somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাশের রাজনীতিকীট

২৪ শে জুলাই, ২০২৫ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে লাশ নিয়ে রাজীনীতি নতুন কিছু না।
নব্বই দশকের একটা ঘটনা বলি, তাহলে বুঝতে পারবেন।
আমার মামা একটা রাজনৈতিক দল করতেন। পার্টি অফিসের সামনে বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছে। ওদেরই এক বন্ধুর ইতালির ভিসা হয়ে গেছে। পকেটে পাসপোর্ট রেখে সে বন্ধুদের সাথে বিদায় নিতে এলো। রাতে ফ্লাইট।
আড্ডার মাঝে হঠাৎ বিপক্ষ দলের ক্যাডাররা গুলি চালালো।
মামার বন্ধু মামার পাশেই ছিল, গুলিটা ঠিক ওর বুকে এসে লাগলো। মামার বুকের থেকে ছয় ইঞ্চি পাশে। বন্ধু স্পট ডেড।
বিপক্ষ দলের ক্যাডাররাই লাশটার দখল নিল। মিছিল করলো। এবং ওদের দলীয় কর্মী পরিচয়ে জানাজা শেষে দাফনও করালো।
আপনার পরিবারে, আত্মীয় স্বজনের মধ্যে সমসাময়িক কালে এক্টিভ রাজনীতিবিদ যতজন ছিলেন, সবার সাথে কথা বলেন, বিএনপি হোক বা আওয়ামীলীগ, সবাই দেখবেন এমন ঘটনার সাক্ষী। লাশ দখল, সেটা নিয়ে মিছিল ইত্যাদি ছিল খুবই কমন প্র্যাক্টিস।
মৃতের সংখ্যা নিয়ে রাজনীতিও বহুপ্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে।
হেফাজতের সমাবেশের কথাই ধরে নিন। আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। সরকারি দাবি ছিল কেউ মরে নাই, ওদেরকে শুধু ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হয়েছিল। অন্যান্য সব দলের দাবি ছিল "গণহত্যা হয়েছে।" খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, "হাজার হাজার লাশ নিয়ে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল।"
এ নিয়েও হাসি তামাশা। এত লাশ নদীতে ফেললে নিশ্চিতভাবেই কয়েকটা ভেসে উঠতই। কোথাও একটা লাশও উদ্ধার হয়নি।
পরে জানা গেছে ৪-৫জন হলেও মরেছিল।
এ নিয়েও সরকারি দলের হাসি তামাশা। যেন পুলিশের গুলিতে ৪-৫ জন মরা কোন বিষয়ই না। যেন ওরা ছিল মশা মাছিরও অধম। ওদের প্রাণের কোন মূল্যই নেই।
মাদ্রাসার গরিব ছাত্র ছিল, এবং ওদের উৎপটাং দাবিও ছিল বলে দেশবাসী গা করেনি। তবে উচিত ছিল সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। কেন স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশ গুলি করে মানুষ মারবে? সেটা না করায় ২৪ এর গণহত্যা ঘটেছে।
লীগ ভেবেছিল এখানেও একইভাবে পার পেয়ে যাবে।
লাইভ ক্যামেরায় গণহত্যার ঘটনা দেখার পরেও আওয়ামীলীগের দাবি কেউই মরে নাই। মুগ্ধ-স্নিগ্ধ ভাইদের নিয়েও নোংরামির চূড়ান্ত করেছে। মুগ্ধ নামের কেউ নাকি কখনই ছিল না, স্নিগ্ধই নিজের কাল্পনিক ভাইকে মৃত দেখিয়ে নিজে বিদেশে ঘুরে বেরিয়েছে। "কারোর আপন ভাই মারা গেলে কেউ কি বিদেশে যেতে পারে?" "হাসিমুখে ছবি তুলতে পারে?" ইত্যাদি ইত্যাদি সব ছোটলোকামি বুদ্ধিহীন লজিক। রাজনীতি আর ধর্ম মানুষকে কতটা মূর্খ, জাহিল, অন্ধ আর বেকুব বানাতে পারে সেটার উদাহরণ।
তো যাই হোক, এখন এই শিশুদের মৃত্যু ও সংখ্যা নিয়েও রাজনীতি চলছে।
একদল দাবি করছে লাশ লুকিয়ে ফেলা হয়েছে। শয়ে শয়ে শিশু মারা গেছে, অথচ সরকার থেকে জানানো হচ্ছে অনেক কম। মিলিটারি লাশ সরিয়ে ফেলেছে। যারা বাধা দিতে গিয়েছিল, সবাইকে পিটিয়েছে। ওয়াকার-ইউনুস খুব খারাপ!
রাজনীতি বাদ দিয়ে লজিকের দিকে একটু যাই।
১. ঘটনা ঘটেছে দিনের আলোয়। প্রচন্ড ভিড়ে যেখানে উদ্ধারকর্মীরাই যেতে পারছিল না, সেখানে "লাশ লুকিয়ে ফেললে" পাবলিকের নজরে আসতই। আওয়ামীলীগ বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দলীয় লোকজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে নিজেদের দাবি করলে সেটা সঙ্গত কারণেই বাতিল।
২. এইটা স্কুলের ঘটনা। প্রতিটা বাচ্চার অন্তত দুইটা করে প্যারেন্টস আছে। ঘটনা এমন না যে কারোর বাচ্চাকে সরকার গুম করে ফেলবে আর এইসব বাপ মায়েরা, ওদের আত্মীয় স্বজনেরা চুপ করে বসে থাকবে। মিডিয়া তোলপাড় করে ফেলতো বাচ্চা না পেলে। এখন পর্যন্ত কয়জন বাবা মা এমন দাবি করেছেন?
৩. স্কুলের রেজিস্ট্রি খাতা আছে। সেটা পুড়ে না থাকলে সহজেই ট্র্যাক করা সম্ভব কয়টা বাচ্চা সেখানে উপস্থিত ছিল, কয়জন মিসিং।
৪. ওদের একজন টিচারের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখলাম যেখানে তিনি লিখেছেন কেন সংখ্যা ১০০-২০০ হয়নি। উনারা হচ্ছেন টিচার, বাবা মায়ের পরে ওরাই এইসব বাচ্চাদের গুরুজন। উনারই দুই দুইজন সহকর্মী বাচ্চাদের উদ্ধার করতে গিয়েই মারা গেছেন। এক্ষেত্রে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি দেখাতে যাবেন না, প্লিজ।
লাশ নিয়ে যারা রাজনীতি করে, ওদের বুঝা উচিত এখানে বহু নিষ্পাপ শিশু জড়িত। গোটা দেশবাসীর আবেগ জড়িত। অন্তত এই ঘটনাকে ওদের ছাড় দেয়া উচিত। রাজনীতিকীট না হয়ে এই ঘটনায় অন্তত সবার একটু মানুষের মতন আচরণ করা উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০২৫ রাত ১২:৫২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কি নারী নেতৃত্ব বিরোধী?

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েজ কিনা এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় মূলক বেশ কিছু পোষ্টও আমার চোখে পড়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×