somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ছেলেকে দিয়ে যাচ্ছি, হাড্ডি ফেরত পেলেও চলবে।"

২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুরুতেই বলে নেই, আমি দেশের তামাম শিক্ষক শিক্ষিকাদের অপমান করে এই লেখা লিখছি না। আমার মা, আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি সবাই শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় যন্ত্রনা হচ্ছে এই যে একটা ডাক্তারের, একটা ইঞ্জিনিয়ারের, একটা উকিলের, একটা পুলিশের সমালোচনা করেন, অমনি ভিমরুলের মতন গোটা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, পুলিশ সমাজ আপনাকে ওদের দুশমন মনে করে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই অতি আলগা পিরিতির কারণেই আমাদের দেশে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যায়। তারপরে কান্নাকাটি শুরু হয় "আমরা কেনু বিলাত আম্রিকার মতন হুলাম না? হুয়াই!?" বা "নব্বই পার্সেন্ট মুসলমানের দেশে এমুন কেনু হলো?"
দেশের এক স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে এক জোড়া সাইকো শিক্ষক-শিক্ষিকা একটি ছোট্ট শিশুকে নির্যাতন করছে। আমার বাচ্চাকে এমন করলে আমি এই দুই জানোয়ারকে জেলের ভাত না খাওয়ানো পর্যন্ত দম নিতাম না।
তা ঘটনা হচ্ছে, আমাদের দেশে শিক্ষক শিক্ষিকাদের স্টুডেন্ট পেটানোর ঘটনা নতুন কিছু না। মার খেয়েছেন আমার দাদায়, মার খেয়েছেন আমার পিতায়, আমিও মার খেয়েই বড় হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছেলেকে মার খেতে হয়না।
আমাদের যুগে একটা কথার খুবই প্রচলন ছিল, পিতামাতা সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করানোর সময়ে টিচারদের বলতেন "ছেলেকে দিয়ে যাচ্ছি, হাড্ডি ফেরত পেলেও চলবে।"
কথাটার গূঢ় অর্থ হচ্ছে, ছেলেকে পিটিয়ে মানুষ করতে হবে। লাইসেন্স দিয়ে দিলাম। উনাদের বিশ্বাস ছিল সন্তানকে না পেটালে সন্তান মানুষ হয়না।
আমার বাবা একটু ব্যতিক্রম ছিলেন। তিনি সন্তানদের মারধরে বিশ্বাস করতেন না। টিচারদের বলতেন, অন্য কোন শাস্তি দাও, কিন্তু ফিজিক্যাল মারধর না।
আমরা হয়তো "মানুষ' হই নাই, কিন্তু যাদের মারধর খেতে দেখেছি, ওরাও আমাদের চেয়ে উন্নত কোন প্রাণী হতে পারেনি।
আর যেগুলি ভাল ছাত্রছাত্রী ছিল, যারা জীবনে উন্নতি করেছে - ওরা কিন্তু কখনই মার খায়নাই।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, মারের ফলে লাভটা কি হলো?
আমাদের দেশের বেশিরভাগ প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে আমরা দেখি উনারা অনেকেই নিরুপায় হয়েই শিক্ষকতায় আসেন। যারা অন্য কোন ভাল চাকরি পান নাই, বা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, উনারাই স্কুলের শিক্ষকতা করেন। এরা সুযোগ পেলেই চাকরি ছেড়ে বেশি বেতনের চাকরিতে চলে যাবে।
খুব কম শিক্ষক পাবেন যারা নিজের ইচ্ছায়, শিক্ষকতা পেশাকে ভালবেসে এই পেশায় আসেন। উনাদের মিশন থাকে মানুষ বানাবার কারিগর হওয়া। বাকিদের মনে থাকে ফ্রাস্ট্রেশন। জীবনের নানান ব্যর্থতার ঝাল ওরা অসহায়, নির্বল শিশুদের উপর মেটায়। সেকারনেই দেখবেন অতি তুচ্ছ কারনে ওরা এমনভাবে মারধর করে যেন ওর আপন মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা খেয়েছে।
নাহলে সামান্য হোমওয়ার্ক না করার জন্য কেউ অমানুষের মতন পেটাবে কেন? ক্লাসে মনোযোগ না দেয়া বা চঞ্চলতার কারনে যে শিশুটিকে পশুর মতন পেটানো হয়, কয়টা শিক্ষক খোঁজ নেন যে হয়তো শিশুটির ADHD আছে, হয়তো হাই ফাংশনিং অটিজম আছে! দিনের পর দিন হোমওয়ার্ক মিস করা শিশুর বাড়ির পরিস্থিতি সব ঠিক আছেতো? খোঁজ নিয়েছেন কখনও? সেই সময়, ইচ্ছা, ভালবাসা, মমতা কোথায়? অথচ আমাদের শেখানো হয়, পিতামাতার পরেই শিক্ষকের স্থান!
আমার বাচ্চাকে যখন স্কুলে ড্রপ করতে যাই, দেখি ওর টিচাররা স্কুলের ট্রাফিক কন্ট্রোল করছেন। শিশুরা যেন নিরাপদে নামতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা। তাঁদের প্রত্যেকের মুখ হাসিখুশি, উঁচু সাউন্ডে কোন আপলিফ্টিং মিউজিক বাজছে, টিচারদের অনেকেই তালে তালে নাচানাচি করছেন কিংবা স্টুডেন্টদের হাই ফাইভ দিচ্ছেন, জড়িয়ে ধরে ওয়েলকাম করছেন - পুরো ঘটনাটাই একটা দারুন পজিটিভ ভাইব দেয়। বাচ্চারা স্কুলের/ক্লাসের/লেখাপড়ার/শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভয় পায় না, স্কুল ওদের জন্য আনন্দের স্থান।
এইটা আমাদের দেশে কেন মিসিং? দায় কি কিছু শিক্ষক শিক্ষিকার উপর যায় না? যারা লেখাপড়ার মতন অতি আনন্দের বিষয়টাকে শিশুমনে বিষিয়ে তোলেন?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পলাশী ১৭৫৭, বাংলাদেশ ২০২৬ঃ সিরাজের বাহিনি ও বিএনপি

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০



সামনের ইলেকশনে যদি ডিপস্টেট, জামাত ও এঞ্চিপির যৌথ প্রচেষ্টায় 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' বা 'মেকানিজম' হয় (যেটার সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন অনলাইন-অফলাইন-দুই জায়গাতেই), তবে কি বিএনপি সেটা ঠেকাতে পারবে? পারবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জালিয়াতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৯



জালিয়াতি -১
কয়েক মাস আগে, লন্ডন থেকে আমার এক আত্মীয় ফেসবুকে ম্যাসেজ করলেন যে, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে আমার একটি ফোটোকার্ড ইন্টারনেট দুনিয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমি চমকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

টেস্ট টিউব বেবি (IVF) ও সারোগেসি; ইসলাম কী বলে?

লিখেছেন নতুন নকিব, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৬

টেস্ট টিউব বেবি (IVF) ও সারোগেসি; ইসলাম কী বলে?

ছবি সংগৃহীত।

ভূমিকা

সন্তান মানুষের জীবনের অন্যতম গভীর আকাঙ্ক্ষা। পরিবার, উত্তরাধিকার, সামাজিক ধারাবাহিকতা ও মানসিক পূর্ণতার সঙ্গে সন্তান প্রত্যাশা ওতপ্রোতভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নাই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৩


ঢাকার মিরপুরে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের এক পোড়খাওয়া নেতা টাইম ম্যাগাজিনের তারেক রহমান কে নিয়ে লেখা বাংলা অনুবাদ পড়ছিলেন । প্রচ্ছদে তারেক রহমানের ছবি, নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×