somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কথা বলবনা, বললে আমার পিঠের চামড়া থাকবেনা :প্রেক্ষিত ঢাবির ৯৪ তম জন্মদিন।

০১ লা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার চিন্তা-চেতনায় সম্ভবত উন্নত মানের কোন এলার্জি আছে, তা না হলে কেনো আমি আর দশ জনের মত এভারেজ ভাবতে পারিনা। কথাটা কম বলেছি না বেশি বলেছি সেটা বোঝা যাবে একটু পরে।

আজ ঢাবির ৯৪ তম জন্মদিন, একটা মানুষ এই বয়সে একেবারে থুরথুরে বুড়ো আর একটা বিশ্ববিদ্যালয় এই বয়সে শিশু কিংবা কিশোর (অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ,আল আজহার কিংবা আমার নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স হিসাব করলেই ব্যাপারটা ক্লিয়ার হবে) তার সামনে এখনও অনেক পথ বাকি, দেয়ার সবেমাত্র শুরু সামনে সে শুধু দিবে আর দিবে। আজ যে ভাষায় লিখছি,যে ভাষায় কথা বলছি সেটার সিংহভাগ অবদান এই আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, ক্রিকেটে আজ কাউকে বাংলাওয়াশ করলে যে লাল সবুজের ১৬ কোটি মানুষের আত্মা সদৃশ একটা পতাকা নিয়ে আমরা দৌঁড়ায় সেটাও এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দান। আমার প্রাণ পুরুষ জাতির জনকের মত নেতাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দান, তবে এখন কেন জানি মনে হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের উপর অভিমান করেছে, হৃদয় উজাড় করে এখন সে আর দান করেনা, দান করতে চায়না ।

একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন উদযাপন মানে তাকে শুধু ওইলিং এন্ড পাম্পিং করে বিশাল বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা নয় বরং তার অতীত ইতিহাসের সাথে বর্তমান চরিত্রের একটা যোগসুত্র টানাই আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত,সেখানে থাকবে এই চিন্তা, কিভাবে তার অতীত গৌরব ফিরিয়ে দেয়া যায় অথবা তার চেয়ে আরও ভালো কিছু করা যায়।

এখন বলি অন্যকথা,প্রতিবছর বিসিএসের মাধ্যমে যতজন বাংলাদেশ সরকারকে সেবা করার সুযোগ পান তার সিংহভাগ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তান, অনেকে বলেন সেটার গানিতিক হিসাব মোট ক্যাডার সংখ্যার ৫০ কিংবা ৬০ ভাগ, আচ্ছা এখন যদি বলি বাংলাদেশ যে বিশ্বে দুর্নীতির সূচকে বারবার সামনের দিকে আসন পায় তার জন্য ৫০ কিংবা ৬০ ভাগ অবদানই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের, যেহেতু আমাদের বড় ভাইয়েরা, বোনেরা ওইসব বড় বড় পদে সমাসীন হয়েছেন যেখান থেকে দুর্নীতির সূত্রপাত হয়, সেটা মানতে আমাদের সবার বেশ কষ্ট হবে অনেকের হয়ত বুক ফেটে যাবে, আবেগে আটখান হয়ে অনেকেই আমাকে খুন করতে উদ্ধত হবেন তার পরও এটাই সত্য। ৯৪ বছরে আমার প্রাণের এই বিশ্ব-বিদ্যালয়টি নৈতিক চরিত্রের শ্রেষ্ঠগুণ সম্পন্ন মানুষ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে সে কথা মানতে হবে এবং তার জন্মদিনের আলোচনায় এই ব্যাপারটি নিয়ে আসতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশ্বমানের জায়গা সুতরাং সেখানে গোলাম আজমের মত কুখ্যাত দেশদ্রোহী মানুষও জন্ম নিতে পারে আবার জাতির জনকের মত মহান নেতাও জন্মাতে পারে সেটা সত্য তবে গড় হিসাবে ভালোরাই বেশি জন্মাবে বা ভালোর দলটাই ভারী হবে সেটাই স্বতঃসিদ্ধ অথচ ঢাবির চেহারা আজ তা বলেনা।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হয়েছিল ঠিক যে কারনে, সেটি হল এমন, এই ভূভাগের মুসলিমরা যেন শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে না থাকে, যেহেতু তখন কলকাতায় একটা বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছিল, নবাব সলিমুল্লাহ নিজে মুসলিম ছিলেন আর তাই তিনি মুসলিমদের কল্যানে এখানে ৬০০ একর জমি দান করেছিলেন, দয়া করে ব্যাপারটিকে সাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টিতে বিবেচনা করবেন না, সে সময়ের পরিস্থিতিই ছিল এমন, ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দুরা চেয়েছিল নবাব সিরাজের পতন হোক, তাতে মুসলিম শাসনের অবসান হবে, সে সময়ে হিন্দুদের আসনে মুসলিমরা থাকলে তারাও একই কাজ, একই চিন্তা করত, নবাবের পতনও হয়েছিল, তাই পরে তারা ইংরেজদের গোলামি করে বড় বড় পদে বসেছিলেনও বটে, যার ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে মত কিংবা বিরোধীতা করেছিলেন সে সময়ের জগত জোড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, তিনি আমার প্রাণের স্পন্দন আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মক্কা বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়েছিলেন। যাহোক, আজ যখন দেখি মুসলমানদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কোরান,হাদিস জানার কারনে সোজা বাংলায় মাদ্রাসায় পড়ার কারনে একটা মুসলিম ছাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেও তার পছন্দের সাবজেক্টে ভর্তি হতে ব্যর্থ হন তখনই আমার মনে হয় নবাব সলিমুল্লাহ আপনার স্বপ্ন মাটি হয়েছে, সরি,সরি,সরি আপনাকে আমরা হাজার সরি বলছি। এই ব্যাপারটিও জন্মদিনের অালোচনায় আজ আনতে হবে, ভাবতে হবে সবাইকে।

প্রাচ্যের সেই অক্সফোর্ড আজ যেন এক ধরনের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, ডিপার্টমেন্টে ভালো অবস্থান করতে হলে টিচারদের পা ধরে থাকতে হয়, আর টিচার হতে গেলে রাজনীতিবিদদের পা ধরে থাকতে হয়, সেই অক্সফোর্ডে আজ মেধার মূল্যায়ন কোথায় গেল? এ পা ধরাধরির শেষই বা কোথায় কে জানে? ঢাবির জন্মদিনের আলোচনায় আজ তাকে শুধু অহেতুক পাম দিলেই হবেনা, এই ব্যাপারগুলোরও যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।

আজ আমার ক্যাম্পাস বড় বড় আকাশ চুম্বী বিল্ডিংয়ে ছেয়ে গেছে, বিশাল তোরন নির্মান করেছি আমরা অথচ বিশ্বের প্রথম একশ কেউ কেউ বলছেন পাঁচশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আমার এই আবেগের নামটি মাইক্রোসকোপ যন্ত্র দিয়েও খুজে পাওয়া যায়না, আজ তাহলে হলটা কি?

সুতরাং আজ আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে সমস্মরে বারংবার বলতে চাই আমার প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেয়া হোক, আজ মিয়ানমারের মত একটা অসভ্য দেশ যখন আমার বিজিবিকে অত্যাচার করে অন্যায়ভাবে আটকে রাখে তখন আমরা বলি হে ঢাবি তুমি আবারও হুংকার ছাড়ো, তোমার বুকে প্রথম ওড়া আ.স.ম আব্দুর রবের হাতের সেই লাল সবুজের পতাকা এবার তুমি আমার হাতে তুলে দাও, জ্বালিয়ে,পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়ে আসি মিয়ানমারী বর্মি অসভ্যদের, আমাকে আজ তুমি সেই শক্তি দাও, সাহস দাও যা দিয়ে আমি শত্রুর বুক ঝাজরা করে দেব যেমনটা তোমার নেতৃত্বে দিয়েছিলাম পাকিস্তানকে।

জয় ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়, দীর্ঘজীবী হও, শেষদিবসের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত দোর্দন্ডপ্রতাপে টিকে থাকো, শাসন কর সারা বিশ্বকে তোমার নিজের মত করে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৩০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×