও যেহেতু ইসলাম ধর্মে ওর জন্ম ও বেড়ে ওঠা) এইটা মুসলিমরা মানতে চাইবে না। কিছু বেয়াক্কেল সেদিন আমাকে শোনায় "টুইন টাওয়ারে হামলা ইজরায়েল ও আমেরিকা মুসলিমদের মারতে ষড়যন্ত্র করে করেছে।" আরে ভাই, সিআইএ, এফবিআই এবং এনওয়াইপিডির মতন বিশ্ববরেণ্য সংস্থাগুলি যে তদন্ত করলো, কোটি কোটি ডলার খরচ করে, হাজার হাজার নথিপত্রের এইসব তদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং ওর অনুচররা কিভাবে প্ল্যান প্রোগ্রাম করে কাজটি করেছে, সিআইএর একটি গাফিলতি কিভাবে মানব সভ্যতার গতি পাল্টে দিল ইত্যাদি ইত্যাদি সব বাদ দিয়ে বাংলাদেশে বসা কিছু পন্ডিত জনাব ঈমানী জোশের বলে বিশ্বাস করে আছেন আমেরিকা নিজের তিন হাজার সিটিজেন মেরে ফেলেছে যাতে আফগানিস্তানে আক্রমন করতে পারে। এই বেয়াক্কেল মনে করেছে আমেরিকানরাও বুঝি ওর মতন, সরকার যা খুশি তাই করবে আর ওরা বাড়িতে বসে আঙ্গুল চুষবে। এক কালো লোককে সাদা পুলিশ গুলি করে খুন করায় গোটা দেশ তোলপাড় করে ফেলল, আর সাড়ে তিন হাজার আমেরিকান মেরে জর্জ বুশ ও প্রশাসন পার পেয়ে যাবে? এমন নির্বোধদের কিভাবে বুঝাবেন মন্দিরে কোরআন রাখা লোকটা মুসলিমবেশি মুনাফেকও হতে পারে?
এক মহিলা আমার আগের পোস্টে লিখলেন, "যারা মন্দিরে ও হিন্দু বসতিতে হামলা করছে, ওরা মুসলিম, এইটা কিভাবে বলতে পারেন? মাথায় টুপি, গালে দাড়ি আর আরবি নাম হলেই কেউ মুসলিম হয়ে যায়? ওরা সব থার্ড পার্টির লোক।" মানে উনি মানতেই রাজি নন মন্দির বা মন্ডপ ভাংচুরের ঘটনায় মুসলিমরা জড়িত।
আমি নিজেও একই কথাই বলি। ওরা মুসলিমই না। শেখালেতো তোতা পাখিও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে পারে, এরা হচ্ছে সেসব তোতাপাখি মুসলমান। আপার এই যুক্তি মেনে নিলে বাংলাদেশের ৯০% জনতাই অমুসলিম, থার্ড পার্টি বা তোতাপাখি মুসলমান। আপনারা সেইটাই বা মানবেন?
আপনার এলাকায়, আপনার পাশের এলাকায় হিন্দু বসতিতে আক্রমন হচ্ছে, আপনি শক্তি সামর্থ্য থাকার পরেও চুপ করে বসে আছেন, জেনে নিন, আপনিও জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। আজকে যারা অন্য ধর্মের মানুষদের উপর আক্রমন করছে, কালকে আপনার উপর আক্রমন করবে। কারন আপনি শবে বরাতে ইবাদত করেন, আমি করিনা। আমি জোরে আমিন বলি, আপনি বলেন না। আপনার বিশ্বাস পাঞ্জাবি জোব্বা না পরলে সহীহ মুসলিম হওয়া যায়না, আমি বলি যেকোন ঢিলাঢালা রুচিশীল পোশাকই যথেষ্ট। আপনার সাথে আমার অনেক অমিল! তাই জুম্মার নামাজের সময়ে আমার মসজিদে বোমা হামলা হবে, এবং রাতের অন্ধকারে আমার বাড়িতে। আমি কি ভুল বললাম?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:০১
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যদি বিখ্যাত মুভি গুলোর নাম বাংলাতে হত, তাহলে কেমন হত :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৩৩

মফস্বল শহরে যারা বড় হয়েছেন তাদের স্থায়ীয় সিনেমা হলের পোস্টারের দিকে চোখ পড়ার কথা । আমাদের এলাকায় দুইটা সিনেমা হল আছে । একটা সম্ভবত এখন বন্ধ হয়ে গেছে । সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সন্তানের স্বার্থপরতার বলি বেগম জিয়া!!!!

লিখেছেন মাহফুজ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৩:৩০




লেখাটা কে কিভাবে নেবেন আমি জানিনা তবে আমার লেখার উদ্দেশ্য মানবিক। আমি লিখছি আমার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে। আজ পর্যন্ত লেখালেখি করে অনেক আজেবাজে ট্যাগ পেয়েছি তবে এখন পর্যন্ত কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন ও সমুদ্র ..........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৭

জীবন ও সমুদ্র ..........


‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি
সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো,
আমি শুনেছি সেদিন তুমি
নোনা বালি তীর ধরে
বহুদূর বহুদূর হেঁটে এসেছো।’
মৌসুমী ভৌমিকের এ গান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা তো ঢাকার ভেতরে। গ্রাম দেশের শিক্ষিত সমাজ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৮



বউ বাসায় নাই। আমার সাথে অভিমান করে বাপের বাড়িতে গেছে। তাই আমার মন খারাপ। কোন কাজে মন বসে না। নিজেকে বড় একা একা লাগছে। আমার যে তার জন্য মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ অপরাধ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৬



মিনারা বেগমের মনে সন্দেহ ঢুকছে। তার স্বামী নাকি ভাই কে হতে পারে অপরাধী। এত চোখে চোখে রেখেও কিভাবে এরকম ঘটনা ঘটে গেল সেটাই বুঝতে পারছেনা মিনারা বেগম।

রমিলা এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×