কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে হাইড পাক আন্ডারগ্রাউন্ড ষ্টেশনের সামনে বাবু ভাইয়ের সাথে দেখা প্রায় দুবছর পর।চিনতে একটু কষ্ট হলো একটু কিন্তু তিনি আমাকে ঠিকই চিনলেন। দুবছর আগে উনার সাথে এক রেষ্টুরেন্টে কাজ করতাম।এতদিনে তিনি আরো শুকিয়ে গেছেন।চোখে মুখে বয়সের ছাপ স্পষ্ট।
কুশলাদি বিনিময় করে দুজনে হাইড পাকের ভেতরে এক বেনেচর উপর বসলাম। উনার এক ঘন্টার কাজের ব্র্যাক চলছে আর আমারও তাড়া নেই।একে অপরের পরিবারের খবর নিতে লাগলাম। লন্ডনে উনার বড় ভাই ও ভাবী থাকেন। এটা সেটা বলতে বলতে উনার প্রেমিকা শিউলীর কথা জিজ্ঞেস করলাম। সাথে সাথেই উনার বিষন্ন মুখ আরো বিষন্ন হয়ে গেলো। চুপ করে মাটির দিকে তাকিয়ে রইলেন।
জিজ্ঞেস করলাম পুনরায়: কি হয়েছে বাবু ভাই? তার সাথে যোগাযোগ নেই?
মাথা নাড়ালেন এদিক উদিক, না নেই। আমার নিজের দোষেই আমি তাকে হারিয়েছি।
এবার তিনি বলে চললেন................
তোর সাথে যখন আমি কাজ করতাম তখন এদেশে আমি মাত্র তিন মাসের অতিথি।শিউলির সাথে ফোনে যোগাযোগ হতো প্রায় দিনই। এটাই ছিলো আমার প্রিয় মুহূর্ত। তুই কাজ ছেড়ে চলে আসার মাসদুয়ৈক পর বসের ছোট বোন এসেছিলো ম্যানচেষ্টার থেকে বেড়ানোর জন্য। এখানে বন এন্ড ব্রটাপ। নাম মেহজাবিন। দেখতেও সুন্দরী। বস আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো। এরপর থেকে মেহজাবিনের সাথে আমার সম্পক তৈরী হতে থাকে। এদিকে শিউলিকে ফোন করা কমিয়ে দিয়েছি। অবসর সময়গুলো আমার মেহজাবিনের সাথেই কাটতে লাগলো। শিউলির চিঠি জমতে লাগলো। খুলে পরার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেছি। অথচ এই শিউলির জন্য একবছর তার কলেজের সামনে চিঠি হাতে দাড়িয়ে থেকেছিলাম। সে আমাকে পাত্তাই দিতোনা। কত কষ্টে তার মন পেয়েছিলাম।আজ তারই চিঠি আমার পড়তে ই চ্ছে হচ্ছেনা।
ভাবীকে মেহজাবিনের কথা বললাম । ভাবি বললেন এই মেয়েকে বিয়ে করতে পারলে তুমি সোনার হরিণ লাল ব্রিটিশ পাসপোট পেয়ে যাবে। এ ধরনের একটা সুযোগ হাতছাড়া করোনা।
এবার বাবু ভাই থামলেন। খুব তেষ্টা পেয়েছেরে। তুই বোস আমি দুটো ড্রিংকস নিয়ে আসি।
আমি ঘোরের মধ্যে রইলাম....................
বাবু ভাইয়ের চলে যাওয়া দেখতে লাগলাম।
(চলবে..........)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


