এমন কোন বাবা-মা কি দেখেছেন কেউ, যে তাঁর ছেলে বা মেয়ে সিগারেট খায়, এই ব্যাপারে খুশি? অন্তত খুশি না হলেও মেনে নিয়ে লোকজন কে বলে, “জানেন ভাই, আমার ছেলেটা তো বেনসন লাইটস খায়! মাশাল্লাহ, ছেলে বেশ সৌখিন। সাথে যিপ্পো লাইটারও ব্যবহার করে!”
অসম্ভব! পাবেন না।
তবে বাজী ধরে বলতে পারি, সেই বাবা-মা’দেরই বেশিরভাগকেই দেখবেন খুশি গলায় বলতে “আমার ছেলে/মেয়ে তো বি.এ.টি তে চাকরী করে, ভালই বেতন। বি.এ.টি চিনলেন না? ব্রিটিশ-এমেরিকান ট্যোবাকো, ঐযে বেনসন কোম্পানি, ওদেরই তো!”
পুরা ব্যাপারটাই একটা হচপচ কনফিউশন, ধারনা, আর সেখান থেকে সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তের ফলাফলের প্রকাশ ঘটানোর তরিকাও অদ্ভুত!
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদন্ড যেমন শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদন্ডও শুধু নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় না। তাই মেধাবী মাত্রই সরকারী আর আর্থিক অতি-স্বচ্ছল মাত্রই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, এটাও অনেকটা “সিগারেট খাওয়া খারাপ কিন্ত কোম্পানি ভাল”র মতই মানসিকতা।
বাছ-বিচার না করেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র উপর সরকারি কর (tax) বাড়িয়ে দেয়া হলো। আর এ ব্যাপারে কোথাও কোন আলোচনা-সমালোচনা নেই! সরকারের আয়ের খাতের কি এতই কমতি পড়েছে যে শিক্ষার যে অংশে সরকার দায়মুক্ত, সেখানে উল্টা কর বসাতে হচ্ছে? বরং যেখানে দায় আছে, ভর্তুকি দিতে হয়, সেখনে কর বসাতে পারবে?
পারবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন-ফি বাড়াতে?
বাস্তবিকই শিক্ষা খাত থেকে আয় দরকার হলে শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ১০% না, দেশের সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোর্স-ফি ১০ টাকা বাড়িয়ে দেখাক!
১০ টাকা এখন একটা বেনসনের চেয়েও কম মূল্যমান; কিন্ত ১০% বেশ বড় টাকার ধাক্কা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



