somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে ওদের পক্ষে সাফাই গাইবে, সে যেন সাদিক এগ্রো থেকে দূরে থাকে।

০৪ ঠা জুন, ২০২৪ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধরা যাক আপনি সমস্ত জীবন চাকরি করেছেন।
বাংলাদেশের চাকরিজীবীদের আয় এমনও না যে আপনি প্রচুর বাড়ি গাড়ি সম্পদের মালিক হয়ে যাবেন। যদি বাপ মায়ের সাপোর্ট না থাকে, নিজেকে বৌবাচ্চা সংসার নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয়, তাহলে হয়তো বহুদিন চাকরির পর একটা গাড়ি কিনতে পারবেন। তারপরে একটা প্লট কিনে বাড়ি বানালেও বানাতে পারেন। বাড়ি না বানাতে পারলেও হয়তো একটা ফ্ল্যাট কিনতে পারেন। এর বেশি সম্পত্তি করতে পারাটা সাধারনের জন্য অতি দুঃসাধ্য ব্যাপার।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত রিটায়ার্ড লোকজন নিজের টাকা পয়সা ব্যাংকে রাখেন। সুদ বা লভ্যাংশ যেটাই বলেন, সেটা বাদ দিয়েও বহু মানুষ নিজের সমস্ত জীবনের সেভিংস থেকেই বাকিটা জীবন চালান। তাঁদের আর কোন উপায় নেই।
এখন যদি একদিন ব্যাংকে গিয়ে শোনেন যে ব্যাংক আপনার টাকা দিতে পারছে না, আপনার হয়তো এক কোটি টাকা জমা ছিল, কিন্তু ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় এখন মাত্র তিন লক্ষ টাকা ধরিয়ে দিচ্ছে, তখন আপনার কি অবস্থা হবে? আপনার সমস্ত জীবনের আয়, সঞ্চয় সব চোখের পলকে গায়েব হয়ে গেল।
কেন এটা হয় জানেন?
ব্যাংক সাধারণত করে কি আপনার কাছ থেকে টাকা জমা নিয়ে অন্যকে ঋণ দেয়। আপনাকে হয়তো সুদ (ফিল্টার্ড ভাষায় "লভ্যাংশ") দিবে ৫%, আর ওদের থেকে নিবে ১৫%, মাঝের এই ১০% লাভ দিয়ে ওরা নিজেদের যাবতীয় খরচ, মানে কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংকের শাখার ভাড়া মেটানো, এডভার্টাইজিং, বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি যাবতীয় খরচ মেটাবে, এবং তারউপর লাভও রাখবে যাতে ডাউন টাইমে এই লাভের টাকা দিয়েও ব্যবসা চালিয়ে নেয়া যায়।
ব্যাংকের আরও আয়ের উৎস আছে, কিন্তু আমি বুঝার সুবিধার্তে বেসিক উদাহরণ দিয়েছি।
ঠিক এই কারণেই ব্যাংক চায় আপনার কাছ থেকে বেশি বেশি টাকা জমা নিতে। আপনি যত বেশি টাকা জমা রাখবেন ওদের লিকুইডিটি তত বেশি থাকবে, তত বেশি টাকা মানুষকে ঋণ দিতে পারবে, তত বেশি ওদের লাভ হবে।
একই সাথে ব্যাংক আপনাকে ঋণ দিতে চাইবে। কারন আপনি ঋণ না নিলে ওদের আয় আসবে কোত্থেকে? যে কারনে দেখবেন ওদের এই প্রোগ্রাম, ঐ প্যাকেজ ইত্যাদি সব স্কিম থাকে। সবই ব্যবসার প্রোডাক্ট।
ঋণ দিলে আপনি ঋণ ফেরত দিতে পারবেন কিনা সেটাও দেখা ওদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ঠিক এই কারণেই ওরা কিছু এক্সপার্ট এম্পলয়ী রাখেন, যার কাজই হচ্ছে আপনার যাবতীয় সম্পদ, সম্পত্তি, আয় ব্যয় ইত্যাদি হিসাব নিকাশ করে তারপরে এপ্রুভ বা রিজেক্ট করা।
আপনি পানের দোকানদার। গুলিস্তান মোড়ে আপনার পানের দোকান আছে। সেটা দেখিয়ে আপনি একশো কোটি টাকা ঋণ পাবেন না। ব্যাংক জানে আপনি সেটা ফেরত দিতে পারবেন না।
কিন্তু আপনি যদি সেটা দেখিয়েই ঋণ পেয়ে যান, তাহলে বুঝতে হবে কোন ঘাপলা আছে। ব্যাংকের ভিতরকার লোকজন দুই নম্বরি করে আপনাকে ঋণ পাইয়ে দিয়েছে।

এখন ধরেন আমি একজন ব্যাংক। আমার কাছে আপনি একশো টাকা জমা দিয়েছেন। আমি হিরো আলমকে সেই একশো টাকাই ধার দিয়েছি। আলম আমাকে বছর শেষে ১১৫ টাকা দিবে, আমি আপনাকে ১০৫ টাকা বুঝিয়ে দিব। সহজ হিসাব? বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না।
কিন্তু যদি আলম আমাকে সেই টাকাটা না দেন?
আপনাকে আমি কিভাবে আপনার ১০৫ টাকা দিব?
আপনি ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে বলবেন, "৫ টাকা লাভের দরকার নাই, আমাকে আমার ১০০ টাকা দিলেই চলবে।"
কিন্তু আমি আপনাকে ৩ টাকার বেশি দিতে অপারগ। কারন আমার টাকাই নাই! আমি কি করবো?
আপনি আদালতে যাবেন, আমার ফাজলামি আপনি মেনে নিতে পারছেন না। কিন্তু আইন আমার পক্ষে। আইনই বলছে আমি যেহেতু নিজেকে ফকির ডিক্লেয়ার করেছি, এর মানে আইনত আপনি আমার কাছ থেকে ৩ টাকার বেশি নিতে পারবেন না।
হিরো আলম কিন্তু বহাল তবিয়তে ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে যাচ্ছে, অথবা পরিবার নিয়ে বিদেশে গিয়ে বিচে শুয়ে ডাবের পানি খেতে খেতে চোখ দিয়ে ফর্সা মেয়েদের কোমরের মাপ নিচ্ছে।
সে শুধু আপনার একশো টাকাই চুরি করেনি, আপনার সমস্ত জীবনের পরিশ্রম সে চুরি করে ফেলেছে। আপনার চল্লিশ বছরের চাকরি জীবন পুরোটাই সে ফুর্তিতে উড়িয়ে দিচ্ছে। এইটা বুঝতে পারছেন? এখানে কোটি টাকাই ব্যাপার না, আপনার সমস্ত জীবন, যা আর কখনই ফেরত পাবেন না, সেটাই আসল ব্যাপার।
ঋণ খেলাপিরা মানুষের টাকা চুরি করেনা, অসংখ্য মানুষের জীবন, সময় লুটে ফূর্তি করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ ঋণখেলাপিদের পক্ষে ইনবিন করেন বলেই সত্য কথাগুলো বললাম।
ঋণ খেলাপিরা চোর। মহাচোর। এগুলির দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। যে ওদের পক্ষে সাফাই গাইবে, সে যেন সাদিক এগ্রো থেকে দূরে থাকে। নাহলে ১৫ লক্ষ টাকায় উন্নতমানের ছাগল হিসেবে এই বাজারেই বিক্রি করে দিবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০২৪ রাত ৯:৫৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইহকালে আল্লাহর ইবাদত না করলে পরকালে আল্লাহর ইবাদত করতেই হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:২৭



সূরাঃ ৫১ যারিয়াত, ৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৬। আমি জিন ও মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।

* আল্লাহ মানুষকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং তাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, পর্ব-১

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, পর্ব-১

ছবি, অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা

রমজান মাসের ফরজ সিয়াম ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত। তবে সাম্প্রতিক দশকে এটি কেবল ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১৬



প্রিয় কন্যা আমার-
আজ তোমার জন্মদিন। হ্যা আজ ৩১ ডিসেম্বর তোমার জন্মদিন। আজ বিশেষ একটি দিন! এবার জন্মদিনে তুমি আছো তোমার নানা বাড়ি। আমি আজ ভীষন ব্যস্ত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইতিহাসের কাঁটাছেঁড়া ও পাঠ্যবইয়ের নতুন লড়াই

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



রহিমা বেগম তার মেয়ে সামিয়ার নতুন বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টাচ্ছিলেন। অষ্টম শ্রেণির বাংলা বই। গতবছর বড় ছেলে এই বইটাই পড়েছিল। কিন্তু এবারের বইটা দেখে তার চোখ কপালে উঠল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ হায়েনাদের দখলে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৪



আমাদের দেশটা অনেক ছোট। কিন্তু জনসংখ্যা অনেক বেশি।
এই বিশাল জনশক্তি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলো। ১৯৫২ তে হলো ভাষা আন্দোলন। আর ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×