খোকন কায়সার মুলত নব্বই দশকের তরুন গল্পকার। এটি তার দ্্বীতিয় বই। প্রথম বইয়ের নাম 'রাজার কবিলা'। ছোট গল্পগুলো সম্ভবত আর আগের মত নাই। সময়ের সাথে কত কিছু বদলে যায়। বিশেষ করে সাহিত্যের ভাষাটা বদলায় খুব দ্রুত। কেননা সাহিত্য সবসময় কালের সাক্ষ্য দেয়। তার গোটা বইটার ভাষাটাকে আমার বলতে ইচ্ছে করে প্রলেতারিয়েত সংলাপ। আমরা আড্ডায় কিংবা অপ্রতিষ্টানিক যে ভাষাটা ব্যবহার করি। সে তার বইটা লিখেছে একেবারে সে ভাষায়। তার সাহসের প্রশংসা করতে হয়। এই বইটিতে মোট 12টি গল্প আছে। গল্পগুলোর নাম যথাক্রমে মানবতা রিলোটেড, মার্স মিশন ওয়ান, দুটি পক্ষী বিষয়ক গল্প, রপ্তানী বাণিজ্য, টেটাশ, বন্ধ্যাকাল এক, বন্ধ্যাকাল দুই, চোখে চশমা বগলে ইট, আমিন জোলা, তুলারাশির জাতক, খোজাগণ, ফেরেববাজ।[ পারমানবিক যুদ্ধের প্রসঙ্গে আমরা শেষ জমানার আদম সন্তানদের হাল হকিকত নিয়ে আলোচনায় প্রবৃত্ত হলে ইসমাইলমিয়া আমাদের দিকে প্রশ্নবাণ ছুড়ে দেন। এত যে ফাল পারতাছেন মিয়াভাইরা, মানুষের ইতিহাসটা কি- কন তো দেহি! আমাদের একজন বলে, আদম-হাওয়া। একজন বলে, মানুষের ইতিহাস হইলো, শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস। একজন বলে বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির সংগ্রাম। ইসমাইল মিয়া বলেন, এগুলানতো আগের দিনের ময়মুরুবি্বদের কথা। অহনকার ইতিহাসটা জানেন নি? আমরা মুখ চাওয়া চাওয়ি করি। ইসমাইলমিয়া স্মিত হেসে কথা শুরু করেন, তাইলে বলি শুনেন- নয়া জমানার ইতিহাস হইতাছে, ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের লড়াইয়ের ইতিহাস।] ( মানবতা রিলোটেড)। হাসতে হাসতে আরো অনেক গুরুত্ব পুর্ন কথা বলে ফেলেন খোকন কায়সার। তার গল্পের উত্তর উত্তর সমৃদ্ধি হোক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






