somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিধি

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আচ্ছা তোমার একি স্বভাব?
কি?
আমার দিকে এভাবে তাকানোর দরকার কি? আমিতো কোন মেয়ের দিকে তাকাচ্ছি না
সেটাই দেখার চেষ্টা করছি কারও দিকে তুমি তাকাও কিনা ।
নিধিকে এই কথা আমার কয়েক হাজার বার বলা হয়ে গেছে, রিক্সায় বসা থাকলে আমি কোন মেয়ের দিকে তাকাই কিনা তাই দেখার জন্য ও আমার দিকে সারাটা পথ তাকিয়ে থাকবে ।

আমাদের সম্পর্ক কয়দিনের ?
আট বছর দুই মাস নয় দিন
সেকেন্ড মনে নেই?
তাও আছে, বলব?
দরকার নেই আমি জানি তোমার মনে আছে কিন্তু সমস্যা হল আমাকে সবসময় অবিশ্বাস করছ সেটা
কি অবিশ্বাস করলাম আবার
এই যে এখনো রিক্সায় আমি কোন মেয়ের দিকে তাকাই কিনা তাই নিয়ে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছ
সারা জীবন এই গবেষনা চালাব মরে গেলেও চালাব
মরে গেলে কিভাবে চালাবে ?
ভুত হয়ে গবেষনা চালাব, তখনো অন্য মেয়েদের দিকে তাকালে তোমার কপালে খারাবি আছে
কি করবে তখন ?
গলা টিপে মেরে ফেলব চোখ গেলে দেব, আচ্ছা ধর আমি মরে গেলে কি করবে তখন ?
চুপ একদম চুপ ফাজিল
প্লিজ প্লিজ বল না, বল না
পাগল হয়ে যাব
হুহ আমি জানি আমি মরার পরের দিনই তুমি আর একটা মেয়ের খোজে বিজি হয়ে যাবা

এই!!!!! এই!!!!!!!!! ওহ, আমি আবছাভাবে শুধু দেখলাম চারপাশ থেকে লোকজন দৌড়ে আসছে
তারপর আর কিছু মনে নেই ।

জ্ঞান ফিরে পাবার পরে আমি জানলাম একটা বাস এসে আমাদের রিক্সায় ধাক্কা দেয় আমি রাস্তার পাশে পড়ে যাই কিন্তু আমার নিধি সেই ঘাতক ট্রাক থেকে বাচতে পারেনি ওর মুখটাও নাকি চেনা যাচ্ছিল না । আমি আমার নিধিকে শেষ বার দেখতে পারিনি কারন প্রায় দশদিন পর আমার হুশ হয়েছিল,
আমি আমার ভাইকে নিয়ে ওর কবরে গিয়েছিলাম তবে বেশিক্ষন দেখতে পারিনি তার আগেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম ।

সময়ের সাথে হয়ত সব ক্ষত শুকায় কিন্তু আমারটা শুকাতে অনেক সময় লেগেছিল, প্রায় পাঁচ বছর পরে বাসার সবাই অনেক চেষ্টায় আমাকে বিয়ে করাতে পেরেছিল,ওর নাম নিলি, হ্যাঁ নিলি নিধির ব্যাপারে কিছুই
জানত না তবে মনে হয় ও আমাকে নিধির ব্যাপারটা অনেকখানি ভুলিয়ে দিয়েছিল,

আমাদের বিয়ের প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে, বিয়ের এক বছর পড়ে আমি নতুন করে নিলির প্রেমে পড়েছিলাম,
এটুকু বলব যে আমি নিলিকে নিয়ে পৃথিবীর সবচাইতে সুখি ।

আমি যে কয়দিন না থাকব তুমি কিন্তু ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করবে
আচ্ছা বাবা

আজকে নিলি রংপুরে বাবার বাসায় যাচ্ছে পাঁচ দিনের জন্য, ওর বোনের বিয়ে কিন্তু আমি যেতে পারছি না

অফিসের জরুরী কাজের জন্য ।

সাবধানে থাকবা দাঁড়াও আমি দোয়া পড়ে ফু দিয়ে দেই
আচ্ছা
বেশি রাত জাগবা না
আচ্ছা
এক ঘন্টা পর পর আমি ফোন দিবো, প্রতিবার ফোন রিসিভ করবা
আচ্ছা

নিলি রওনা দেয়ার পরে আমি অফিসে এসে চলে আসলাম সারাদিন আজকে অনেক কাজ শেষ করতে হবে ।

সারাদিন আজ নিলিকে ফোন দেয়ার সময় পাইনি, ও কিন্তু এক ঘন্টা পরপর ফোন দেয়ার কাজ চালিয়ে গেছে
কিন্তু কাজের চাপে ফোন ধরতেও পারিনি ।

রাত দশটা বাজে নিলির ফোন
সারাদিন ফোন দাওনি ক্যানো?
সরি বাবা, খুব কাজের প্রেসার ছিলো
ডিনার শেষ??
হ্যাঁ
এখন ঘুমাও
আর একটু পরে
না এখনই
আচ্ছা
প্রমিজ তুমি এখনই শুয়ে পড়বা
প্রমিজ

হটাৎ ঘুম ভেঙে গেল, দেখি রাত একটা বাজে, প্রচন্ড গরম, খোলা জানলা দিয়ে কোন বাতাস আসছে না,

কারেন্ট ও নেই, একটু পানি খেতে টেবিলের কাছে যেতেই জানালার পাশ থেকে একটা শব্দ হল মনে হয়, তাকিয়ে দেখি কিছুই না, পানি গ্লাস মুখের কাছে নিতেই আবার শব্দ হল মনে হয়, আবার তাকালাম কিছুই না । আবার শুয়ে পড়লাম ঘুমও আসছে না
এবার আমার বিছানায় একটা শব্দ হল মনে হল কেউ যেন বসল, আমি একটু ভয় পেয়ে বললাম কে??
কিন্তু আর কোন শব্দ নেই, হয়তবা মনের ভুল
আবার শব্দ হল এবার একদম আমার পাশে, সত্যিই এবার ভয় লাগছে, কি হচ্ছে এসব, খাটের ওপরে কেউ হাঁটছে আমি ভয়ে নড়াচড়া করতেও ভুলে গেছি, হঠাৎ মনে হচ্ছে শক্ত দুই হাত আমার গলা চেপে ধরে আছে আমি শ্বাস নিতে পারছি না
দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমি তাকাতেও পারছি না সেই দুই হাত আমার চোখ দুটোকে চেপে ভিতরের দিকে ঢুকিয়ে দিতে চাইছে
হঠাৎ আমার একজনের কথা মনে পড়ল আমি কোনমতে বললাম নিধি????
সেই শক্ত হাত দুটো যেন মুহুর্তের জন্য একটু নরম হল কিন্তু আবার আমার গলায় চেপে বসছে
আমি বললাম নিলি বাঁচাও
হাত দুটো আমার গলা আর চোখ ছেড়ে দিল আমি ধরমর করে উঠে বসলাম সকাল সাতটা বাজে, সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে ।

আমি নিধির কবরে এসে দাড়িয়েছি, কেন জানিনা তবে আজ সকাল থেকেই পুরানো একটা শোক কালবৈশাখির ঝড়ের মত মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে, আমি সেই ঝড় আটকে রাখতে পাড়ছি না , নিধির কবরে সুন্দর কিছু বেলী ফুল ফুটে আছে, আমার নিধি যার সবটুকু ছিলাম আমি, যার শেষ আমার সাথে ।

চোখের সামনে নিধি ভেসে আছে আমি সবকিছু ঝাপসা দেখছি আমার ভিতরের সেই ঝড় প্রচন্ড বৃষ্টি নিয়ে এসেছে ।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাইভারসিটি ভিসা লটারি আবার চালুর নির্দেশ আদালতের

লিখেছেন শিমুল মামুন, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি লটারি) লটারির নিবন্ধন আবার চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×