somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিসিএস ও আমাদের বর্তমান শিক্ষা -ব্যবস্থার বেহাল দশা।

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিসিএস ও আমাদের বর্তমান শিক্ষা-ব্যবস্থার বেহাল দশা।
------ মারুফ হোসেন,শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিসিএস একটি নাম, একটি জব, একটি সম্মান, একটি ইতিহাস। বিসিএস হচ্ছে সেই জিনিস, সেই সম্মান, সেই চাকুরি যার জন্য হাজারো তরুণ,তরুণী মুখিয়ে আছে, কেউ কেউ আছে হা করে বসে।

যাক সে কথা, বিসিএস বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চাকরি কিনা এই বিতর্কের শবব্যবচ্ছেদ করার যোগ্যতা,শক্তি, সাহস কোনটিই আমার নেই। তাই এত বড় রিস্ক আমি নিবও না।

এখন বলি ভিন্ন কথা, বিগত ৩০ শে আগস্ট রাতে ৩৪ তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে যে রকম উৎসবের দেখা মিলেছে নিকট অতীতে এমন চিত্র আর দেখা যায়নি কখনও। সেই সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টগুলোতেও দুইদিন ধরে যেন এক অঘোষিত উৎসবের দেখা মিলল। অনুষদ ভবনগুলোর ওয়াশ রুম থেকে শুরু করে ক্লাস রুম, এমনকি চেয়ারম্যান স্যারের অফিসেও বিসিএসের আলোচনা। হলের প্রতিটি রুমে ঐ একটি অবস্থা।

এখন প্রশ্ন হল, বিসিএস কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের চেয়ে বড় কোন পদ? যদি সেটা হয়ে থাকে, তাহলে ডিপার্টমেন্টে প্রথম স্থান অধিকরীরা কেন বিসিএস বাদ দিয়ে ডিপার্টমেন্টের টিচার হওয়ার তালে জীবন,যৌবন সব একবারে নষ্ট করতে সচেষ্ট হন?
আবার, পক্ষান্তরে বিসিএস যদি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পদের চেয়ে ছোট কোন পোস্ট হয়ে থাকে তাহলে কেন আমাদের শিক্ষক মহোদয়গণ আমাদের ব্যাচের যে ছেলেটি ডিপার্টমেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তাকে প্রায়ই বলেন তুমি বিসিএসে ট্রাই করো, দেখ ভালো কিছু হয়েও যেতে পারো??

--- আসলেই এই গ্যাঁড়াকলের কিছুই বুঝিনা আমি!!

কিছু সুপারিশ... ।
বিসিএস বিশাল কিছু বা সাধনার বিষয় তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ আমার নিজের মধ্যেও নেই। আমাদের শিক্ষক মহোদয়গণের অতি-সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে ব্যপারটা আরও জোরালো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী চার কিংবা পাঁচ বছর পড়ে তার উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সাবজেক্টটির তত্ত্ব,তথ্য,উপাত্ত কিংবা বিশাল, বিশাল জ্ঞানের খুব কমই আহরণ করেন বা করতে সামর্থ্য হন, তাই পাঁচ বছর পড়ার পর তার ঐ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর কোন প্রশ্ন করা হলে সে তিনবার মাথা চুলকে নিয়ে তারপর বলে "হয়ত এমন একটা হবে কিছু।" মানে কিছুই জানেনা সে কিংবা ঝাপসা একটু আধটু জানে ঐ বিষয়ে অথবা কিচ্ছু মনে নেই তার!! আজব।

অনার্স কিংবা মাস্টার্সে পঠিত বিষয়ের উপর একেবারে ব কলম মানে কিছু জানা না থাকলেও বিসিএস হওয়া সম্ভব। সুতরাং এই বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে বিসিএসের জন্য আলাদা কোন কোর্স চালু করা সময়ের দাবি....
সেক্ষেত্রে বিসিএস রিলেটেড ঐ কোর্সগুলো এমন ভাবে সাজানো যেতে পারে...
১. অনার্সের প্রথম বর্ষে এমপি থ্রি শেষ করতে হবে ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে।
২.দ্বিতীয় বছর শেষ করবে ওরাকল।
৩.তৃতীয় বছর কনফিডেন্সের যত গাইড আছে সব।
৪.চতুর্থ বর্ষে ক্যারিয়ার এইড সহ হাবিজাবি যা আছে সব শেষ করতে হবে।

## সর্বশেষ মাস্টার্সে গিয়ে বিশাল,বিশাল সেমিনার হবে বিসিএসের উপর যার সবগুলো রিভাইজ রিলেটেড ।

## দাবিগুলো খুব হাস্যকর মনে হলেও আসলে বাস্তবতা এটাই।এদেশে বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় এর চেয়ে ভালো গঠনমূলক সুপারিশ আর দ্বিতীয়টি আছে বলে আমার মনে হয় না । অাফসোস!
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×