আমাদের এক স্যার সুস্থ হয়ে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরলেন। বাংলাদেশে যে রক্ত দেওয়া হয়েছিল তাতে ভাইরাস ছিল যাকেই কিনা ডাক্তার ক্যান্সার মনে করেন। যার জন্য নেওয়া হয়েছিল থাইল্যান্ড।
আমাদের কয়েক বন্ধু জয়েন করেছে বাংলাদেশের ডায়গোনিষ্টিক সেন্টারে রিয়্যাজেন্ট এবং মেশিন সাপ্লাই দেয় এরকম সবচেয়ে বড় কোম্পানীতে। নাম বলতে চাচ্ছি না। যাই হোক তার এই কয়েক মাসের জবে সে বলল ঢাকা শহরে সব ডায়াগোনিষ্টিক সেন্টারের ইতিকথা।
রোগ নিয়ন্ত্রন যন্ত্রগুলো ওদের কোম্পানী বিনামুল্যে বিতরন করে বিভিন্ন ডাইগোনিষ্টিক সেন্টারে। এদের মূল ব্যবসা হল রিয়াজেন্ট। মেশিনের কথা যা বলল, বাইরে থেকে যেসব মেশিন রিজেক্ট হয়ে যায় সেগুলো এরা ইমপোর্ট করে নিয়ে আসে। তাছাড়া কি বিনামূল্যে মেশিন দেওয়া সম্ভব? আবার মেশিনগুলো মাসের কোন সময় না কোন সময় নষ্ট থাকে, এই সময়গুলোতে ল্যাব টেকনিশিয়ানরা নিজেদের মত বানিয়ে রিপোর্ট কম্পিউটারে প্রিন্ট দিয়ে দেয়। যার জন্য ল্যাব টেকনিশিয়ানদেরকে দেওয়া হয় হাজার হাজার টাকা ।
এবার আসা যাক রিয়াজেন্টের কথা। রিয়াজেন্ট হল এমন জিনিস যার সাথে পরিক্ষীত বস্তুর(যেমন: রক্ত) বিক্রিয়া ঘটিয়ে লেজারের মাধ্যমে রিপোর্ট দেওয়া হয়। এই রিয়াজেন্টগুলোর মেয়াদ উত্তির্ণ হয়ে যায় দ্রুত। তাই এই কোম্পানীগুলো ডাইগোনিষ্টিক সেন্টারের কাছে মেয়াদ উত্তীর্ণ রিয়াজেন্ট বিক্রি করে খুবই কম মূল্যে যা কিনা চালিয়ে দেবার জন্য ল্যাব এসিসটেন্টদের দেওয়া হয় হাজার হাজার টাকা আর ডাক্তারদের দেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। শরিষার ভিতরে ভূত। যা দিয়ে ভূত ছাড়াবে সেই নিজে ভূত হয়ে বসে আছে। এই ঘটনা ঢাকা শহরের পিজি থেকে শুরু করে..হলি ফ্যামিলি, ইবনে সিনা, ল্যাব এইডেও চলছে। ওর কাছ থেকে শুনার পর ঘটনা পরিষ্কার হল। কেন একই পরীক্ষা ৫ জায়গায় টেষ্ট করার পর সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না?
শেষে আমি জিজ্ঞাসা করলাম তাইলে কোন যায়গায় এখনও কিছুটা ভাল আছে । বলল এপোলো আর স্কয়ার। যারা টেস্টের জন্য গলা কেটে আগেই রুগী মেরে ফেলে ।
একটা সাধারন টেষ্টের যেখানে খরচ ১০০ টাকা ডাইগোনিষ্টিক সেন্টারগুলো নিচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকা। যার এক অংশ চলে যাচ্ছে ডাক্তারদের ঠিকানায়। হায়রে বাংলাদেশ, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সেক্টর যেখানে মানুষের মরা বাচা নিয়ে প্রশ্ন সেটাও চলে গেছে দূর্নীতির বাগিচায়। এ জন্যই কি আমাদের দেশের নেতা কর্মিরা জ্বর হলেও সিঙ্গাপুর দৌড় দেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


