somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাউকে চোখ বন্ধ করে যা তা বলার আগে একটু চিন্তাভাবনা করে নিন।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ৮:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অস্ট্রেলিয়ায় এক তিন বছরের শিশু গাড়িতে বন্দি হয়ে মারা গেছে।
বাবা বড় ভাইকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে পেট্রোল নিতে গিয়ে ভুলে যান যে ওকেও ডেকেয়ারে নামাতে হবে। শিশুটিও তখন গাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। উনি পেট্রোল পাম্প থেকে বাড়িতে এসে গাড়ি পার্ক করে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
দুপুরে ভাইয়ের স্কুল ছুটি হলে তিনি ভাইকে স্কুল থেকে তোলেন, গ্রোসারি শপে যান, বাজার করেন, এবং তারপরে গ্রোসারি তুলতে গিয়ে খেয়াল করেন ছোট শিশুটা গাড়িতেই শুয়ে আছে।
কী ভয়ংকর, দুঃসহ যন্ত্রনাময় মুহূর্ত একজন বাবার জন্য! আমি নিশ্চিত, ঐ এক মুহূর্তেই লোকটার কলিজা তাঁর হাতে চলে এসেছিল।
তৎক্ষণাৎ তিনি পাগলের মতন ঘুষি মারতে থাকেন গাড়ির কাঁচে, দরজা খুলে শিশুকে বের করেন, ইমার্জেন্সিতে কল করেন, কিন্তু সব বহু আগেই শেষ।
ঐ তাপমাত্রায় যদি কেউ গাড়িতে মাংস বেক করতে চায়, মাংস বেক হয়ে যায়। এতো ছিল মাত্র একটি শিশু। মাথায় রাখতে হবে, শিশুদের শরীরে পানিশূন্যতা বড়দের চাইতে দ্রুত হয়। এক দুই মিনিটের জন্যও তাই শিশুদের গাড়িতে বদ্ধ রেখে অন্য কোথাও যাওয়ার নিয়ম নেই। এইসব ব্যাপারে বিদেশী আইন ভয়াবহ কড়া। গ্রেফতার থেকে শুরু করে মোটা অংকের জরিমানা, বাচ্চার কাস্টডি হারানো সব ঘটতে পারে এর কারনে।
এরপরেও ঘটনাটা বিদেশে মোটেই নতুন না। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটে। অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ নাকি প্রতিবছর পাঁচ হাজার শিশুকে উদ্ধার করে এমন পরিস্থিতি থেকে। আমেরিকায় সংখ্যা আরও বেশি। আমি নিশ্চিত ইউরোপেও এমনটা অপরিচিত না।
তাই একটু সচেতনতামূলক পোস্ট দিলাম। যাতে আমরা প্রবাসীরা একটু সাবধান হই।

কিন্তু এতেই বহু মানুষ ফেসবুকে আদালত বসিয়ে দিয়েছেন। "কেমন বাবা মা যারা বাচ্চাদের খেয়াল রাখে না! ওদের বাবা মা হওয়াই উচিত না" টাইপ ম্যাসেজে ভরে গেছে পোস্ট। বিষয়টা এমন যে "ওরা খারাপ, আমি ভাল।"

আমার কথা হচ্ছে, কোন বাবা মাই (যদি সাইকো না হয়ে থাকে) ইচ্ছা করে এমনটা করবে না। আর "ভুলে যাওয়া" মস্তিষ্কের একটি বিচিত্র খেলা, আপনাকে নিয়েও সে খেলে। আপনি কখনই দাবি করতে পারবেন না জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত যত যা কিছু করে এসেছেন, কখনই আপনি একটি কণাও ভুল করেননি। বিদেশে বাবা মায়ের কোন সাহায্যকারী কাজের লোক থাকেনা। ঘরের এবং বাইরের সব কাজই তাঁদের একা করতে হয়। আপনি বলতে পারেন, "এত দুনিয়ার পেছনে ছুটে কেন?" ওয়েল, ওদের বাড়ির মর্টগেজ, গাড়ির পেমেন্ট, অন্যান্য খরচ আপনি দিবেন না। ওদেরকে কাজ করেই সেটা শোধ করতে হয়। ওরা কেউই কারোর গলায় ছুরি চালায় না, দুই নম্বরি করে উপার্জন করেনা। অনেক অনেক কিছু চলে মানুষের ছোট্ট মস্তিষ্কের ভিতর। তাই কোন কথা বলার আগে আমাদের একটু বিবেচনা করা উচিৎ।

আমরা নিজেরা কি ১০০% বিশুদ্ধ? আমাদের নিজেদের বাড়িতে ছুরি, দা, বটি, কীটনাশক, হারপিক বা এই জাতীয় বিষাক্ত কেমিকেল, ওষুধ ইত্যাদি সবই শিশুর নাগালের মধ্যেই থাকে। কিছুদিন পরপর শুনি অমুকের বাচ্চা ঘড়ির ব্যাটারি খেয়ে ফেলেছে, তো অন্য বাচ্চা তেমনই ভয়ংকর কিছু গিলে খেয়েছে। শিশু ডাক্তারদের সাথে পরিচয় থাকলে একবার জিজ্ঞেস করবেন প্রতিদিন এমন কয়টা কেস তাঁরা পান যেখানে বাচ্চার মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। "লেড বেইসড পেইন্টের" বাড়িতে কতজন যে থাকেন, সেটার হিসাব নেই। কতজন জানেন লেড পয়জনিং সম্পর্কে? আমাদের দেশের গ্রামে প্রতি বছর কয়টা শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় হিসাব দিতে পারেন কেউ?
তিন বছরের ছোট শিশুটার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত, অবশ্যই, কিন্তু আমরা কি ওর বাবা মায়ের ধারে কাছেও শোকাহত হতে পারবো? আমরা দুইটা কুকথা ফেসবুকে লিখে নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বো, ঐ বাবা মায়ের জীবন শেষ হয়ে গেছে! এই লোক বাকি জীবনে আর কখনও স্বাভাবিক হতে পারবে? মৃত্যুই ওকে মুক্তি দিতে পারবে। আর আমরা আসছি আল্লাদি কথাবার্তা নিয়ে।

প্লিজ! কাউকে চোখ বন্ধ করে যা তা বলার আগে একটু চিন্তাভাবনা করে নিন। আপনার ভাগ্য ভাল, সেই বাবা মায়ের জায়গায় আপনি এখন নেই। কিন্তু হতে এক সেকেন্ড সময়ও লাগে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ৮:০৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩২

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?


গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি মৌলিক নীতি হলো- অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে আদালতে, প্রমাণের ভিত্তিতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কোনো রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু ছবি ‍কিছু কথা-----------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

-----------------



ব্লগে পোস্ট দিব দিব করে আর দেওয়া হচ্ছে না্। ঈদের ছুটিতে প্রায় ১৫ দিন ছিলাম গ্রামের বাড়ি। তখনও লিখবো করে আর মোবাইল হাতের কাছে পাই না..........বাচ্চা কাচ্চা খেলা ধুলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×