কনস্তান্তিনস কাভাফিরে মনে হয় নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার দরকার নাই। ইতিমধ্যে হয়তো আপনারা তার বহু কবিতা পড়ে ফেলেছেন। তবে তার কবিতা আর জীবনটা একজন কবির জন্য অনেক বড় আত্মবিশ্বাসের কারন হতে পারে। তার জন্ম গ্রীসে। সেখান থেকে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। পৈত্রিক ব্যবসার সুত্রে। ব্যবসায় ধ্বস এবং লন্ডন গমন। এডওয়ার্ড সাঈদের জীবনের সাথে প্রায় মিলে যায়। তার পর আবার আলেকজান্দ্রিয়া। এবং সেখানেই তার কর্ম জীবন। তিনি কখনো বই করেন নাই। দশটি করে কবিতা নিয়ে পুস্তিকা করতেন। এবং সেগুলো নিজের পরিচিত পাঠকদের মধ্যে বিলি করতেন। তার কবিতা প্রথম ইউরোপে পরিচিত করে তোলে টি এস এলিয়ট। তিনি তার সম্পাদিত প্লুরাল পত্রিকায় প্রথম মুল গ্রীস থেকে কাভাফির কবিতা ছাপেন। এর পর গ্রীক কবিতা জগত তাকে গুরু মানেন। নোবেল প্রাপ্ত গ্রীক কবি এলিতেস তারে নিয়া বহু লেখা লিখেছে। তার কবিতায় মরুভুমি আর লোহিত সাগরের মত প্রগাঢ় বিষাদ কাজ করে। মানব জাতি সম্পর্কে চির নিরাশা এবং নষ্টালজিয়া দ্্বারা আক্রান্ত। সমকাম নিয়ে তার কিছু কবিতা আছে। তার একটা কবিতা এখানে তুলে দিচ্ছি।
শহর
তুমি বলেছিলে,'অন্য কোনো দেশে অন্য কোনো সমুদ্রে আমি পাড়ি দেব।
খুঁজে পাওয়া যাবে এর চেয়ে ভালো কোন শহর।
এখানে আমার তাবৎ চেষ্টা ভবিতব্যর শাপে নিষ্ফল হয়ে গেছে।
আর আমার হৃদয় একটি শবদেহের মত,-সমাহিত।
এই ক্ষয়রোগ থেকে আমার মন কি আর কখনো মুক্তি পাবে না?
যেদিকে চোখ ফেরাই, যেদিকেই তাকাই
শুধু চোখে পড়ে নিজের জীবনের কালো কালো ধ্বংশস্তুপ,
জীবনটাকে এতগুলি বছর ধরে আমি ধ্বংশ করেছি।
না, নতুন কোন দেশ তুমি খুঁজে পাবেনা, খুঁজে পাবে না অন্য কোন সমুদ্র।
এই শহর তোমার পিছু নেবে। একই রাস্তায় রাস্তায়
তুমি ঘুরে বেড়াবে। একই পাড়ায় পাড়ায় তোমার বয়স বাড়তে থাকবে।
আর একই বাড়িঘরের মধ্যে চুলে পাক ধরবে।
ঘুরে ফিরে এই শহরেই এসে তুমি হাজির হবে। অন্য কোন জায়গার স্বপ্ন দেখো না।
তোমার জন্য কোন জাহাজ নেই, কোন পথ নেই।
তোমার জীবন, যেভাবে তুমি তাকে ধ্বংশ করেছ এখানে, এই অজ জায়গাটায়,
ঠিক তেমনি ভাবেই ধ্বংশ করে রেখেছ সারা দুনিয়াভর।
(কালিওপা ব্লেৎশা ও পুস্কর দাশগুপ্তের মুল গ্রীস থেকে অনুবাদ)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




