somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোপালগঞ্জের হামলা

১৭ ই জুলাই, ২০২৫ ভোর ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গোপালগঞ্জ নিয়ে কয়েক রকমের খবর পাচ্ছি। ডিটেইল পড়ার সময় পাচ্ছিনা, তবে খবরগুলো এইরকম।
১. নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি ওদের দেশব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে গিয়েছে।
২. সেখানে অনেক মারামারি হয়েছে, রীতিমতন যুদ্ধাবস্থা। একাধিক মানুষ মরার খবরও নিশ্চিত হয়েছে।

এখন কথা হচ্ছে, গোপালগঞ্জ হচ্ছে শেখ মুজিবের ঘাঁটি। ওখানে বাচ্চা জন্মের পরে কলেমা পড়ে পরে, আগে জয় বাংলা বলে। ওদের ধর্ম আওয়ামী ধর্ম। ওদের ঈমান আমল সবই আওয়ামী কেন্দ্রিক। সেখানে গিয়ে "মুজিববাদের পতন ঘটাবো" টাইপ মন্তব্য করলে পাবলিক রিয়্যাকশন কেমন হবে বলে আশা করা যায়? হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রে গিয়ে কেউ যদি "নরেন্দ্র মোদি জিন্দাবাদ" বলে, ঘটনা তেমনই হবেনা? কমন সেন্স কি বলে?
ওরা কি ধরে নিয়েছিল বাংলাদেশ অতি সভ্য দেশ? দেশের অন্যান্য জেলার মতন গোপালগঞ্জে গিয়েও কেউ স্বাধীনভাবে নিজেদের মতপ্রকাশ করতে পারবে, এবং অপরপক্ষ বিন্দুমাত্র রিয়েক্ট করবে না? তাহলে এরা মহা বেকুব। আমরা এতটা সুসভ্য হইনি। আরও কয়েকশো বছর লেগে যেতে পারে।

এছাড়া দিনভর ফেসবুকে পাবলিকের উষ্কানীমূলক পোস্টতো ছিলই। আওয়ামীলীগের লোকেরা উত্তেজনা ছড়াচ্ছিলেন, আওয়ামীবিরোধীরাও সমানে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিল "গোপালগঞ্জের নাম পাল্টে দেয়া হবে" "আওয়ামীলীগের নাম নিশানা মুছে ফেলা হবে" ইত্যাদি ইত্যাদি। শেখ মুজিবের কবর ওখানে। এর আগে ৩২ নম্বরের বাড়ি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। কবরও যে গুড়ানো হবেনা সেটার কোন নিশ্চয়তা আছে? ওর সমর্থকরা খেপবে না? কাজেই পরিস্থিতি যে একটা সংঘর্ষের দিকে যাবে, সেটাতো অনুমিতই ছিল।
এখন দুই পক্ষই এমন মরা কান্না জুড়েছে যেন দুইজনই ভিক্টিম। কারোরই কোনই দোষ ছিল না।
"দেখেন আওয়ামী সন্ত্রাসী কিভাবে আক্রমন করেছে!"
পুলিশের গাড়ি, সরকারি অফিসারের গাড়ি, কারোর উপরই হামলা বাদ দেয়নি।
অন্যদিকে পুলিশ ও আর্মি হামলাকারীদের পেটাচ্ছে, সেটার ছবি দেখিয়ে আওয়ামীলীগের কান্না। যেন ওরা কিছুই করেনি, চুপচাপ বাড়িতে বসে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দেখছিল, পুলিশ ওদের বাড়ি থেকে ধরে টেনে এনে মারধর করেছে।
গত জুলাইয়ের সাথে এই জুলাইয়ের পার্থক্য হচ্ছে, গত জুলাইয়েও পুলিশ প্রতিবাদকারীদের পিটিয়েছিল, গুলি করে হত্যা করেছিল। তখন গোটা বিশ্বেই বাংলাদেশিরা ফুঁসে উঠেছিল। কারন ছিল আওয়ামী সরকারের উপর নানান বিষয়েই গত ১৭ বছরের ক্ষোভ।
এখন গোপালগঞ্জের হামলায় আওয়ামীলীগ ছাড়া কেউ টু শব্দও করছে না। এর কারন লাঠিয়াল-হেলমেট বাহিনীর স্মৃতি এখনও তাজা।
তবে পরিস্থিতি পাল্টাতে সময় লাগেনা। হেফাজতকে আওয়ামীলীগ যখন পিটিয়েছিল, কেউ শব্দ করেনাই। নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনে যখন একই কাজ করেছিল, কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ হয়েছিল। কিন্তু আবু সাইদ গুলি খাবার পরে আর কেউ ধৈর্য্য ধরে রাখেনি।
এক্ষেত্রেও এনসিপি বা অন্তর্বর্তী সরকারকে একটু সাবধান হতে হবে। ইতিহাস বারবার ঘুরে ফিরে আবর্তিত হয়।

একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, জোর করে কোন কিছু কখনই চাপিয়ে দেয়া যায় না। আওয়ামীলীগ জোর করে বঙ্গবন্ধুকে গেলানোর চেষ্টা করেছিল। আমাদের ইতিহাস পাল্টানো হয়েছিল। জিয়াকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আর পাকিস্তানের এজেন্ট প্রমান করার যত রকমের চেষ্টা সম্ভব, সব করা হয়েছিল। কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের লেখা পড়লে মনে হবে বাংলাদেশে তখন কেবল ক্র্যাক প্ল্যাটুন যুদ্ধ করেছিল, আর দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে।

এতে উল্টো ফল হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক।
এখন যেমন সবকিছু থেকে শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুযোগের ফায়দা তুলতে জামাতে ইসলামী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ইতিহাস এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেন দেশ স্বাধীনতার পেছনে শেখ মুজিবের কোন ভূমিকাই ছিল না।
এতেও উল্টোটা ঘটবে। শেখ মুজিব আবার ভিক্টিম হবে, পাবলিক সিম্প্যাথি পাবে, আওয়ামীলীগ আবারও জনপ্রিয়তা পাবে। ইতিহাসে এর আগেও এমনটা ঘটেছে।

এমনিতেই এই সরকার গত এক বছরে খুব একটা প্রশংসনীয় কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে না। চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি ঠ্যাকাতে পারছে না। দুর্নীতি কতটা বন্ধ হয়েছে? ডলারের দাম কি কমানো গেছে? রিজার্ভে ডলার কতটা বেড়েছে? আওয়ামীলীগ আমলের সবচেয়ে আলোচিত হত্যামামলা সাগর-রুনির তদন্দের কতদূর? তনু-ত্বকী খুনের মামলার কি হালহকিকত? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে কবে? উল্টো দেখছি এককালের চিহ্নিত সন্ত্রাসীকেও বেকসুর খালাস করে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা কি আদৌ কোনদিন হবে? পুলিশ কতদিন সরকারি দলের দলদাস হিসেবে কাজ করবে? সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ইত্যাদির নির্মূল হয়েছে? একটা বছরতো কেটে গেল।
এইগুলিতে ফোকাস করুক। পাবলিক দেখুক একটা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটা স্বৈরাচারী সরকার পতনের পরে দেশের চেহারা কেমন পাল্টেছে। এর আগেও এরশাদের পতন ঘটেছিল। তখনও এইভাবেই পথে নেমে মানুষ প্রাণ দিয়ে এরশাদকে গদি ছাড়তে বাধ্য করেছিল।
কিন্তু দুই নেত্রীর শাসন দেখে এমন বহু লোককে বলতে শুনেছি "এরচেয়ে এরশাদই ভাল ছিল।"
বর্তমানে শুধু আফসোস লীগ বলে "আগেই ভাল ছিলাম।"
কিন্তু জোর জবরদস্তি করলে, এবং কাজের কাজ কিছু না করে শুধু গলাবাজি করে গেলে একটা সময়ে সাধারণ পাবলিকও বলবে "আগেই ভাল ছিলাম।"
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০২৫ ভোর ৪:২০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কি নারী নেতৃত্ব বিরোধী?

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েজ কিনা এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় মূলক বেশ কিছু পোষ্টও আমার চোখে পড়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×