somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পারিবারিক স্মৃতিবিজড়িত

০১ লা জুলাই, ২০১৫ ভোর ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটি একটি পারিবারিক স্মৃতিবিজড়িত নোট।

সময়টা ১৯৯৮ সালের ৩০ অক্টোবর। আমার ছোট ভাই মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ জন্মগ্রহণ করে। এটাই এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের সর্বশেষ সংযোজন।
তখন আমাদের পরিবারের সদস্য ছিলাম ৬ জন।
দাদা-দাদী, আব্বু-আম্মু, আকাশ ও আমি।

২০০৭ সালের ৮ এপ্রিল আমার দাদা আলহাজ্ব হবিবর রহমান সরকার পরলোকগমন করেন। এরপর ২০১০ সালের ৪ আগস্ট আমার দাদীও এহলোক ত্যাগ করেন।

সে হিসেবে বাড়িতে আমিসহ এখন ৪ জনের থাকার কথা। কিন্তু ২০০৮ সালের আগস্টে আমি যখন কলেজে ভর্তি হয়ে বাড়িছাড়া হই, তখন দাদীসহ বাড়িতে ছিলেন ৪ জন।
দাদী মারা যাবার পর বাড়িতে থাকল ৩ জন।

গতকাল, ৩০ জুন ২০১৫, আমার ছোট ভাই আকাশ রংপুর সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে বাড়িছাড়া হল।
এজন্য এখন বাড়িতে থাকল মোটে দুই জন। আমার বাবা আর আমার মা।
অবশ্য সৌভাগ্যক্রমে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আমি আপাতত বাড়িতেই আছি।

# আমার দাদা রাত দেড় টার দিকে মারা গিয়েছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার রাতে আব্বুকে দেড়টার পর থেকেই জোরে জোরে কাঁদতে দেখেছিলাম।
সেই রাতের ঘটনা মনে পরে আমার।

রাত দেড়টায়, ঠিক দাদা মারা যাবার সময়ই, আব্বু একটা স্বপ্ন দেখে জেগে ওঠেন। দৌড়ে দাদার ঘরে যান এবং তার অন্তিম নড়চড় দেখতে পান।
স্বপ্নটা তো পুরো জানি না, তবে এটুকু শুনেছি, স্বপ্নের কোন এক পর্যায়ে একটা বিড়াল আব্বুর গায়ে আঁচর দিচ্ছিল। তখনই আব্বু জেগে উঠে দৌড়ে দাদার ঘরে যান এবং দাদার অন্তিম নড়চড়টি দেখতে পান।

# দৈবচক্রে, আমার দাদীও মারা যান রাত দেড়টায় বা তার সামান্য কিছুক্ষণ আগে।
সেরাতে বিদ্যুৎ না থাকায় আমার ঘুম আসছিল না, তাই আমি পাশের পিচ রাস্তায় গিয়ে বসে ছিলাম, ওখানে একটু বাতাস পাওয়া যায়।
বিদ্যুৎ আসার পর আমি বাড়িতে আসলাম। এসে দেখি আমার আরেক দাদী যিনি সেই রাতে আমার দাদীর পাশে ছিলেন, তিনি দাদীর ঘরের দরজায় এসে আমার আব্বুকে নাম ধরে ডাকছিলেন।
বাড়ির বাইরে থেকে এই ডাক শোনার পর আমি দৌড়ে আসলাম ও দাদীর ডান হাতের নিশ্চুপ ভেইন পরোখ করলাম। আব্বুকে জোরে জোরে ডাকলাম, তিনিও হতদন্ত হয়ে আসলেন এবং হাত ও পায়ের ভেইন নিশ্চুপই খেয়াল করলেন। তারপর অনেকেই আসলো, আমরাও দাদীর মৃত্যু নিশ্চিত হলাম।
সেরাতে আমি রাত সাড়ে চারটার দিকে বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, আর ঘুম ভেঙেছিল তার আধাঘণ্টা পরেই। দেখলাম, আব্বুর অঝোরে কান্না।

# গতকাল আমার ভাইকে রংপুরে মেস এ তুলে দিয়ে এসেছি।
রংপুর যাওয়ার আগের রাতে আব্বুর মন খারাপ ছিল এবং মোটেও ঘুম হয়নি। আর আকাশকে রেখে আসার পরের রাতে অর্থাৎ চলতি রাতে আব্বু প্রায় সারারাত কান্না করেছেন, যেটা কিছুক্ষণ আগে আমি সেহেরি খেতে উঠে আম্মুর কাছেই জানতে পারলাম।
সেহেরিও খেতে পারলেন না বললেই চলে, সামান্য একটু ভাত গলধঃকরণ করলেন।

## উপরের তিনটা ঘটনায় আমাদের পরিবারের তিন জনের দুই রকম প্রস্থানের কথা লিখেছি।

এর মাঝে ২০০৮ সালে আমি যখন রাজশাহীতে কলেজে ভর্তি হই ও সেখানে চলে যাই তখনও আব্বু কেঁদেছিলেন কিনা তা অবশ্য আমি জানি না।
তবে খুব সম্ববত ঘটনা একই, কিন্তু আমার মন খারাপ হবে জন্য আমাকে বলা হয়নি, যেমনটা করা হয়েছে এখন আকাশের বেলায়।

পরিবারের কারও প্রস্থান, সে চূড়ান্ত হোক বা সাময়িক, বড়ই বেদনাদায়ক।

দাদা-দাদী মারা যাওয়ার পর আমি হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম। আজ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছি, এই নোট লেখার সময়ও কাঁদছি।

আমি ঢাকা-রাজশাহী যাওয়ার সময় আব্বু আমাকে ভদ্রভাবে থাকতে বলত, দেখে-বুঝে চলতে বলত, কারণ আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানে আমার আপন ছিল না।

এবার ঢাকা যাওয়ার সময় আব্বু-আম্মুকে আমার বলতে হবে, দেখে-বুঝে চলতে, কারও সাথে বিরোধে না যেতে, আশেপাশে অনেকেই থাকলেও কেন জানি মনেহয় আপন কেউ নেই......
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৫ ভোর ৫:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

উন্মাদ; নেতা না জনগন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



১। জনগন উন্মাদ, নাকি নেতা-পাতি নেতারা !!?? যেহেতেু জনগনই ভোট দিয়ে (বাংলাদেশ ছাড়া) নেতা নির্বাচন করে; বলা যায় জনগনের উন্মাদনা-ই নেতা-পাতি নেতাদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেয় !!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×