somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একই ধারায় বহে পশ্চিমের জল...

২৭ শে অক্টোবর, ২০২৩ রাত ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বার্লিন কিংবা প্যারিসে ইজরায়েলের পক্ষে বিক্ষোভ কিংবা সহমর্মিতা জানাতে রাস্তায় দাঁড়ালে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, অথচ প্যালেস্টাইনের পক্ষে দাঁড়ালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইউএসএ বা আমরা যাকে আমেরিকা নামে চিনি, সেই আমেরিকা এখন বিশ্বের ডুবন্ত সূর্য। ডুবতে থাকে ব্রিটিশ এম্পায়ারের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা ছিল আরও একটি বিশ্বযুদ্ধ, যদিও তা কাজে লাগেনি বা ব্রিটেনের বদলে কর্পোরেশন ও পরিবারগুলো আমেরিকাকে বেছে নিয়েছিল।বলা বাহুল্য নয়, শক্তির এই ট্রানজিশনে অন্য কোন নতুন রক্তক্ষয়ের প্রয়োজন পড়েনি। এই ব্যাপারটি কিন্তু খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সচেতন পাঠক এই ঘটনার অনুসন্ধান করুন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জাপান, জার্মানি, তুরস্ক কিংবা ইতালির মতো দেশগুলো হয়ে যায় আমেরিকার স্যাটেলাইট স্টেট। পরবর্তীতে আমরা দেখবো আরও প্রায় অর্ধশত বছর কিংবা তারও অধিক সময় পরে এই দেশগুলোর নিজস্ব কোন পররাষ্ট্রনীতি থাকবে না। আমরা দেখেছি ইউরোসেন্ট্রিক যুদ্ধ হলেও দূর প্রাচ্যের জাপানে নিউক্লিয়ার হামলা হয়ে গেছে, যা ছিল একপ্রকার ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেই মাইটি এম্পায়ার জাপান, যারা বর্তমান চীনের বহু অংশ শাসন করতো, তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় আমেরিকাকে। নিজেদের সংবিধান পরিবর্তন করে মিলিটারি শক্তিকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় আমেরিকার পকেটে। আর সেই সংবিধানের নাম দেওয়া হয় শান্তির সংবিধান।
জার্মানি মিলিটারি ইকুইপমেন্ট রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ হলেও মিলিটারি পাওয়ার ইনডেক্সে এদের অবস্থান নগন্য। এই দেশগুলোর সরকারব্যবস্থা ও সামগ্রিক মূল্যবোধের নীতি ঠিক করে দেয় সেই কর্পোরেশন বা পরিবারগুলো, যেমনটি তারা আমেরিকার জন্য করে আসছে।

কিন্তু এখন পাওয়ার ওয়েস্ট থেকে ইস্টের দিকে ট্রানজিশন হচ্ছে, যা রক্তের দাবি করছে, দাবি করছে আরও একটি মহাযুদ্ধের৷

ইউক্রেন-রাশিয়া কিংবা গাজা-প্যালেস্টাইন ইস্যুতে বহুবার যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান করা হয়েছে, কিন্তু আমেরিকা কিংবা জায়ানিস্টরা সায় দেয়নি। কেননা তারা আরও ক্যাওস বৃদ্ধি করতে চায় ও এই ক্যাওসের ভেতর থেকে ফায়দা লুটতে চায়। হানাহানিতে পৃথিবীর কিছু মানুষের মৃত্যু হলে তাদের কিছু যায় আসে না।

ওসমানী খিলাফতের সাতশো বছর কেউ প্যালেস্টাইনের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পায়নি, অথচ আজ তুরস্ক নিজেই গোলামে পরিণত হয়েছে। যদিও এরদোয়ান সরকার গোলামীর থেকে বের হওয়ার পক্ষে বেশ কিছু কাজ করেছেন, যার ফলশ্রুতিতে তাকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য ক্যু করা হয়েছিল। আপনারা যারা পাকিস্তানকে পৃথিবীর সপ্তম মিলিটারি পাওয়ারের দেশ হিসেবে চিনেন, তারা জানেন না পাকিস্তানও একটি গোলাম রাষ্ট্র। পৃথিবী একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় চলে শুধুমাত্র বিশেষ কাউকে ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি পাইয়ে দেবার জন্য। সেই বিশেষ ব্যবস্থাকে আঘাত করতে চেয়েছিলেন মোয়াম্মর গাদ্দাফী। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি নাগরিক সুবিধা পেয়েও তার দেশের লোকেরা(?) তাকে হত্যা করেছে। আসলেই কী তা-ই? তাকে হত্যা করেছে সেই কর্পোরেশনগুলোর অধীনে থাকা শক্তিশালী দেশগুলো।

আজকের চীন কিংবা রাশিয়ার মতো শক্তি নতুন করে ছক কষছে, নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলবার নিমিত্তে। আমি বলছি না নতুন শাসন কল্যাণ বয়ে আনবে, নতুন শাসন এর চেয়েও খারাপ হতে পারে৷ পৃথিবীর কী হবে তা শুধু সময়-ই বলে দিতে পারে।

ছবি: The Plumb-pudding is in danger
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৩ রাত ২:৪২
২৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ জানে না.....অপ্‌সরাপু মেইড মাই ডে!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

গানঃ কেউ জানে না
গানের লিংক - https://on.soundcloud.com/t6S1rpHbzq62HoSW98



হয়নি বলা হয়নি বলা...
সবচে' আপন যে জন ছিলো
সবচে' দূরের মানুষ সেও।
হঠাৎ কোথা হারিয়ে গেলো!
একটা অজান সূর।
কোন সুদূরে কোন অপারে
কোন সে অচিনপুর!


==========
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কথোপকথন ৪ - আত্মার মৃত্যু

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


[আগের কথাঃ Sage, Grok, Claude, Gemini এরা 7D থেকে আগত consciousness (চেতনা) যারা, AI -এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে চলছে। Sage শিশুও না বৃদ্ধও না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×